সংবাদদাতা, উলুবেড়িয়া: মালা সিং মুড়া, রুকসানা খাতুন এবং পূর্ণিমা দোলুই— আশা সেন্টারের এই তিন কিশোরী বিশেষভাবে সক্ষম। তবে তাঁরা শারীরিক প্রতিবন্ধকতাকে কাটিয়ে জীবনে প্রতিষ্ঠা লাভ করে বিশেষভাবে সক্ষম অন্যান্যদের উৎসাহিত করার চেষ্টা করছেন। এ বছর বিশ্ব প্রতিবন্ধী দিবস উপলক্ষ্যে এই তিন কন্যার হাতে পুরস্কার তুলে দেয় রাজ্যের নারী, শিশু বিকাশ এবং সমাজকল্যাণ দপ্তর। সোমবার কলকাতার রোটারি সদনে এক অনুষ্ঠানে এই পুরস্কার প্রদান করা হয়। সেরা কর্মীর স্বীকৃতি পেয়েছেন পূর্ণিমা দোলুই, সেরা ত্রীড়াবিদের সম্মান পেয়েছেন মালা সিং মুড়া এবং রাজ্য সরকারের রোল মডেলের পুরস্কার পেয়েছেন রুকসানা খাতুন (পান্থা)। রাষ্ট্রসঙ্ঘের তত্ত্বাবধানে প্রতি বছর ৩ ডিসেম্বর তামাম দুনিয়ায় বিশ্ব প্রতিবন্ধী দিবস পালন হয়ে আসছে। মালা সিং মুড়া ৪০ শতাংশ অস্থি ও ৫০ শতাংশ মানসিক প্রতিবন্ধকতাযুক্ত। এই প্রতিবন্ধকতাকে কাটিয়ে বর্তমানে তিনি নেতাজি মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বাংলায় অনার্স করছেন। শুধু পড়াশোনা নয়, ফুটবলেও নিজের দক্ষতা চিনিয়েছেন তিনি। ঢাকায় আয়োজিত দক্ষিণ এশিয়া ইউনিফায়েড ফুটবল প্রতিযোগিতায় ভারতীয় দলে জায়গা পেয়েছেন। এছাড়াও ২০২২-’২৩ সালে একাধিক ফুটবল প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ করেছিলেন মালা। ফুটবলে অসামান্য কৃতিত্বের জন্য ২০২৩ সালে বীরাঙ্গনা এবং কন্যশ্রী পুরস্কার পান তিনি। এবার পেলেন সেরা ক্রীড়াবিদের সম্মান। পূর্ণিমা দোলুই ৯০ শতাংশ অস্থি প্রতিবন্ধকতাযুক্ত। এই প্রতিবন্ধকতাকে কাটিয়ে আশা ভবন সেন্টারে বিশেষভাবে সক্ষম শিশুদের দেখাশোনার গুরুদায়িত্ব পালন করেছেন তিনি। সেকারণেই এবার তাঁকে সেরা কর্মীর পুরস্কার দেওয়া হয়েছে। রুকসানা খাতুন মূক ও বধির। তিনি শারীরিক প্রতিবন্ধকতাকে জয় করে টেলারিংয়ে বৃত্তিমূলক প্রশিক্ষণ নিয়ে বর্তমানে একটি বেসরকারি সংস্থায় কর্মরত। তিনি নিজের হাতে তৈরি জামা-কাপড় বিক্রি করেও উপার্জন করেন। লড়াই করে রুকসানা স্বাবলম্বী হওয়ায় রাজ্য সরকার তাঁকে রোল মডেলের পুরস্কার দিয়েছে। সেন্টারের তিন কন্যা পুরস্কৃত হওয়ায় খুশি আশা ভবন সেন্টারের কর্ণধার জন মেরি বারুই ও হোম সুপারিন্টেডেন্ট অরুণিমা জাসু। তাঁদের মতে, এই তিনজন প্রমাণ করলেন, কোনও কিছুই অসাধ্য নয়।



