Bartaman Logo
২৭ মে, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

আর জি কর কাণ্ডের জের, দেহ ময়নাতদন্তে পাঠানোর সময় বাধ্যতামূলক ‘বডি চালান’

আর জি কর কাণ্ডের জের, দেহ ময়নাতদন্তে পাঠানোর সময় বাধ্যতামূলক ‘বডি চালান’
  • ২৫ নভেম্বর, ২০২৪ ০০:০০
নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: আর জি কর হাসপাতালে তরুণী চিকিৎসকের খুন ও ধর্ষণের ঘটনায় ‘বডি চালান’ ছাড়াই কীভাবে দেহ ময়নাতদন্তে  গেল, তা নিয়ে প্রশ্ন তোলে সুপ্রিম কোর্ট। তা নিয়ে রীতিমতো বিপাকে পড়তে হয় রাজ্যকে। আইনজীবী মহলেও নানা প্রশ্ন উঠতে শুরু করে।  তাই ভবিষ্যতে এই ধরনের বিতর্ক দূরে রাখতে ‘বডি চালান’ বাধ্যতামূলক করল লালবাজার। এই নির্দেশিকা সমস্ত থানাকে পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে বলে খবর।
Advertisement
আর জি কর মামলায় ৯ সেপ্টেম্বরের শুনানিতে সুপ্রিম কোর্ট জানতে চেয়েছিল, দেহ ময়নাতদন্তের পাঠানোর চালান কোথায়? ওই চালান থেকে জানা যায়, লাশকাটা ঘরে আসা দেহের কোথায় কোথায় আঘাত রয়েছে, দেহ কোথায় পাওয়া গিয়েছে, বডি কতদূর থেকে ময়নাতদন্তের জন্য আনা হল, কোন চিকিৎসক ‘ইনকোয়েস্ট’ করেছেন ইত্যাদি তথ্য। সর্বোচ্চ আদালতে রাজ্য জানায়, এই ধরনের কোনও চালান কলকাতা পুলিসের নেই। ফর্ম ৫৩৭১ ব্যবহার করা হয় না ১৯৯৭ সাল থেকেই। সব মিলিয়ে রীতিমতো বিপাকে পড়ে লালবাজার। প্রশাসনের অন্দরে প্রশ্ন ওঠে, রাজ্য পুলিস এই ফর্ম ব্যবহার করলে কলকাতা পুলিসের সমস্যা কোথায়? রিক্যুইজিশন স্লিপের মতো হাতে লেখা কাগজ কেন দেওয়া হচ্ছে? এই ফর্ম না থাকায় অনেকক্ষেত্রে ফাঁক থেকে যাচ্ছে। এই চালান ছাড়া ময়নাতদন্তকারী চিকিৎসক কীভাবে দেহ নিচ্ছেন, সেই প্রশ্নও ওঠে। মনোজ ভার্মা কলকাতা পুলিসের কমিশনার হয়ে আসার পর বিষয়টি তাঁর নজরে আসে। তিনি খোঁজ নিয়ে জানতে পারেন, কলকাতা পুলিসের থানাগুলি  চালান না দিয়েই দেহ ময়নাতদন্ত করাচ্ছে। বিতর্ক থামাতে তিনি ‘বডি চালান’ চালু করার সিদ্ধান্ত নেন। এ সংক্রান্ত একটি ফর্ম সমস্ত থানায় পাঠানো হয়েছে। প্রাথমিকভাবে মৃত্যুর কারণ কী জানা যাচ্ছে, কোথায় কোথায় আঘাত রয়েছে, কোন পুলিস অফিসার দেহ শনাক্ত করলেন, দেহের সঙ্গে কী কী পাঠানো হল—এরকম একধিক বিষয় ফর্মে উল্লেখ করতে হবে। তদন্তকারী অফিসার এই ফর্ম নিয়ে হাসপাতালে যাবেন।  সেখানকার ডাক্তার সবকিছু খতিয়ে দেখে সেটি ‘ফিল-আপ’ করবেন। যদি থানাগুলি এই নিয়ম না মেনে দেহ ময়নাতদন্তের জন্য পাঠায়, সেক্ষেত্রে কড়া ব্যবস্থা গ্রহণের ইঙ্গিতও মিলেছে পুলিসের শীর্ষ মহল থেকে। 
সম্পর্কিত সংবাদ