Bartaman Logo
২৫ জুলাই, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

আকাদেমি তৈরির ঘোষণা, খন ও গমিরার সুদিন ফেরার আশায় উচ্ছ্বসিত শিল্পীরা

দক্ষিণ দিনাজপুরে লোকপ্রসার শিল্পের জন্য আকাদেমি গঠনের ঘোষণা। শিল্পীদের নতুন আশা, সংস্কৃতি সংরক্ষণের সুযোগ। বিস্তারিত পড়ুন।

আকাদেমি তৈরির ঘোষণা, খন ও গমিরার সুদিন ফেরার আশায় উচ্ছ্বসিত শিল্পীরা
  • ২৫ জুলাই, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

সোমেন পাল, গঙ্গারামপুর: জেলার খন ও গমিরা লোকপ্রসার শিল্পের সুদিন ফেরার আশায় উচ্ছ্বসিত শিল্পীমহল। বিধানসভায় উত্তরবঙ্গ উন্নয়নমন্ত্রী নিশীথ প্রামাণিক লোকপ্রসার শিল্পের জন্য আকাদেমি গঠনের ঘোষণা করতেই নতুন করে আশার আলো দেখছেন দক্ষিণ দিনাজপুরের শিল্পীরা। জেলার কুশমণ্ডি দীর্ঘদিন ধরেই খন ও গমিরা লোকশিল্পের আঁতুড়ঘর হিসেবে পরিচিত। তাই সম্ভাব্য আকাদেমি কুশমণ্ডিতেই গড়ে তোলার দাবি জোরাল হচ্ছে শিল্পী ও গবেষকদের মধ্যে।

Advertisement

উত্তরবঙ্গের রাজবংশী সমাজের ঐতিহ্যবাহী লোকসংগীত খন, ভাওয়াইয়া ও গমিরা শুধু বিনোদনের মাধ্যম নয়, গ্রামীণ সমাজ জীবনের ইতিহাস, সংস্কৃতি ও সামাজিক বার্তারও গুরুত্বপূর্ণ বাহক। বিশেষ করে খনপালা তাৎক্ষণিক সামাজিক ঘটনাকে কেন্দ্র করে দেশীয় ভাষায় পরিবেশিত হয়ে দীর্ঘদিন ধরে মানুষের মনোরঞ্জনের পাশাপাশি সচেতনতার কাজও করেছে। সময়ের পরিবর্তনে এই ঐতিহ্য আজ হারিয়ে যাওয়ার মুখে। বর্তমানে হাতেগোনা কয়েকজন শিল্পীই এই লোকশিল্পকে বাঁচিয়ে রেখেছেন।
সূত্রের খবর, উত্তর ও দক্ষিণ দিনাজপুর মিলিয়ে বর্তমানে পাঁচ হাজার খন শিল্পী এবং এক হাজার গমিরা শিল্পী রয়েছেন। শিল্পীদের অভিমত, আকাদেমি গড়ে উঠলে লোকপ্রসার শিল্প সংরক্ষণ ও বিকাশে নতুন দিগন্ত খুলবে। শিল্পীদের সরকারি পরিচয়পত্র, উৎসাহ ভাতা, নিয়মিত প্রশিক্ষণ, সরকারি অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণের সুযোগ এবং বিভিন্ন সরকারি প্রকল্পের প্রচারে তাঁদের যুক্ত করার মতো উদ্যোগ নেওয়া সম্ভব হবে। একই সঙ্গে নতুন প্রজন্মকে এই প্রাচীন শিল্পের সঙ্গে পরিচিত করা এবং নিয়মিত মঞ্চের ব্যবস্থা করাও সহজ হবে। জানা গিয়েছে, ২০১৬ সালে তৎকালীন তৃণমূল সরকার তথ্য ও সংস্কৃতি দফতরের মাধ্যমে সীমিত সংখ্যক শিল্পীকে পরিচয়পত্র ও উৎসাহভাতা দিয়েছিল। অভিযোগ, জেলার অধিকাংশ প্রকৃত লোকশিল্পী সেই সুবিধা থেকে বঞ্চিত হন। দক্ষিণ দিনাজপুরে খন গানের অ্যাকাডেমি গড়ে তোলার দাবিতে সরব হয়েছেন গবেষক ও শিল্পীরা। 
কুশমণ্ডির খন গবেষক সুদেব সরকার বলেন, উত্তরবঙ্গে দুই দিনাজপুরেই খন গানের চর্চা সবচেয়ে বেশি। তাই কুশমণ্ডিতেই খন আকাদেমি হওয়া উচিত। আকাদেমি হলে নতুন প্রজন্ম এই লোকশিল্পের সঙ্গে পরিচিত হবে। প্রবীণ শিল্পীদের প্রশিক্ষক হিসেবে যুক্ত করা এবং সরকারি স্বীকৃতি দিলে উত্তরবঙ্গের এই ঐতিহ্যবাহী শিল্প আবারও রাজ্য ছাপিয়ে দেশজুড়ে পরিচিতি পাবে। কুশমণ্ডির খন শিল্পী বলরাম রায় বলেন, আমাদের খনপালা গানের দল থাকলেও তৃণমূল আমলে সরকারি অনুষ্ঠানে ডাক পাইনি। আমাদের পরিচয়পত্রও নেই। প্রকৃত শিল্পীদের বাদ দিয়ে অনেকেই সুযোগ পেয়েছেন। যোগ্য শিল্পীদের নিয়ে আকাদেমি গড়ে উঠলে তবেই এই প্রাচীন লোকশিল্প নতুন করে বাঁচবে এবং মর্যাদা ফিরে পাবে। 

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ