নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: বারুইপুর গণধর্ষণ-খুন কাণ্ডে প্রধান দুই অভিযুক্ত প্রভাস মণ্ডল এবং আনন্দ সরদার চাইল্ড পর্নোগ্রাফিতে আসক্ত ছিল। সেই আসক্তি থেকেই দু’জনের মধ্যে জন্ম নিয়েছিল বিকৃত রুচি। তারই মাশুল গুনতে হয়েছে সূর্যপুর হাট এলাকার ওই নাবালিকাকে। গণর্ধণ-খুনের বেশ কিছুদিন আগে থেকে ওই নাবালিকাকে ‘টার্গেট’ করেছিল ‘মানিকজোড়’। বারুইপুর কাণ্ডের তদন্তে নেমে এই তথ্য প্রতিষ্ঠিত হয়েছে তদন্তকারীদের সামনে। তাঁরা বলছেন, বিকৃত সেই মানসিকতা থেকে শুধু ওই নাবালিকা নয়, আরও কয়েকজন শিশুর সঙ্গে নির্যাতন করার চেষ্টা চালিয়েছিল এই ‘পিশাচদ্বয়’। এলাকার লোকজনের নজরে পড়ায় ‘উত্তম-মধ্যম’ও জুটেছিল তাদের। আনন্দ জেরায় জানিয়েছে, চাইল্ড পর্নোগ্রাফির নেশা তাকে ধরিয়েছিল প্রভাসই। এই পর্বেই গত রবিবার নাবালিকার মৃত্যুর ঘটনার প্রতিবাদের নামে তাণ্ডব ও হাঙ্গামা চালানো, পুলিশকে মার, গাড়ি ভাঙচুর ও রেললাইন উপড়ে ফেলার ঘটনায় জড়িত আরও চারজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। পাশাপাশি অটোচালক ইন্দ্রজিৎ মণ্ডলকে পিটিয়ে খুনে অভিযুক্ত আরও একজনকে পাকড়াও করা হয়েছে। এ নিয়ে বারুইপুর কাণ্ডে ধৃতের সংখ্যা বেড়ে হল ৩৫।
এই আবহেই আজ, শনিবার ফের বারুইপুর আসছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। গণধর্ষণ-খুনের ঘটনার পর যেদিন বারুইপুর জেলা পুলিশ সুপারের দপ্তরে নির্যাতিতা নাবালিকার পরিবার মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করেছিলেন, সেদিন তাঁদের দাবি ছিল এলাকায় স্থায়ী পুলিশ ফাঁড়ির। সেই দাবি মেনে নেন শুভেন্দু। সূর্যপুরহাটে একটি ভাড়াবাড়ির দোতলায় হয়েছে পুলিশ ফাঁড়ি। শুক্রবার কাজের অগ্রগতি দেখতে সেখানে যান আইজি (প্রেসিডেন্সি রেঞ্জ) কঙ্করপ্রসাদ বারুই। আজ, সেই ফাঁড়ির উদ্বোধন করবেন মুখ্যমন্ত্রী। গণপিটুনিতে মৃত অটো চালকের পরিবারের সঙ্গেও দেখা করার কথা রয়েছে শুভেন্দুর।
অপরদিকে, বারুইপুর এনকাউন্টার কাণ্ডের তদন্তে এদিন ঘটনাস্থলে যান ফরেনসিক বিশেষজ্ঞরা। কেন্দ্র ও রাজ্য দু’তরফের মোট পাঁচজন ফরেনসিক বিশেষজ্ঞরা ছিলেন ‘ছানবিনে’। সূর্যপুরহাট এলাকায় যেখানে এনকাউন্টার হয়েছে, সেই জায়গা এখন টানা বৃষ্টিতে জলবন্দি। হাঁটু জলে দাঁড়িয়ে ঘটনাস্থলের মাপজোক করেন বিশেষজ্ঞরা। পরিদর্শন চলে ঝোপেও। ব্যবহার করা হয় বিশেষ লেজার যুক্ত আলো। পুরো জায়গাটি ভালো করে খতিয়ে দেখে বেশ কিছু পয়েন্ট নোট করেন তাঁরা। সিআইডির আধিকারিকরাও ছিলেন অকুস্থলে।
নাবালিকা নিখোঁজ পর্বের তদন্তে এলাকার পুলিশ ক্যাম্প, বারুইপুর থানা এবং জেলা পুলিশের কয়েকজন আধিকারিকের বিরুদ্ধে কর্তব্যে অবহেলার অভিযোগ উঠেছিল। বিষয়টি নিয়ে ক্ষুব্ধ মুখ্যমন্ত্রী তদন্ত করে তিনদিনের মধ্যে রিপোর্ট জমা দিতে নির্দেশ দেন রাজ্য পুলিশের ডিজিকে। সেই রিপোর্ট জমা পড়েছে বলে সূত্রের খবর। তাতে পুলিশের কোন আধিকারিকের কোথায় গাফিলতি ছিল, তার উল্লেখ রয়েছে। আজ, শনিবার বারুইপুরে এসে মুখ্যমন্ত্রী এ বিষয়ে সরকারের কড়া অবস্থানের কথা ঘোষণা করবেন বলে মনে করা হচ্ছে। বারুইপুর কাণ্ডে প্ররোচনার অভিযোগে এফআইআর দায়ের হতেই গ্রেপ্তারের আশঙ্কায় হাইকোর্টের দ্বারস্থ হয়েছেন সিপিএম নেতা লায়েক আলি। এফআইআর খারিজের দাবিতে শুক্রবার আদালতের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন তিনি। বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্যের এজলাসে মামলা দায়েরের অনুমতি দিয়েছে হাইকোর্ট।
এনকাউন্টার স্থলে ফরেনসিক বিশেষজ্ঞরা। -নিজস্ব চিত্র