গোয়েন্দারা অ্যাকশনে নামতেই পেশা বদল স্মাগলারদের, শ্রমিকের কাজে ভিনরাজ্যে
  • ৩০ অক্টোবর, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, বর্ধমান: ‘জঞ্জাল’ সাফাই অভিযানে নেমেছে গোয়েন্দা এবং রাজ্য পুলিশ। সীমান্তেও নিরাপত্তা ব্যবস্থা কঠোর করা হয়েছে। পুলিশের অ্যাকশন মুড দেখে পেশা বদল করছে ক্যারিয়াররা। কয়েক মাস আগেও যারা টাকার বিনিময়ে জালনোট, আগ্নেয়াস্ত্র বা বারুদ বহনের কাজ করত তারাই এখন পরিযায়ী শ্রমিকের কাজের জন্য ভিনরাজ্যে পাড়ি দিচ্ছে। বেশিরভাগই কেরল বা মুম্বইয়ে রাজমিস্ত্রির জোগানদারের কাজ বেছে নিয়েছে। রাজ্যে পালাবদলের পরও যারা এরাজ্যে থেকে গিয়েছিল তাদের বেশিরভাগকেই শ্রীঘরে যেতে হয়েছে। মুর্শিদাবাদের ডোমকল, রানিনগর, বীরভূমের মুরারই, নানুর বা পূর্ব বর্ধমানের কেতুগ্রাম, মঙ্গলকোটের ক্যারিয়াররা আর কেউ পুরানো পেশায় ফিরতে চাইছে না। 

Advertisement

এক পুলিশ আধিকারিক বলেন, এসটিএফের সক্রিয়তা বাড়ানো হয়েছে। জালনোট, বারুদ বা আগ্নেয়াস্ত্রের কারবারিদের তারা চিহ্নিত করেছে। অনেকেই গ্রেপ্তার হয়ে জেল খাটছে। অন্যান্য বছর উৎসবের মরশুমে ব্যাপকভাবে জালনোট এবং আগ্নেয়াস্ত্র এরাজ্যে নিয়ে আসা হত। এবার তা হয়নি। বিভিন্ন ধরনের পিস্তল মূলত বিহারের মুঙ্গের, ভাগলপুর থেকে আসত। ওই সমস্ত এলাকায় এরাজ্যের পুলিশ গিয়ে অভিযান চালিয়েছে। মুর্শিদাবাদের সামশেরগঞ্জ বা মালদহের কালিয়াচক, বৈষ্ণবনগর সীমান্ত দিয়ে জালনোট ঢুকত। ওই সীমান্তবর্তী এলাকায় বিএসএফ নজরদারি বাড়িয়েছে। এসটিএফও ঘাঁটি গেড়ে অনেককেই গ্রেপ্তার করেছে।
ডোমকলের এক ক্যারিয়ার বলেন, তিনবার জেল খাটা হয়ে গিয়েছে। বাড়িতে দুই ছেলে এবং এক মেয়ে রয়েছে। অন্ধকার জগতে জড়িয়ে যাওয়ায় তারাও ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছিল। সেকারণে এক মাস আগেই কেরলে এসে পরিযায়ী শ্রমিকের কাজ করছি। আয় কম হলেও শান্তি রয়েছে। আমার মতো অনেকেই আর ওই ধরনের কাজ করতে চাইছে না।
আর এক পুলিশ আধিকারিক বলেন, সাত মাস আগেও বীরভূমে ডিনামাইট এবং অ্যামোনিয়াম নাইট্রেটের অবৈধ কারবার রমরমিয়ে চলত। স্থানীয় যুবকরাই ক্যারিয়ারের কাজ করত। তারা বাইকের পিছনে বস্তায় এধরনের বিস্ফোরক নিয়ে যেতে। রাজ্যে পালাবদলের পর এই কারবারও প্রায় বন্ধ হয়ে গিয়েছে। ক্যারিয়াররা অন্য কাজের সঙ্গে যুক্ত হয়েছে। এক ক্যারিয়ার বলেন, এখন পোলট্রি করছি। ক্যারিয়ারের কাজ করার সময় চিন্তায় থাকতে হত। এখন সেই ভয় নেই। নিশ্চিন্তে বাড়িতে থাকতে পারছি। 
রাজ্য পুলিশের এক শীর্ষ আধিকারিক বলেন, খোদ মুখ্যমন্ত্রী  শুভেন্দু আধিকারী এসটিএফ অফিসে গিয়ে গেয়োন্দাদের অলআউট খেলার নির্দেশ দিয়েছেন। অবৈধ কারবারিদের বিরুদ্ধে কড়া ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ পেয়ে গোয়েন্দারাও কোমর বেঁধে ময়দানে নামেন। প্রতি জেলার চোরা কারবারিদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। পুলিশকেও সক্রিয় হওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। সীমান্তের নিরাপত্তাও  আগের মতো ঢিলেঢালা নেই। বিএসএফও কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ায় ক্যারিয়াররা পেশা বদল করতে বাধ্য হয়েছে।