নিজস্ব প্রতিনিধি, বরানগর: আর জি করে মহিলা চিকিৎসককে ধর্ষণ ও খুনে দোষী সাব্যস্ত সঞ্জয় রায়ের যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের সাজায় খুশি নয় নাটাগড়। ঘরের মেয়েকে হারানোর যন্ত্রণা প্রশমিত হওয়ার বদলে ঘা যেন আরও দগদগে হয়েছে! সোমবার সাজা ঘোষণার পর নাটাগড় সহ গোটা সোদপুরজুড়ে ক্ষোভের পারদ চড়েছে। তদন্তে সিবিআইয়ের ভূমিকা নিয়ে কাটাছেঁড়া চলছে বিভিন্ন আলোচনায়। ক্ষোভের স্ফুলিঙ্গ দাবানলের আকার নিয়েছে সমাজমাধ্যমে। অনেকেই হতাশ হয়ে বলছেন, ‘কেসটা রাজ্য পুলিসের হাতে থাকলে হয়তো দোষীর চরম সাজাই হতো।’
Advertisement
গত ৯ আগস্ট আর জি কর মেডিক্যাল কলেজের পড়ুয়া চিকিৎসককে ধর্ষণ ও খুনের নৃশংস ঘটনায় চমকে উঠেছিল রাজ্যবাসী। নির্যাতিতা চিকিৎসকের শহর সোদপুরে ক্ষোভের পারদ চড়েছিল। অভিযুক্তদের কঠোরতম সাজার দাবিতে প্রতিদিন সন্ধ্যায় সোদপুর ট্রাফিক মোড় অবরোধ করে বিক্ষোভ শুরু করেছিলেন শহরবাসী। ঘণ্টার পর ঘন্টা অবরোধে দাঁড়িয়ে থেকেও বিক্ষোভকারীদের সমর্থন জানাতেন নিত্যযাত্রীরা। সময় যত গড়িয়েছে, আন্দোলনের ঝাঁঝ কমেছে। কিন্তু মানুষের মন থেকে বিচারের দাবি স্তিমিত হয়নি। সোমবার সঞ্জয় রায়ের সাজা ঘোষণা থাকায় সকাল থেকে টিভিতে চোখ রেখেছিলেন সোদপুরবাসী। কিন্তু সাজা ঘোষণার পর হতাশা ঘিরে ধরে তাঁদের।
মৃত চিকিৎসকের প্রতিবেশী এক কাকীমা চোখের জল মুছে বলেন, ‘সরকারি হাসপাতালে মানুষকে বাঁচাতে গিয়ে মেয়েটা নিজেই মারা গেল। চরম অত্যাচারের শিকার হয়ে খুন হতে হল তাঁকে। এই ঘটনা তো অবশ্যই বিরলের মধ্যে বিরলতম। অথচ, আদালতে তা প্রমাণ করা গেল না। প্রথম দিন থেকে আমরা বলছি, বৃহত্তর ষড়যন্ত্র করে আমাদের মেয়েকে খুন করা হয়েছে। এই কাণ্ডে অনেক প্রভাবশালী যুক্ত। আমরা এই বিচার মানতে পারছি না। সিবিআই সক্রিয় হলে এমন রায় হতো না। অপরাধীরা বাইরে ঘুরতে পারত না।’ অভয়ার এক আত্মীয় বলেন, ‘সিবিআইয়ের অপদার্থতায় চরম সাজা হল না। বিচারক বলছেন, এই ঘটনা বিরল নয়। তাহলে কোন ঘটনা বিরল? কাকদ্বীপ থেকে শুরু করে আরও কয়েকটি জায়গায় তো গত কয়েকদিনে খুন ও ধর্ষণের ঘটনায় ফাঁসির সাজা হল। অথচ এক্ষেত্রে কিছুই হল না। বাকি অভিযুক্তরা এখনও ঘুরছে। আমরা সাধারণ মানুষ কীভাবে বিচার পাব?’
মৃত চিকিৎসকের প্রতিবেশী এক কাকীমা চোখের জল মুছে বলেন, ‘সরকারি হাসপাতালে মানুষকে বাঁচাতে গিয়ে মেয়েটা নিজেই মারা গেল। চরম অত্যাচারের শিকার হয়ে খুন হতে হল তাঁকে। এই ঘটনা তো অবশ্যই বিরলের মধ্যে বিরলতম। অথচ, আদালতে তা প্রমাণ করা গেল না। প্রথম দিন থেকে আমরা বলছি, বৃহত্তর ষড়যন্ত্র করে আমাদের মেয়েকে খুন করা হয়েছে। এই কাণ্ডে অনেক প্রভাবশালী যুক্ত। আমরা এই বিচার মানতে পারছি না। সিবিআই সক্রিয় হলে এমন রায় হতো না। অপরাধীরা বাইরে ঘুরতে পারত না।’ অভয়ার এক আত্মীয় বলেন, ‘সিবিআইয়ের অপদার্থতায় চরম সাজা হল না। বিচারক বলছেন, এই ঘটনা বিরল নয়। তাহলে কোন ঘটনা বিরল? কাকদ্বীপ থেকে শুরু করে আরও কয়েকটি জায়গায় তো গত কয়েকদিনে খুন ও ধর্ষণের ঘটনায় ফাঁসির সাজা হল। অথচ এক্ষেত্রে কিছুই হল না। বাকি অভিযুক্তরা এখনও ঘুরছে। আমরা সাধারণ মানুষ কীভাবে বিচার পাব?’



