Bartaman Logo
৩ জুন, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

রোদের তেজ কমতেই শহরে শেষ রবিবারের প্রচারে ঝাঁজ

২৯ তারিখ দ্বিতীয় এবং শেষ দফার ভোট। আজ সন্ধ্যা ছ’টায় শেষে হচ্ছে নির্বাচনি প্রচার। এখন দক্ষিণবঙ্গ ও কলকাতা ভোটযুদ্ধে তপ্ত। তবে রবিবার আকাশ খানিক মেঘাচ্ছন্ন।

রোদের তেজ কমতেই শহরে শেষ রবিবারের প্রচারে ঝাঁজ
  • ২৭ এপ্রিল, ২০২৬ ০৪:০০

নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: ২৯ তারিখ দ্বিতীয় এবং শেষ দফার ভোট। আজ সন্ধ্যা ছ’টায় শেষে হচ্ছে নির্বাচনি প্রচার। এখন দক্ষিণবঙ্গ ও কলকাতা ভোটযুদ্ধে তপ্ত। তবে রবিবার আকাশ খানিক মেঘাচ্ছন্ন। গরম থাকলেও তা অস্বস্তিজনক ছিল না। তাই শেষ রবিবারের প্রচার জমে ওঠে। এদিন প্রচারে ঝড় তোলে রাজ্যের শাসক দল তৃণমূল। বিরোধীরাও চুটিয়ে জনসংযোগ চালিয়ে যান।

Advertisement

মানিকতলা বিধানসভা কেন্দ্রের তৃণমূল প্রার্থী শ্রেয়া পান্ডের সমর্থনে এদিন পদযাত্রা করেন অভিনেতা ও সাংসদ দেব। বিকেল ৫টা নাগাদ শুরু হয় মিছিল। মেগাস্টারকে দেখতে বিপুল জনসমাগম। অনেকে একবার দেবের হাত ছোঁয়ার জন্য ব্যাকুল হয়ে ওঠেন। কমবয়সি মহিলাদের ভিড় ছিল চোখে পড়ার মতো। মানিকতলা বিধানসভার অলিগলিতে এদিন ঘুরেছেন দেব। তাঁর সঙ্গে ছিলেন প্রার্থী শ্রেয়া। এছাড়া বেলেঘাটা বিধানসভা কেন্দ্রেও তৃণমূলের প্রচারে ছিল জোরদার চমক। কুণাল ঘোষের প্রচারে এদিন উপস্থিত ছিলেন আম আদমি পার্টির (আপ) সুপ্রিমো অরবিন্দ কেজরিওয়াল। এর পাশাপাশি বালিগঞ্জ ও রাসবিহারী বিধানসভা কেন্দ্রেও যান কেজরি। জোড়াফুল প্রার্থী শোভনদেব চট্টোপাধ্যায় ও দেবাশিস কুমারের সমর্থনে প্রচার করেন।
শেষ রবিবার সকাল থেকেই শহরজুড়ে ভোটের আমেজ। টালিগঞ্জ হোক বা যাদবপুর, শ্যামবাজার হোক চৌরঙ্গী, পাড়ায় পাড়ায় পতাকা বাঁধা অটো ঘুরে ঘুরে ‘ভোট দিন’ বলে প্রচার চালিয়েছে। অলি-গলিতে হাসিমুখে ঢুকে পড়েছেন প্রার্থীরা। সকাল থেকে শহরের আকাশে কখনও রোদ। কখনও মেঘ। ফলে টানা গরম না থাকায় সবার কষ্ট কম হয়েছে। কসবা বিধানসভা কেন্দ্রের সিপিএম প্রার্থী দীপু দাস সকালে পৌঁছে গিয়েছিলেন অভিজাত আবাসনগুলিতে। বাইপাস ঘেঁষা আরবানা আর নীলাচল আবাসনে তিনি দলীয় নেতা-কর্মীদের নিয়ে নিবিড় জনসংযোগ করেন। চায়ের কাপ হাতে আবাসিকরা জ্যোতি বসু-বুদ্ধদেব ভট্টাচার্যের স্মৃতি রোমন্থন করেন প্রার্থীর সঙ্গে।
অন্যদিকে ভিন রাজ্যের অবাঙালি নেতাদের নিয়ে এসে শহরে প্রচার চালিয়েছে বিজেপি। জনসংযোগে সারাক্ষণ চোখে পড়েছে ভিনরাজ্যের নেতাদের। প্রচারে মোদি-অমিত শাহ নির্ভরতা ছিল বেশি। কলকাতায় জনসংযোগ করতে ছুটে আসেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। বিকেলে উত্তর কলকাতায় ঠনঠনিয়া কালীমন্দিরে পুজো দেন তিনি। সে কারণে যানজট তৈরি হয়। তাও সেখানে মোদি জনসংযোগ করেন। শ্যামপুকুর ও মানিকতলা কেন্দ্রে রোড-শো করেন পদ্মশিবিরের শো-স্টপার। যাদবপুর কেন্দ্রে সকালে প্রচারে যান তৃণমূল প্রার্থী দেবব্রত মজুমদার। শ্যামপুকুর বিধানসভার বাগবাজারে সকালেই বাড়ি বাড়ি গিয়ে জনসংযোগ করেন তৃণমূল প্রার্থী শশী পাঁজা। 
অন্যদিকে টালিগঞ্জের সিপিএম প্রার্থী পার্থপ্রতিম বিশ্বাস সকালে বাঁশদ্রোণী এলাকায় প্রচার করেন। সন্ধ্যায় একাধিক মিছিল করেন। সেখানে উপস্থিত ছিলেন সিপিএম নেতা বিমান বসু, বৃন্দা কারাত, অভিনেতা সব্যসাচী চক্রবর্তী, বাদশা মৈত্র প্রমুখ। বালিগঞ্জের সিপিএম প্রার্থী আফরিন বেগম সকালে বালিগঞ্জ ফাঁড়ি এলাকায় বাড়ি বাড়ি গিয়ে প্রচার করেন। সন্ধ্যায় জনসভায় যোগ দেন। এন্টালি কেন্দ্রের সিপিএম প্রার্থী আব্দুল রউফের সমর্থনে ছাতুবাবু লেনে বক্তব্য রাখেন বৃন্দা কারাত। কাশীপুর-বেলগাছিয়ার সিপিএম প্রার্থী রাজেন্দ্র গুপ্তা পাইকপাড়া মোড়ে সমাবেশ করেন। সেখানে সিপিএম নেতা সুজন চক্রবর্তী, শতরূপ ঘোষ বক্তব্য রাখেন। ওই বিধানসভা কেন্দ্রে এদিন বিকেল চারটে নাগাদ বিশাল মিছিল করেন তৃণমূল প্রার্থী অতীন ঘোষ।

সম্পর্কিত সংবাদ