


নয়াদিল্লি: ‘সকলের নজরদারির অভাবের জন্যই হামলা চালাতে পেরেছে জঙ্গিরা।’ পহেলগাঁওয়ে পর্যটকদের উপর জঙ্গি হামলার পরে এই ভাষাতেই সমাজ মাধ্যমে সমালোচনা করেছিল চরবৃত্তির অভিযোগে ধৃত ভ্লগার জ্যোতিরানি মালহোত্রা। জ্যোতির গ্রেপ্তারির পরই তার একাধিক ভিডিও নিয়ে চর্চা শুরু হয়েছে। তার মধ্যে রয়েছে পহেলগাঁও হামলার পরে ইনস্টাগ্রামে আপলোড করা একটি ভিডিও। তাতে জ্যোতিকে বলতে শোনা গিয়েছে, ‘শুধু সরকার নয়, এই হামলার দায়িত্ব ওখানে (পহেলগাঁও) ঘুরতে যাওয়া প্রত্যেককে নিতে হবে। জম্মু ও কাশ্মীরের সব জায়গায় কড়া নিরাপত্তা রয়েছে। প্রতিটি কোণে সেনা ও পুলিসকর্মীরা থাকেন। তারপরেও যদি এমন ঘটনা ঘটে থাকে, তাহলে ধরে নিতে হবে, কোথাও কোনও গাফিলতি ছিল।’ কাশ্মীরের কিছু মানুষই জঙ্গিদের সাহায্য করেছে জানিয়ে বিস্ময়ও প্রকাশ করে ধৃত ভ্লগার। জ্যোতির সঙ্গে পাকিস্তান যোগ নিয়ে তদন্তে উঠে এসেছে, পহেলগাঁও হামলার কয়েকদিন আগেই সেখানে গিয়েছিল জ্যোতি। বৈসরণ ভ্যালিতেও গিয়েছিল সে। তার মাধ্যমেই জঙ্গিরা হামলা স্থলের নকশা পেয়েছিল বলে অনুমান করছেন তদন্তকারীরা। আর তারপরেই জল্পনা ছড়িয়েছে, তাহলে কি ইচ্ছাকৃতভাবে নজর ঘোরাতেই ঘটনার পর নিরাপত্তা ব্যবস্থার সমালোচনা করে ভিডিও আপলোড করেছিল জ্যোতি?
এদিকে, সোমবারও জ্যোতিকে জেরা করেছে জাতীয় তদন্তকারী সংস্থা (এনআইএ) ও হরিয়ানার হিসার পুলিস। জেরার সময় তার মধ্যে কোনও অনুশোচনা দেখা যায়নি। কোনও ভুল করেছে বলেও সে স্বীকার করেনি। জেরায় জ্যোতি জানিয়েছে, নিজের ভিডিওতে সে নিজের মত প্রকাশ করেছে। পুলিস সূত্রে খবর, পহেলগাঁও হামলার পর পাক হাইকমিশনের বহিষ্কৃত কর্মী দানিশের সঙ্গে কী বিষয়ে কথা হয়েছে, জ্যোতির বিদেশ ভ্রমণের টাকা দানিশই জোগাত কি না, ভারতের সীমান্ত এলাকা ও ধর্মীয়স্থানে ভিডি০ও তুলেছে কি না, দানিশের সঙ্গে জ্যোতির সম্পর্ক কতট গভীর—এই সব প্রশ্নের উত্তর খুঁজছেন তদন্তকারীরা। হিসার পুলিস জানিয়েছে, রবিবার এসটিএফ শিখ গুরুদ্বার কমিটির কর্মী হরকিরত সিং নামে এক ব্যক্তিকে আটক করেছিল, জেরার পরে তাকে ছেড়ে দেওয়া হয়। হরকিরতের ফোন ফরেন্সিক পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়েছে। পুলিস সূত্রে জানা গিয়েছে, ২০২৩ সালে বৈশাখী উত্সব চলাকালীন কর্তারপুর সাহিবের মতো পাকিস্তানে অবস্থিত শিখ ধর্মস্থানগুলিতে গিয়েছিল জ্যোতি। মূলত তীর্থযাত্রী ও ভ্লগিংয়ের জন্যই পাকিস্তানে গিয়েছিল সে। তখনই দানিশের সঙ্গে পরিচয় হত জ্যোতির। ভারতীয়দের পাকিস্তানে যাওয়া ও ভিসার যাবতীয় ব্যবস্থা করত এই হরকিরত। পুলিস সূত্রে খবর, ২০২৪ সালে বৈশাখী উত্সবের সময় ফের পাকিস্তানে যায় জ্যোতি। কিন্তু সেবার ভিসার প্রাথমিক মেয়াদ পেরিয়ে যাওয়ার এক মাস পরেও সেদেশে থেকে যায় সে। ভিসার মেয়াদ বৃদ্ধির জন্য হরকিরতের মাধ্যমেই হাইকমিশনের কর্মী দানিশের সঙ্গে জ্যোতির যোগাযোগ হয় বলে অনুমান পুলিসের। ভিসার মেয়াদ বৃদ্ধির বদলে নিজের চ্যানেলে পাকিস্তানের নাগরিকদের আতিথেয়তা, পরিকাঠামো ও সংস্কৃতির প্রশংসা করতে শুরু করে জ্যোতি। জনমানসে পাকিস্তানের ভাবমূর্তি ঠিক করতেই তরুণী ভ্লগারকে বেছে নিয়েছিল দানিশ। এরপরই আইএসআই জ্যোতিকে চরবৃত্তির কাজে লাগানোর পরিকল্পনা করে বলে মনে করা হচ্ছে।
অন্যদিকে, জ্যোতির বাবা হরিশ মালহোত্রা সোমবার জানিয়েছেন, তিনি মেয়ের পাকিস্তান ভ্রমণ সম্পর্কে কিছুই জানতেন না। তিনি জানান, মেয়ে তাঁকে দিল্লি যাওয়ার কথা বলেছিল। অন্য কোথাও জ্যোতি গিয়েছিল কি না, সেই ব্যাপারে তিনি কিছুই জানেন না।