Bartaman Logo
৯ জুন, ২০২৬

সামাজিক সুরক্ষা পাচ্ছেন? ই-পোর্টালে নথিভুক্তিতে আজব প্রশ্ন গিগ কর্মীদের

দেশের অসংগঠিত ক্ষেত্রের শ্রমিক-কর্মচারীদের সামাজিক সুরক্ষা পরিষেবার আওতায় আনতে ২০২১ সালের ২৬ আগস্ট ই-শ্রম পোর্টাল চালু করেছিল শ্রমমন্ত্রক।

সামাজিক সুরক্ষা পাচ্ছেন? ই-পোর্টালে নথিভুক্তিতে আজব প্রশ্ন গিগ কর্মীদের
  • ৩ জানুয়ারি, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, নয়াদিল্লি: দেশের অসংগঠিত ক্ষেত্রের শ্রমিক-কর্মচারীদের সামাজিক সুরক্ষা পরিষেবার আওতায় আনতে ২০২১ সালের ২৬ আগস্ট ই-শ্রম পোর্টাল চালু করেছিল শ্রমমন্ত্রক। সেইসময় তৎকালীন কেন্দ্রীয় শ্রমমন্ত্রী ভূপেন্দ্র যাদব যুক্তি দিয়েছিলেন, পোর্টালে দেশের সমস্ত অসংগঠিত ক্ষেত্রের শ্রমিক-কর্মচারীর নাম নথিভুক্ত থাকলে সামাজিক সুরক্ষা ছাড়াও একাধিক পরিষেবা তাঁদের কাছে পৌঁছে দেওয়া সম্ভব হবে। যদিও ওই পোর্টালে এতদিন ‘গিগ’, অর্থাৎ, অনলাইন ডেলিভারি পরিষেবার সঙ্গে যুক্ত কর্মীদের ‘প্রবেশাধিকার’ ছিল না। এবার ই-শ্রম পোর্টালে যুক্ত হয়েছেন ‘প্ল্যাটফর্ম’ কর্মীরাও। অর্থাৎ, শুধুমাত্রই খাবার কিংবা অন্যান্য পণ্য সরবরাহকারী সংস্থার ডেলিভারি কর্মীরাই নন। অ্যাপ ভিত্তিক ক্যাব পরিষেবার সঙ্গে যুক্ত মানুষও এতে নাম নথিভুক্ত করাতে পারছেন। কিন্তু এই পদক্ষেপ করতে গিয়েই এবার বিতর্কের জালে জড়িয়ে গিয়েছে শ্রমমন্ত্রক। অভিযোগ, ই-শ্রম পোর্টালে ‘গিগ’ কর্মীদের নথিভুক্তিকরণের সময় জানতে চাওয়া হচ্ছে, তাঁরা ইপিএফ এবং ইএসআইয়ের মতো সামাজিক সুরক্ষা ও স্বাস্থ্যবিমা পরিষেবা পাচ্ছেন কি না! অথচ এহেন ‘গিগ’ এবং ‘প্ল্যাটফর্ম’ কর্মীরা সামাজিক সুরক্ষা পরিষেবার বাইরেই রয়েছেন। এমনকী গত ২১ নভেম্বর দেশব্যাপী শ্রম কোড আইন কার্যকর করে কেন্দ্র নিজেই জানিয়েছে, এবার থেকে ‘গিগ’ কর্মীদের সামাজিক সুরক্ষা পরিষেবার বিষয়টি সুনিশ্চিত করা হচ্ছে। যদিও তা মানতে নারাজ শ্রমিক সংগঠনগুলি। কিন্তু যেখানে কেন্দ্র নিজেই ঘুরিয়ে স্বীকার করেছে, ‘গিগ’ কর্মীদের এতদিন কোনও সামাজিক সুরক্ষা পরিষেবা ছিল না, সেখানে নাম নথিভুক্তিকরণের সময় কেন তাঁদের ‘অপ্রাসঙ্গিক’ প্রশ্ন করা হচ্ছে? যাবতীয় বিতর্কে অবশ্য মুখে কুলুপ এঁটেছে শ্রমমন্ত্রক। যদিও মন্ত্রকের শীর্ষ সূত্রে ব্যাখ্যা দেওয়া হয়েছে, পুরো বিষয় সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়ার জন্যই এমন বিকল্প চালু করা হয়েছে। তাছাড়া পরবর্তী ক্ষেত্রে যাঁরা নাম নথিভুক্ত করাবেন, তাঁরা সামাজিক সুরক্ষা পাচ্ছেন কি না, সেটিও নিশ্চিত হয়ে যাবে। উল্লেখ্য, ই-শ্রম পোর্টালে নাম নথিভুক্তিকরণের জন্য আধার নম্বর, প্যান নম্বর, আধার সংযুক্ত মোবাইল নম্বর প্রয়োজন। বয়স হতে হবে ১৬ থেকে ৬০ বছরের মধ্যে। শ্রমমন্ত্রক জানিয়েছে, ২ জানুয়ারি পর্যন্ত ই-শ্রম পোর্টালে সার্বিকভাবে নাম নথিভুক্ত হয়েছে ৩১ কোটি ৪৪ লক্ষ ৫২ হাজার ৯২ জনের। নাম নথিভুক্তিকরণের ক্ষেত্রে প্রথম তিনটি রাজ্য হল উত্তরপ্রদেশ, বিহার এবং পশ্চিমবঙ্গ। 

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ