Bartaman Logo
৯ জুন, ২০২৬

মোবাইলেই মিলবে ভারতের প্রাচীন পাণ্ডুলিপি, তিন বছরের প্রকল্প কেন্দ্রীয় সরকারের

খর্জুরপত্র, ভূর্জপত্র এবং বস্ত্রখণ্ডে পাওয়া গিয়েছে ভারতের আদিযুগে লেখা প্রাথমিক পাণ্ডুলিপিগুলি। যা কমবেশি খ্রিষ্টপূর্ব ২০০ অব্দ থেকে ২০০ খ্রিষ্টাব্দের মধ্যেই লিখিত।

মোবাইলেই মিলবে ভারতের প্রাচীন পাণ্ডুলিপি, তিন বছরের প্রকল্প কেন্দ্রীয় সরকারের
  • ২০ জুলাই, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, নয়াদিল্লি: খর্জুরপত্র, ভূর্জপত্র এবং বস্ত্রখণ্ডে পাওয়া গিয়েছে ভারতের আদিযুগে লেখা প্রাথমিক পাণ্ডুলিপিগুলি। যা কমবেশি খ্রিষ্টপূর্ব ২০০ অব্দ থেকে ২০০ খ্রিষ্টাব্দের মধ্যেই লিখিত। মতান্তরে খ্রিষ্টপূর্ব ৩০০ অব্দের সময়কালের কিছু সংস্কৃত লিপিরও সন্ধান পাওয়া যায়। বেশ কিছু সেই প্রাচীন লিপির সন্ধান প্রধানত জৈন ও বৌদ্ধ রচনায় পাওয়া গিয়েছে মূলত ব্রাহ্মী এবং খরোষ্টি লিপিতে। সন্ধান মিলেছিল প্রথম শতাব্দীর গান্ধাররাজ্যে। তামিল সঙ্গম ভাষ্যে আদিযুগের সংস্কৃতের সন্ধান মিলেছে ভূর্জপত্রে। সংস্কৃত থেকে তামিল। কিংবা বাংলা অথবা পালি ও প্রাকৃত। ভারতের ইতিহাসে যুগ যুগ ধরে যে প্রাচীন পাণ্ডুলিপি পওয়া গিয়েছে, সেগুলি একবার একটি মোবাইলেই আনার এক  বৃহৎ প্রকল্প নিয়েছে কেন্দ্রীয় সরকারের সংস্কৃতি মন্ত্রক। সেজন্য তৈরি হতে চলেছে একটি অ্যাপ। তিন বছর সময় লাগবে অ্যাপ তৈরি হতে। অ্যাপের মধ্যে মোট ৫০ কোটি পৃষ্ঠার প্রাচীন পাণ্ডুলিপি আপলোড করা হবে। এই প্রকল্পের নাম দেওয়া হচ্ছে ‘জ্ঞান ভারতম মিশন।’ যদিও জ্ঞান এবং  ভারতম বোঝা গেল, কিন্তু মিশন তো ইংরাজি শব্দ! প্রাচীন ভারতের ঐতিহ্য  সম্পর্কে আধুনিক ভারতকে ওয়াকিবহাল করতে মিশন শব্দ কেন? এই প্রশ্ন উঠছে। শুধুই অ্যাপ নয়। সম্পূর্ণ পোর্টালও চালু করা হবে। ওই পোর্টাল কিংবা অ্যাপের মাধ্যমে শুধুমাত্র প্রাচীনকালের পাণ্ডুলিপিই এক নিমেষে দেখা যাবে এমন নয়। পাশাপাশি থাকবে সামগ্রিক এক শিক্ষণ ব্যবস্থা। অর্থাৎ যে কোনও বিষয়ে কোনও প্রশ্ন থাকলে, তারও জবাব দেওয়া হবে। যদিও এই অ্যাপ তথা পোর্টালের গ্রাহক হলে, তবেই ওইসব বিরল প্রাচীন ভারতের দলিল, দস্তাবেজ, সাহিত্য, আইনের নথি পাওয়া যাবে কি না, তা স্পষ্ট করা হয়নি। ভারতের বিভিন্ন প্রান্তে থাকা প্রাচীন গ্রন্থাগার, সরকারি ও ব্যক্তিগত আর্কাইভ, সংগ্রহশালার সন্ধান মিলেছে। যেখানে রয়েছে এই আদিযুগে লিখিত পুঁথি। সংস্কৃত, তামিল, আরবী, ফার্সি, বাংলা, মালয়ালাম। প্রধানত এই ভাষা ও হরফে লেখা প্রাচীন পুঁথিরই সন্ধান সবথেকে বেশি পাওয়া গিয়েছে। আন্তর্জাতিক বিশেষজ্ঞ সংস্থার সাহায্য নেওয়া হচ্ছে এই  পুঁথির সংরক্ষণ, উদ্ধার এবং সংস্কারে। কেন্দ্রীয় সংস্কৃতি মন্ত্রক জানিয়েছে, ভারতের প্রাচীন সমাজব্যবস্থা, রাজকার্য, শাসনপ্রক্রিয়া, আইন, অর্থব্যবস্থা, সাহিত্য‌ কীভাবে চলত, তারই নিদর্শন এভাবে এই প্রথম সাধারণ জনগণের জন্য খুলে দেওয়া হচ্ছে। আগামী দিনে আর ভারতের বিভিন্ন প্রান্তে ঘুরতে হবে না। মোবাইলের মধ্যেই সব পাওয়া যাবে।

Advertisement
Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ