


নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: দেশের বিভিন্ন প্রাইভেট মেডিক্যাল কলেজকে অনুমোদন পাইয়ে দেওয়ার প্রায় হাজার কোটি টাকার দুর্নীতির তদন্ত করছে সিবিআই। এই পরিস্থিতিতে ভাবমূর্তি স্বচ্ছ করতে চলতি শিক্ষাবর্ষে বিভিন্ন মেডিক্যাল কলেজের আসন বৃদ্ধি এবং নতুন পাঠ্যক্রম চালুর আবেদন বাতিল করে দিল এনএমসি। কর্ণাটকের যে প্রাইভেট মেডিক্যাল কলেজের বিরুদ্ধে মে মাসে ঘুষ কাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগ উঠেছিল, সেখানকার ছাত্রছাত্রী ভর্তির জন্য অনুমোদন নবীকরণও বাতিল করেছে তারা। তারা আরও জানিয়েছে, এই জাতীয় অভিযোগ কোনও মেডিক্যাল কলেজ বা ব্যক্তির বিরুদ্ধে উঠলে আর্থিক জরিমানা করা, নতুন পাঠ্যক্রমের আবেদন খারিজ করে দেওয়া, ছাত্রছাত্রী ভর্তি কমিয়ে দেওয়া, পরিদর্শকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার সুপারিশ করাসহ একাধিক শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেবে তারা। যদিও এনএমসি’র এইসব সিদ্ধান্তকে স্রেফ ‘আই ওয়াশ’ বলেই মনে করছেন মেডিক্যাল শিক্ষামহলের একাংশ।
প্রসঙ্গত, এনএমসি এবং তার ‘গুরুঠাকুর’ কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রকের অফিসাররে একাংশের বিরুদ্ধেই দেশজুড়ে হাজার কোটি টাকার বেশি ঘুষ কাণ্ডে জড়িত থাকা অভিযোগে ৩৬ জনের নামে সম্প্রতি এফআইআর হয়েছে। ডাক্তার ও অফিসারদের বিরুদ্ধে হাওলা অপারেটরদের দিয়ে টাকা পাঠানোর মারাত্মক অভিযোগ ওঠে। অভিযোগ, কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রকের অফিসার-কর্মীদের একটি চক্র বিভিন্ন প্রাইভেট মেডিক্যাল কলেজ সংক্রান্ত অফিসের গোপনীয় ফাইল এবং তথ্যের ছবি কম্পিউটার থেকে তুলে বেশকিছু প্রাইভেট কলেজের কর্তাদের জানিয়ে দিত। তারা বিনিময়ে নিত লক্ষ লক্ষ টাকা ঘুষ। অন্যদিকে, মোট টাকার ঘুষের বিনিময়ে বিভিন্ন প্রাইভেট মেডিক্যাল কলেজের হয়ে পজিটিভ ইনসপেকশন রিপোর্ট দিতেন অভিযুক্ত পরিদর্শকরা। মে মাসে মুর্শিদাবাদ মেডিক্যাল কলেজের অ্যানাটমির তৎকালীন বিভাগীয় প্রধান তথা এনএমসি’র পরিদর্শক ডাঃ তপনকুমার জানাকে গ্রেপ্তারির পর জুনে ফের একই অভিযোগে দেশজুড়ে ৬ রাজ্যের (ছত্রিশগড়, কর্ণাটক, মধ্যপ্রদেশ, রাজস্থান, উত্তরপ্রদেশ ও দিল্লি) ৪০ জায়গায় হানা দেয় কেন্দ্রয় তদন্তারী সংস্থা। এফআইআর-এর নামের তালিকায় আছেন কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রকের আটজন আধিকারিক, ছ’জন এনএমসি পরিদর্শক ও কর্তা, ইউজিসি’র প্রাক্তন শীর্ষকর্তা, একাধিক প্রাইভেট মেডিক্যাল কলেজের শীর্ষকর্তা, একাধিক শিক্ষাবিদ, দালাল, এমনকী এক স্বঘোষিত গডম্যানও রয়েছেন দুর্নীতিতে। স্বাস্থ্য অধিকর্তা (শিক্ষা) ডাঃ ইন্দ্রজিৎ সাহা ও স্বাস্থ্য বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য তথা এনএমসি’র সদস্য ডাঃ মুকুল ভট্টাচার্য জানান, এই জাতীয় খবর শুনলেও তাঁরা কোনও লিখিত নির্দেশনামা পাননি।