Bartaman Logo
১৬ জুলাই, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

ছোটোদের জন্য রথ তৈরি করে বাড়তি রোজগার করেন শিল্পীরা

রামপুরহাটের শিল্পীরা রথযাত্রার জন্য বিশেষ কাঠের রথ তৈরি করছেন। বাড়তি আয় ও আনন্দের উপলক্ষ হয়ে দাঁড়িয়েছে এই উৎসব। বিস্তারিত পড়ুন।

ছোটোদের জন্য রথ তৈরি করে বাড়তি রোজগার করেন শিল্পীরা
  • ১৬ জুলাই, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

সংবাদাতা, রামপুরহাট: আজ পবিত্র রথযাত্রা। আপামর সনাতন ধর্মাবলম্বীদের অন্যতম বড় উৎসব জগন্নাথ দেবের রথযাত্রা। স্নানযাত্রার পর থেকেই শুরু হয়ে গিয়েছিল দিন গোনা। অগণিত ভক্তের জয়ধ্বনি আর হরিনাম সংকীর্তনের মধ্য দিয়ে আজ রাজপথে নামবেন মহাপ্রভু জগন্নাথ, বলরাম ও সুভদ্রা। রথের রশিতে টান দেবে আমজনতা। আর এই উৎসবকে কেন্দ্র করেই প্রতি বছরের মতো এবারও আনন্দের হাওয়া রামপুরহাটের কাঠশিল্পীদের ঘরে। মহাপ্রভুর এই রথযাত্রাকে কেন্দ্র করেই প্রতি বছর বাড়তি আয়ের মুখ দেখেন রামপুরহাট সংলগ্ন এলাকার বহু শিল্পী। 

Advertisement

বছরের অন্য সময়ে কাঠের নানাবিধ আসবাবপত্র ও সাধারণ ফার্নিচার তৈরির কাজ করলেও রথযাত্রার আগে এক মাস তাঁদের কাছে এক বড় সুযোগ নিয়ে আসে। ছোটদের টানার জন্য খেলনা রথ থেকে শুরু করে বিভিন্ন গৃহস্থের বাড়ি, পাড়ার ক্লাব কিংবা বারোয়ারি পুজোর জন্য মাঝারি ও বড় মাপের কাঠের রথ তৈরি করেন এখানকার কাঠশিল্পীরা। কাঠে ছেনি-হাতুড়ির নিখুঁত নকশায় জগন্নাথদেবের রথ তৈরি করেন।
শিল্পীদের মতে, কাঠের সাধারণ খাট, আলমারি বা ফার্নিচার তো সারা বছরই তৈরি হয়। কিন্তু ভগবানের রথ তৈরি করার সুযোগ বছরে মাত্র একবারই আসে। নিজের হাতে তৈরি সেই রথেই চড়ে স্বয়ং জগতপিতা জগন্নাথ, বলরাম ও সুভদ্রা রাজপথ আলো করে নগর পরিক্রমা করবেন, এই ভাবনাটাই শিল্পীদের মনে আনন্দ ও গর্বের অনুভূতি এনে দেয়। সেইসঙ্গে রথযাত্রার এই মরশুমের জন্য তাঁরা অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করে থাকেন। কারণ, এইসময়ে রথ বিক্রির মাধ্যমে তাঁদের ঘরে বাড়তি রোজগার হয়।
রামপুরহাটের কামারপট্টি এলাকায় বেশ কয়েকটি কাঠের আসবাবপত্র তৈরির দোকান রয়েছে। যেখানে শহর ছাড়াও গ্রামের অনেকে কাজ করেন। শিল্পী সুকুমার শর্মা, মোহনলাল শর্মারা বলেন, নিম, শাল বা আম কাঠ দিয়ে বিভিন্ন সাইজের রথ তৈরি করা হয়। কেউ সাধারণ কাঠের রঙের রথ পছন্দ করেন, আবার কেউ চান খোদাই করা নকশায় জমকালো রঙের কাজ। ক্রেতাদের চাহিদা ও বাজেট অনুযায়ী আমরা রথ তৈরি করি। ছোটরাও যাতে নিরাশ না হন সেজন্য ন্যূনতম একশো টাকা দামেরও রথ তৈরি করি। এক মাস আগে থেকেই রথ বানাতে শুরু করি। রথযাত্রার আগেই সব বিক্রি হয়ে যায়। তখন সব ক্লান্তি দূর হয়ে যায়। শিল্পীরা জানান, বাজারদরের কারণে কাঠের দাম বাড়লেও মানুষের উৎসাহে খামতি নেই।
আজকের এই বিশেষ দিনে এই কারিগরদের তৈরি সেই সমস্ত সুসজ্জিত রথে চেপেই জগন্নাথদেব ভাই ও বোনকে নিয়ে রামপুরহাটের রাজপথ থেকে সংলগ্ন বিভিন্ন গ্রাম প্রদক্ষিণ করবেন। নিজের হাতে তৈরি রথে স্বয়ং ভগবান চড়ে নগর পরিক্রমা করছেন এই দৃশ্য দেখার জন্য অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছেন শিল্পীরাও। বাড়তি উপার্জনের পাশাপাশি আনন্দ পান এসব শিল্পীরা। 

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ