শ্রীরামকৃষ্ণদেব, মা সারদা, স্বামী বিবেকানন্দ, প্রেমানন্দ মহারাজের স্মৃতিধন্য গ্ৰাম আঁটপুর। আর সেই গ্রামেই রয়েছে প্রায় ৩০০ বছরের প্রাচীন সিদ্ধেশ্বরী মন্দির। এই কালী মূর্তির গায়ের রং সাদা। আর সেই কারণেই স্থানীয়রা এই দেবীকে সিদ্ধেশ্বরী বা শ্বেতকালী বলে ডাকেন। কথিত আছে, আঁটপুরের মা সিদ্ধেশ্বরী ও পার্শ্ববর্তী গ্রাম রাজবলহাটের রাজবল্লভী দেবী দুই বোন। বড় বোন রাজবল্লভী ও ছোট বোন সিদ্ধেশ্বরী। দুই দেবীরই গায়ের রং সাদা। সিদ্ধেশ্বর অর্থাৎ মহাদেব থেকে সিদ্ধেশ্বরী দেবীর নাম এসেছে। গড় ভবানীপুরের রাজা সদানন্দ প্রতিষ্ঠা করেন রাজবলহাটের রাজবল্লভী দেবী মন্দির। সেখানকার রানি তারাদেবীকে সিদ্ধেশ্বরী শ্বেতকালী স্বপ্নাদেশ দিয়ে আঁটপুরে তাঁকে প্রতিষ্ঠা করতে বলেছিলেন। স্বপ্নের মাধ্যমেই দেবী জানিয়েছিলেন তাঁর রূপের কথা। বলেছিলেন, পূর্ণিমার পূর্ণচন্দ্রের মতো যেন তাঁর রূপ হয়। রানি সেই স্বপ্নাদেশ মেনে মাতৃ মন্দির প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। সেইসঙ্গে দান করেন বিশাল পরিমাণ জমি। মন্দির সংলগ্ন এই জমিতে রয়েছে জোড়া দিঘি। আগে এই মন্দিরের মূর্তি ছিল অষ্টধাতুর। ১৪০০ বঙ্গাব্দে এই প্রাচীন মন্দিরটি ভগ্নপ্রায় অবস্থায় চলে যায়। সেই সময়েই চুরি হয়ে যায় মন্দিরের অষ্টধাতুর মূর্তি। সেই সময়ে গ্রামবাসীরাই উদ্যোগী হয়ে মন্দিরটি পুননির্মাণ করেন। ১৪২০ সালের ৮ জ্যৈষ্ঠ দেবীর নতুন পাথরের মূর্তি স্থাপন করা হয়। শ্বেতকালী চতুর্ভুজা। ডান হাতে অভয় ও বর মুদ্রা এবং বাম হাতে খড়্গ ও কাটা মুণ্ডু। এখানে আমিষ তরকারি মায়ের প্রধান নৈবেদ্য। মাছ সহ বিভিন্ন ধরনের সব্জি দিয়ে তৈরি হয় ভোগ। স্থানীয়রা এই ভোগকে বলা হয় ‘ঘাঁটা’। রাজবলহাটের রাজবল্লভী দেবীকে একই রকম ভোগ নিবেদন করা হয়। এখানে নাটমন্দিরের পাশেই আছে ঝাঁপান উৎসবের মঞ্চ। সেখানে চৈত্র মাসে শিবভক্তরা সন্ন্যাস নিয়ে উৎসব পালন করে। এই উপলক্ষ্যে বসে বিরাট মেলা। স্থানীয় বাসিন্দাদের বিশ্বাস, দেবী সকলের মনস্কামনা পূরণ করেন। জাগ্রত এই দেবী দর্শনে প্রতিদিন বহু মানুষের সমাগম হয়।



