Bartaman Logo
১৫ জুন, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

রেললাইনের ধারেই খোলা আকাশের নীচে রাত কাটছে অঞ্জলি, সাবিত্রীদের

বনগাঁর চাঁদপাড়া স্টেশন সংলগ্ন এলাকায় রেল কর্তৃপক্ষের উচ্ছেদের নোটিশে রাত কাটাচ্ছেন সাবিত্রী ও অঞ্জলি। বিস্তারিত পড়ুন।

রেললাইনের ধারেই খোলা আকাশের  নীচে রাত কাটছে অঞ্জলি, সাবিত্রীদের
  • ১৫ জুন, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

সংবাদদাতা, বনগাঁ: রবিবার দুপুর ১টা। তীব্র গরম ও রোদে চাঁদপাড়া স্টেশন সংলগ্ন রাস্তার পাশে একটু ছায়ায় বসে বছর সত্তর ছুঁইছুঁই সাবিত্রী দাস। পাশে পুরনো ঘরের চালের বেশ কিছু টালি। হাতে ঠোঙায় অল্প কিছু শুকনো মুড়ি। হাত দশেক দুরে ভাঙা ঘরের ধ্বংসস্তূপ। চোখের কোণে জল বৃদ্ধার। কাছে যেতেই ধ্বংসস্তূপ দেখিয়ে বললেন, ওটা আমার বাড়ি ছিল। রেলের জায়গা। না ভাঙলে নাকি ঘুমের মধ্যে ওরা ভেঙে দেবে। ভয়ে নিজেরাই ভেঙে ফেলেছি। এই টালি ক’টা সম্বল। কোথায় যাব জানি না। কাল সারারাত এখানেই বসে কাটিয়েছি।

Advertisement

এক বছর আগে মারা গিয়েছেন স্বামী। দুই ছেলেকে নিয়ে বনগাঁ- শিয়ালদহ শাখায় চাঁদপাড়া স্টেশন সংলগ্ন এলাকায় থাকতেন সাবিত্রী দাস। এক ছেলে কিছুটা প্রতিবন্ধী। কেউই সেভাবে কাজ করেন না। অন্যের বাড়িতে কাজ করে ও বাজারে শাক বিক্রি করে দিন কাটত সাবিত্রীদেবীর। দিন কয়েক আগে রেলের নোটিশের খবর পেয়ে মাথায় বাজ পড়ার অবস্থা বৃদ্ধার। কার কাছে যাবেন বুঝতে পারছেন না। বসে বসে বিড়বিড় করছিলেন, এই তো কয়েকটা দিন আগেই কত নেতা বাড়িতে এসেছিলেন। ঘরের সামনে দাঁড়িয়ে পাশে থাকার কথা বলছিলেন। আজ তাঁরা কেউ নেই! ওই এলাকার অপর এক বাসিন্দা অঞ্জলি দাস বলেন, আমরা আগে জানতাম না এই দিন আসবে। একটু সময় দিলে ভালো হতো। এই অল্প সময়ে কোথায় যাব?
দিন কয়েক আগেই চাঁদপাড়া রেল স্টেশন সংলগ্ন এলাকায় ব্যবসায়ীদের উচ্ছেদের নোটিশ দিয়েছে রেল কর্তৃপক্ষ। ১১ জুনের মধ্যে এলাকা খালি করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। অনেকেই আগে থেকেই জিনিসপত্র সরিয়ে নিয়েছিলেন। শনিবার রাত থেকে এলাকায় বুলডোজার চালায় রেল। ভেঙে ফেলা হয় দোকানপাট। রবিবার নিজের দোকানের অবশিষ্ট জিনিসপত্র খুলছিলেন ঋষিকেশ দাস। গত ২০ বছর ধরে স্টেশন সংলগ্ন এলাকায় রেলের জমিতে বাদাম ভাজার দোকান ছিল তাঁর। এদিন তিনি বলেন, কি আর করব। খেয়ে তো বেঁচে থাকতে হবে। বাজারে দোকান ভাড়া নেব। স্টেশন সংলগ্ন একটি বাজারে ১৯৮৯ সালে ছোট্ট একটি দোকান করে জুয়েলারি ব্যবসা শুরু করেছিলেন গৌতম সী। পুরো বাজার ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে। একরাশ ক্ষোভ নিয়ে গৌতম বলেন, আচ্ছে দিন আসবে শুনেছিলাম। এবার নিজের চোখে আচ্ছে দিন দেখলাম। বনগাঁ-শিয়ালদহ শাখায় প্রায় সবকটি স্টেশন সংলগ্ন ব্যবসায়ীদের উচ্ছেদের নোটিশ দেওয়া হয়েছে। আশঙ্কায় ব্যবসায়ীরা।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ