সংবাদদাতা, তেহট্ট : পাঁচ বছর ধরে নিয়মিত সরকারি ভাতা পেয়েও আচমকাই ‘বাতিল’ হয়ে গেল আবেদন! জুলাই মাসেও অ্যাকাউন্টে ঢুকল না প্রতীক্ষিত তিন হাজার টাকা। আর তাতেই ক্ষোভে ফেটে পড়েছেন হাজার হাজার মহিলা। তেহট্ট মহকুমার বিভিন্ন বিডিও অফিস, পঞ্চায়েত কার্যালয় ও সংশ্লিষ্ট আধিকারিকদের বিরুদ্ধে শুরু হয়েছে বিক্ষোভ। শুধু তেহট্ট নয়, রাজ্যের বিভিন্ন জেলাতেও একই ছবি। পরিস্থিতি এমন জায়গায় পৌঁছেছে যে, ক্ষোভ প্রশমনে কার্যত মাঠে নামতে হয়েছে বিজেপির নেতা-জনপ্রতিনিধিদের। যদিও গেরুয়া শিবিরের অভিযোগ, তৃণমূল-ঘনিষ্ঠ সরকারি কর্মীদের গাফিলতি ও অনিয়মের জেরেই এই ভোগান্তি।
রাজ্যে পরিবর্তনের পর ‘লক্ষ্মীর ভাণ্ডার’-এর নাম বদলে চালু হয়েছে ‘অন্নপূর্ণা যোজনা’। মাসিক অনুদানও বেড়ে হয়েছে তিন হাজার টাকা। নতুন প্রকল্পে অন্তর্ভুক্ত হতে সব উপভোক্তাকেই নতুন আবেদনপত্র জমা দিতে হয়েছে।
সরকার ধাপে ধাপে উপভোক্তাদের অ্যাকাউন্টে টাকা পাঠানো শুরু করলেও বহু আবেদন যাচাইয়ের পর্যায়েই আটকে গিয়েছে। জুলাইয়ের শুরুতে অনেকেই টাকা পেলেও বিপুল সংখ্যক মহিলার অ্যাকাউন্টে কোনো অর্থ জমা পড়েনি। পরে আবেদনপত্রের স্ট্যাটাস পরীক্ষা করে দেখা যায়, বহু ক্ষেত্রে আবেদন ‘রিজেক্টেড’ দেখাচ্ছিল। পরে সেগুলি আন্ডার এনকোয়ারি দেখাচ্ছে। এই ঘটনাতেই ক্ষোভ দাবানলের মতো ছড়িয়ে পড়েছে।
প্রশাসনের দাবি, প্রায় এক কোটি দশ লক্ষ উপভোক্তার অ্যাকাউন্টে একসঙ্গে টাকা পাঠানোর সময় কিছু ক্ষেত্রে আধার-ব্যাংক সংযোগে সমস্যা এবং আবেদনপত্রে তথ্যগত ত্রুটির কারণে এই জটিলতা তৈরি হয়েছে।
ইতিমধ্যেই রাজ্য ও জেলা প্রশাসনের নির্দেশে বাতিল দেখানো আবেদনগুলি পুনর্যাচাই শুরু হয়েছে। রবিবার সন্ধ্যা থেকেই একাধিক আবেদনপত্রের স্ট্যাটাস পরিবর্তনের কাজও শুরু হয়েছে বলে প্রশাসন সূত্রে খবর।
তেহট্টের বাসিন্দা রিনা বিশ্বাস বলেন, যাঁদের গাড়ি-বাড়ি রয়েছে, তাঁরা টাকা পেয়েছেন। অথচ প্রকৃত গরিব মানুষই বাদ পড়ছেন।
নদীয়া উত্তর সাংগঠনিক জেলা বিজেপির সদস্য সুখদেব বিশ্বাসের দাবি, তৃণমূলের একাংশ ইচ্ছাকৃতভাবে বিভ্রান্তি তৈরি করেছে। প্রশাসন এখন ভুল সংশোধনের কাজ শুরু করেছে। কোনো যোগ্য মহিলা বঞ্চিত হবেন না।
তেহট্ট-১ পঞ্চায়েত সমিতির সদস্য সৌমেন সরকার বলেন, একসঙ্গে বিপুল তথ্য আপলোড হওয়ায় সার্ভারে কারিগরি ত্রুটি হয়েছিল। কিছু ক্ষেত্রে নাশকতার সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না। তবে সবাই প্রকল্পের সুবিধা পাবেন।
প্রশাসন জানিয়েছে, আগামী ১৫ জুলাইয়ের মধ্যে পুনর্যাচাই শেষ করে ২০ জুলাইয়ের মধ্যে পরিস্থিতি স্বাভাবিক করার লক্ষ্য নিয়েই কাজ চলছে পুরোদমে।