নিজস্ব প্রতিনিধি, বর্ধমান: হুগলির এক লটারি কিংয়ের মদতে রাজ্যের বিভিন্ন জেলায় ভাগ্য বদলের অবৈধ কারবার শুরু হয়েছিল। ওই ব্যক্তি রীতিমতো ফ্রাঞ্চাইজি দিয়ে অবৈধ লটারির দোকান খোলার অনুমতি দিয়েছিল। আগের সরকারকে রাজস্ব না দিয়েই কারবার চলছিল। পুলিশ অভিযানে নামতেই এই কারবারের পাততাড়ি গোটানো হয়ে গিয়েছে। এখন ওই লটারি কিংয়ের খোঁজে পুলিশ তল্লাশি শুরু করেছে।
এক আধিকারিক বলেন, সব লটারি অবৈধ নয়। যাঁরা সরকারকে রাজস্ব দিয়ে নিয়ম নেমে কারবার চালান, তাঁদের সমস্যা নেই। তাঁরা রীতিমত পুরস্কারও দেন। কিন্তু এক শ্রেণির অবৈধ কারবারিরা সেসব কিছুর পরোয়া করে না। তারা বিভিন্ন এলাকায় দোকান খুলে নিজেদের মতো করে খেলা চালায়। কে পুরস্কার জিতছে তা জানা যায় না। তবে, পুরস্কারগুলি লোভনীয় থাকে। তা দেখেই বহু খেটে খাওয়া লোকজন নিত্যদিন লটারি কাটতেন।
প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, সম্প্রতি পুলিশ মেমারি, জামালপুরে অভিযান চালিয়ে অবৈধ লটারির টিকিট উদ্ধার করে। কয়েকজনকে গ্রেপ্তার করে। তাদের কাছে থেকেই তদন্তকারীরা ওই কিংপিনের নাম জানতে পেরেছে। প্রতিদিন বিক্রি হওয়া টিকিটের টাকা তার কাছে পৌঁছে যেত। বিক্রেতাদের সে কমিশন দিত। এক শ্রেণির প্রভাবশালীদের সঙ্গে তার যোগ ছিল। সেই কারণে রমরমিয়ে কারবার চালিয়ে গিয়েছে। প্রায় ১০ বছর ধরে সে এই কারবারের মূলচক্রী হয়ে রয়েছে। সে প্রতিদিন বিপুল টাকা ঘরে তুললেও সরকারকে একটি টাকাও রাজস্ব দিত না। পরিবর্তে প্রভাবশালীদের পকেট ভর্তি করত।
পূর্ব বর্ধমান, হুগলি, হাওড়া জেলায় তার কারবার চলত। পূর্ব বর্ধমান জেলায় হাতে লেখা অবৈধ লটারি কারবারের রমরমাও কয়েক বছরে বেড়ে গিয়েছিল। এই চক্রের মূল পাণ্ডা ছিল কাটোয়ার তিন প্রভাবশালী। এই খেলায় টিকিট ছাপানো হত না। মুখে মুখেই খেলা হত। ক্রেতারা নিজেদের পছন্দের নম্বর বিক্রেতাদের বলত। সেটা তারা নথিভুক্ত করত। একটি জনপ্রিয় লটারির খেলা অনুযায়ী পুরস্কার দেওয়া হত। ওই লটারির প্রথম পুরস্কারের শেষ নম্বর ধরে পুরস্কার দেওয়া হত। এই খেলাটিও সম্পূর্ণ অবৈধভাবে হত। রাজ্যে পালা বদলের পর সেই খেলা বন্ধ হয়ে গিয়েছে। চক্রের কিংপিন গ্রেপ্তার হয়েছে। এখন পুলিশের নজরে হুগলির অবৈধ লটারি কারবারের ওই কিংপিন। তার সম্পর্কে পুলিশ সমস্ত তথ্য জোগাড় করেছে। তার বিরুদ্ধে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া হতে পারে বলে পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে।
আধিকারিকদের দাবি, সে বহু গরিব মানুষের সঙ্গে প্রতরণা করেছে। দিনের পর দিন লটারি কেটেও অধিকাংশর শিকে ছেঁড়েনি। পাশাপাশি সে সরকারের সঙ্গেও প্রতারণা করেছে।