নয়াদিল্লি: পড়ুয়ারা জবাবদিহি ও শিক্ষা ব্যবস্থায় সংস্কারের দাবি জানিয়েছে। কিন্তু বর্তমান সরকার তাদের এই সাহসের জবাবে ‘কাপুরুষতা ও উদ্দেশ্যহীন নিষ্ঠুরতা’ দেখিয়েছে। তাদেরকে ভবিষ্যতের উত্তরাধিকারী হিসাবে নয়, বরং দেশের শত্রু হিসাবে গণ্য করেছে। শুক্রবার এভাবেই নরেন্দ্র মোদি সরকারের বিরুদ্ধে আক্রমণ শানালেন কংগ্রেস সংসদীয় দলের চেয়ারপার্সন সোনিয়া গান্ধী। তাঁর কটাক্ষ, মোদি সরকারের ভাঁওতাবাজি ধরে ফেলেছে দেশের ছাত্রছাত্রীরা। প্রাক্তন কংগ্রেস সভানেত্রীর অভিযোগ, কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের নির্দেশেই ছাত্রছাত্রীদের উপর পেলেট গান ব্যবহার করেছে দিল্লি পুলিশ।
সোনিয়া জানান, ভারতের শিক্ষাব্যবস্থার অবক্ষয়ের জন্য দায়ী বর্তমান সরকার। শিক্ষার্থীদের পাশে দাঁড়ানো এবং তাদের ভবিষ্যৎ সুরক্ষিত করা নৈতিক, রাজনৈতিক ও সাংবিধানিক কর্তব্য। ‘দ্য হিন্দু’ পত্রিকায় প্রকাশিত ‘শিক্ষা ব্যবস্থার পতন, তরুণ ভারতের মানসিক আঘাত’ শীর্ষক প্রবন্ধে সোনিয়ার দাবি, আজকের হতাশাজনক শিক্ষাব্যবস্থায় শুধুই নিরাশার ছাপ। মোদি সরকার চিরাচরিত ঔদ্ধত্য ছেড়ে বেরিয়ে আসতে অপারগ। জবাবদিহি বা গঠনমূলক পদক্ষেপে বিন্দুমাত্র আগ্রহ নেই। পরস্পর সম্পর্কযুক্ত এই বিষয়গুলির স্বাভাবিক পরিণতি হল ছাত্র বিক্ষোভ। কংগ্রেস নেত্রীর দাবি, কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সরাসরি নির্দেশে বিক্ষোভকারীদের উপর পুলিশের ‘নিষ্ঠুরতা’ এই সরকারের আমলে মোটেই নজিরবিহীন নয়। ২০২০ সালে নাগরিকত্ব (সংশোধন) আইন ও জাতীয় নাগরিক পঞ্জি বিরোধী বিক্ষোভের সময় সশস্ত্র পুলিশ ও আধাসামরিক বাহিনী কীভাবে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসগুলিতে তাণ্ডব চালিয়েছিল, তা আমাদের সকলেরই মনে আছে।
দিল্লিতে ছাত্রছাত্রীদের চলতি বিক্ষোভে পুলিশি অভিযানের বিরুদ্ধেও সুর চড়িয়েছে সোনিয়া। তাঁর তোপ, তরুণ-তরুণীদের শরীর পেলেট গুলিতে ক্ষতবিক্ষত হওয়ার মর্মান্তিক দৃশ্য দেখেছে দেশ। নিঃসন্দেহে এই পেলেট ব্যবহারের অনুমোদন দিয়েছেন স্বয়ং অমিত শাহ। শুধু সরকার এবং তার হাতের পুতুল কিছু গণমাধ্যমই প্রতিবাদের এই স্বতঃস্ফূর্ততার জোয়ার নিয়ে মনগড়া গল্প বানাচ্ছে।