Bartaman Logo
১৫ জুলাই, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

ট্রলারে আরও একটি দেহ উদ্ধার, ডিএনএ রিপোর্টের অপেক্ষায় মৃতের আত্মীয়রা

শঙ্করপুরের অভিশপ্ত ট্রলারে আরও এক মৎস্যজীবীর দেহ উদ্ধার হয়েছে। মৃতের সংখ্যা ১০। ডিএনএ রিপোর্টের জন্য অপেক্ষা। বিস্তারিত পড়ুন।

ট্রলারে আরও একটি দেহ উদ্ধার, ডিএনএ রিপোর্টের অপেক্ষায় মৃতের আত্মীয়রা
  • ১৫ জুলাই, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, তমলুক, সংবাদদাতা, কাকদ্বীপ ও কল্যাণী: শঙ্করপুরের অভিশপ্ত ট্রলার থেকে আরও এক মৎস্যজীবীর দেহ উদ্ধার হল। মৃতের সংখ্যা গিয়ে দাঁড়াল ১০। ডিএনএ পরীক্ষার রিপোর্ট না আসা পর্যন্ত প্রত্যেকের দেহ কলকাতার কাঁটাপুকুর মর্গে রাখা থাকবে বলে জানা গিয়েছে। এখনও নিখোঁজ পাঁচ। তাঁদের খোঁজে তল্লাশি চলছে। মঙ্গলবার পূর্ব মেদিনীপুরের অতিরিক্ত জেলাশাসক (সাধারণ) তানিয়া পারভিন বলেন,  ‘জয় মা কালী’ ট্রলারে মাছ ধরে ফেরার পথে দুর্যোগের মুখোমুখি হন মৎস্যজীবীরা। তখনই সেটি উল্টে যায়। 

Advertisement

ইতিমধ্যে দেহ শনাক্ত করতে ডিএনএ পরীক্ষার জন্য রক্তের নমুনা দিয়েছেন মৎস্যজীবীদের পরিবারের সদস্যরা। রিপোর্ট পেতে কিছুদিন সময় লাগবে। ততদিন পরিবারের লোকজনের হাতে দেহ দেওয়া যাবে না। সমুদ্রে মাছ ধরতে গিয়ে একসঙ্গে ১৫ মৎস্যজীবীর করুণ পরিণতি অতীতে হয়নি বলেই মনে করা হচ্ছে। শঙ্করপুর ফিশারমেন অ্যান্ড ফিশ ট্রেডার্স অ্যাসোসিয়েশনের সম্পাদক স্বদেশ নায়েক বলেন, আমাদের এই সংগঠনের অধীনে প্রায় ২৫০ জন ট্রলার মালিক আছেন। ৫-৬ জুলাই দলবেঁধে মাছ ধরে ফিরছিল ট্রলারগুলি। কিন্তু জয় ‘মা কালী ট্রলার’ কদিন বাদে ফিরবে বলে অন্যদের জানিয়েছিল। তারমধ্যে ৬ জুলাই তাদের সঙ্গে সবধরনের যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয় এবং মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে যায়। আমাদের শঙ্করপুরে পূর্ণ জোয়ার না হলে ট্রলার ফিরতে পারে না। তাই সময়সূচি ধরে ট্রলার নিয়ে মৎস্যজীবীদের ফিরতে হয়। ট্রলারে যাওয়া মৎস্যজীবীদের কাছে ওয়্যারলেস যোগাযোগ ব্যবস্থা থাকে। দুর্যোগ ঘনিয়ে এলে সতর্কবার্তা পাঠানো হয়। কিন্তু, মাছের লোভে কেউ কেউ সেই সতর্কবার্তা উপেক্ষা করেন। জেলা প্রশাসন জানিয়েছে, মোট ১৫ জন মৎস্যজীবী দুর্ঘটনায় পড়েন। তাঁদের মধ্যে পূর্ব মেদিনীপুরের ন’জন। এছাড়া, ওড়িশার তিনজন, নদীয়ার দু’জন এবং হাওড়ার একজন আছেন। 
গত জানুয়ারি মাসে কলকাতার আনন্দপুর লাগোয়া নাজিরাবাদ অগ্নিকাণ্ডে পূর্ব মেদিনীপুরের একসঙ্গে ১৮ জনের মৃত্যু হয়েছিল। ডিএনএ পরীক্ষার মাধ্যমেই প্রত্যেকের দেহ শনাক্ত করা হয়। ছ’মাস বাদে আবার ডিএনএ পরীক্ষার মাধ্যমে মৎস্যজীবীদের দেহ শনাক্ত করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। উপকূলজুড়ে এখন শোকের ছায়া। 
এদিকে, এই ট্রলারডুবির ঘটনায় চাকদহের মদনপুরের বাসিন্দা সুকুমার বর্মনের (৭০) মৃত্যু হয়েছে বলে পরিবার জানিয়েছে। তাঁর বাড়ি কল্যাণী ব্লকের মদনপুর পঞ্চায়েতের প্রিয়নগরের ভৌমিকপাড়ায়। যেহেতু দেহগুলি পচন ধরেছিল, তাই চেনার উপায় ছিল না। তাই পরিবারের হাতে তুলে দেওয়ার আগে ডিএনএ পরীক্ষা করা হবে। মৃতের বড়ো ছেলের স্ত্রী সরস্বতী বর্মন জানান, দেহটি মর্গে রাখা হয়েছে এবং পরিবারের সদস্যরা সেটা দেখে এসেছেন। উনি আগেও মাছ ধরতে গিয়েছিলেন কিন্তু নিরাপদে ফিরে এসেছিলেন। কিন্তু এবার আর ফিরলেন না।  

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ