রবি ঠাকুরকে শ্রদ্ধা জানাতেই টয় ট্রেনের ইঞ্জিনের নাম ‘মুক্তধারা’, নেতাজির স্মৃতিবিজড়িত গিদ্দাপাহাড়ে স্টপেজ চালুর ভাবনা
  • ২২ অক্টোবর, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, শিলিগুড়ি: এবার পাহাড়ে ছুটছে ‘মুক্তধারা’! এটা কোনো ঝরনা বা নদী নয়। এটা আসলে টয় ট্রেনের ডিজেল ইঞ্জিন। তাও আবার বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের নাটক মুক্তধারার নামেই নামকরণ করেছে দার্জিলিং হিমালয়ান রেলওয়ে। কেন এমন নাম? ডিএইচআরের জাবাব, বিশ্বকবিকে শ্রদ্ধা জানাতেই এমন পদক্ষেপ। সেই সঙ্গে রাজ্য সরকারের সঙ্গে হাত মিলিয়ে নেতাজির স্মৃতিবিজরিত গিদ্দাপাহাড়কে পর্যটন মানচিত্রে তুলে ধরতে  চাইছে ডিএইচআর কর্তৃপক্ষ। 

Advertisement

দু’দিন আগেই কার্শিয়াং-মহানদী রুটে টয় ট্রেন পরিষেবা চালু করে ডিএইচআর। তারা দু’টি ইঞ্জিন দিয়ে ওই পরিষেবা শুরু করেছে। যারমধ্যে একটি ডিজেল ইঞ্জিন। সেটির নামকরণ করা হয়েছে ‘মুক্তধারা’। রবি ঠাকুরের কালজয়ী নাটক মুক্তধারা। যা বিশ্বকবি রচনা করেন ১৯২২ সালে। যন্ত্রশক্তি ব্যবহার করে ও বাঁধ দিয়ে আটকে দেওয়া হয় ঝরনার জল। ফলে চরম বেকায়দায় পড়েন ঝরনার নিম্ন অববাহিকার মানুষ। ওই বাঁধ ও যন্ত্রশক্তির বিরুদ্ধে মানুষকে লড়াই, মুক্তি ও স্বাধীনতা দেওয়ার বিষয়ই নাটকে তুলে ধরা হয়েছিল। 

ডিএইচআরের ডিরেক্টর ঋষভ চৌধুরী বলেন, বিশ্বকবিকে শ্রদ্ধা জানাতেই তাঁর নাটকের নামে ইঞ্জিনটির নামকরণ করা হয়েছে। এই ট্যুরে পাহাড়ের পাগলাঝোরা ঝরনাকে পর্যটকদের কাছে আকৃষ্ট করে তোলা হবে। 

ইউনেসকোর বিশ্ব ঐতিহ্যের স্বীকৃতি পাওয়া এই টয় ট্রেন শুধু যাতায়াতের মাধ্যম নয়। উত্তরবঙ্গের ইতিহাস, সংস্কৃতি ও পর্যটনের অন্যতম আকর্ষণ। পাহাড় ও টয় ট্রেনের সঙ্গে কবিগুরুর সম্পর্কও নতুন নয়। তা সকলেরই জানা। একাধিকবার কার্শিয়াং, মংপু ও কালিম্পং পাহাড়ে এসেছিলেন বিশ্বকবি। তাঁর বহু লেখাতেই স্থান পেয়েছে পাহাড়, প্রকৃতি, ঝরনা। এমন প্রেক্ষাপটে ইঞ্জিনটির নামকরণ ‘মুক্তধারা’ যথেষ্ট তাৎপর্যপূর্ণ। রেল জানিয়েছে, কার্শিয়াং-মহানদী রুটে টয় ট্রেনে যাত্রীরা একদিকে যেমন প্রাকৃতিক সৌন্দর্য চা বাগান, জঙ্গল, গ্রামের দৃশ্য উপভোগ করতে পারবেন, অন্যদিকে ‘মুক্তধারা’ নামের মধ্যদিয়ে স্মরণ করতে পারবেন বিশ্বকবিকে। 

এদিকে, একদা কার্শিয়াংয়ের গিদ্দাপাহাড়ে নজরবন্দি ছিলেন নেতাজি। সেই বাড়ি এখনও আছে। সেখানে নেতাজির ব্যবহার করা আসবাব, পোশাক, কিছু চিঠি রয়েছে। রেল সূত্রে জানা গিয়েছে, সংশ্লিষ্ট বাড়িটি রাজ্য সরকার সাজিয়ে তোলার পরিকল্পনা নিয়েছে। ওই পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হওয়ার পর গিদ্দাপাহাড়েও চালু হবে ‘মুক্তধারার’ স্টপ। ডিএইচআরের ডিরেক্টর বলেন, নেতাজির স্মৃতিজড়িত গিদ্দাপাহাড়কেও পর্যটকদের কাছে তুলে ধরার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। ভবিষ্যতে সেখানেও পর্যটকদের জন্য চালু করা হবে মুক্তধারার স্টপ।