নিজস্ব প্রতিনিধি, বিধাননগর: গার্ডেনরিচ থেকে তারাতলা—কোথাও বহুতল ভেঙে পড়ে একাধিক প্রাণহানি, কোথাও নির্মীয়মাণ গোডাউনের ছাদ ধসে গিয়ে বহু শ্রমিকের মৃত্যু। দু’বছরের মধ্যে দু’টি বড়ো দুর্ঘটনা কলকাতায়। আর এই দু’বছরে বিধাননগর পুরসভা এলাকায় প্রায় ২০০ বেআইনি নির্মাণ চিহ্নিত করা হয়েছে। প্রায় পৌনে দু’শোটি ক্ষেত্রে নির্মাণে স্টপ অর্ডারও দেওয়া হয়েছে। প্রতিটি নির্মাণের বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ করা হয়েছে। ভেঙে ফলা হয়েছে একাধিক বিল্ডিংও। তবে এখনও বেশিরভাগ বেআইনি নির্মাণ অক্ষত। এবার কি তাহলে কড়া পদক্ষেপ? বিধাননগর পুরসভার দাবি, পর্যায়ক্রমে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। বেশ কিছু নির্মাণ নিয়ে আদালতে মামলা চলছে। ফলে জটিলতা রয়েছে। মামলা মিটলেই পরবর্তী পদক্ষেপ করা হবে।
২০২৪ সালে গার্ডেনরিচে নির্মীয়মাণ বহুতল ভেঙে ১৩ জনের মৃত্যু হয়েছিল। সদ্য তারাতলায় নির্মীয়মাণ গোডাউন ভেঙে মৃত্যু হয়েছে ১৬ জনের। তারাতলা-কাণ্ডের পর ফের বেআইনি নির্মাণের বিরুদ্ধে প্রশাসনের তৎপরতা নজরে আসছে। এমনকি, উদ্ভুত পরিস্থিতিতে সমস্ত ‘জি প্লাস ফাইভ’ বিল্ডিংয়ের নির্মাণকাজ বন্ধ রাখতে বলা হয়েছে। সরেজমিনে হাল খতিয়ে দেখার পরই পরবর্তী কাজ শুরু হবে। পুরসভা সূত্রে জানা গিয়েছে, গার্ডেনরিচ-কাণ্ডের পর বেআইনি নির্মাণে নজরদারির জন্য বিধাননগর পুরসভার ৬টি বরো এলাকায় ৬টি বিশেষ কমিটি তৈরি করা হয়েছিল। প্রতিটি টিমের নেতৃত্বে ছিলেন একজন করে সাব অ্যাসিস্ট্যান্ট ইঞ্জিনিয়ার। সেই সময় প্রায় ১৭৪টি বেআইনি নির্মাণ চিহ্নিত করা হয়েছিল। সবক’টি নির্মাণের ক্ষেত্রেই ‘স্টপ অর্ডার’ দেয় পুরসভা। এমনকি, পরবর্তী সময়ে আইনি পদক্ষেপ করাও শুরু হয়। ৩৫টির বেশি এফআইআর এবং ৪০টির বেশি জেনারেল ডায়েরি করা হয়েছিল। তারপর আরও কিছু বেআইনি নির্মাণ চিহ্নিত হয়েছে। সব মিলিয়ে সংখ্যাটা ২০০-র কাছাকাছি।
পুরসভা সূত্রে জানা গিয়েছে, বেআইনি নির্মাণ চিহ্নিতকরণের কাজ জারি রয়েছে। যে ২০০টি অবৈধ নির্মাণ চিহ্নিত হয়ে রয়েছে, তার মধ্যে বেশ কিছু ইতিমধ্যে ভেঙে ফেলা হয়েছে। সম্প্রতি পুরসভার ১৯ নম্বর ওয়ার্ডে একটি দেড়তলা বেআইনি নির্মাণ ভেঙে ফেলা হয়। পুরো বিল্ডিং ভাঙার জন্য প্রচুর টাকার প্রয়োজন। এত সংখ্যক বিল্ডিং ভাঙতে গেলে কয়েক কোটি টাকা দরকার। তাই বিল্ডিংয়ের কেবল ছাদের অংশ ভাঙা হচ্ছে। একাধিক বহুতল নিয়ে আদালতে মামলা চলায় কোনো পদক্ষেপ করা যাচ্ছে না। এছাড়াও, অনেক বহুতলে লোকজন রীতিমতো বসবাস শুরু করে দিয়েছেন। তাঁরা টাকাপয়সা দিয়েই ফ্ল্যাট কিনেছিলেন। এখন তাঁদের কীভাবে সরানো হবে, তারপর ওই বিল্ডিংয়ের বিরুদ্ধে কীভাবে পদক্ষেপ করা সম্ভব, খতিয়ে দেখছে পুর কর্তৃপক্ষ।
পুরসভার দাবি, বেআইনি নির্মাণ বরদাস্ত করা হবে না। নিয়মিত নজরদারি চলছে, যাতে নতুন করে কোথাও কোনো ধরনের অবৈধ নির্মাণ গজিয়ে না ওঠে। আইনি জট কাটিয়ে চিহ্নিত অবৈধ নির্মাণগুলির বিরুদ্ধে শীঘ্রই কড়া ব্যবস্থা নেওয়া হবে।