ফজলি, ল্যাংড়া, গোপালভোগ, কাঁচামিঠা, আলফানসো, গোলাপখাস... তালিকা বেশ দীর্ঘ। বাঙালির আম-প্রেমকে আরও উজ্জীবিত করতে ১৯৭১ সালে যুক্ত হয় হাইব্রিড আম্রপালিও। ভারতীয় কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউটের বিজ্ঞানী ডঃ পীযূষকান্তি মজুমদার দশেরি ও নীলম নামে দুই জাতের আমের সঙ্করায়ণে তৈরি করলেন নয়া এই প্রজাতি। আম্রপালি নামের অর্থ হল আমের পাতা। দু’টি সংস্কৃত শব্দ আম্র (আম) ও পালি বা পালিভা (পাতা বা শাখা)-কে যুক্ত করেই এই নামকরণ হয়েছে। তবে কথিত আছে, নয়া প্রজাতির আম্রপালির নামকরণের নেপথ্যে রয়েছে প্রায় আড়াই হাজার পুরনো ইতিহাস। সেই সময়ে বৈশালীর শ্রেষ্ঠ সুন্দরী ও নর্তকী ছিলেন আম্রপালি। তবে তাঁর জন্মবৃত্তান্ত জানা যায়নি। আমগাছের নীচে তাঁকে পাওয়া যায়। সেই কারণেই নতুন আমপাতা বা পল্লবের সূত্রেই তাঁর এই নাম রাখা হয়। বড় হতেই আম্রপালির রূপ-গুণের ছটা ছড়িয়ে পড়েছিল দূরদূরান্তে। সেটাই কাল হয়েছিল। ‘রাষ্ট্রীয় আদেশে’ পরবর্তীতে পতিতায় পরিণত হয়েছিলেন তিনি। প্রাচীন মগধ রাজ্যের রাজা বিম্বিসার থেকে শুরু করে তাঁর পুত্র অজাতশত্রু বৈশালীর এই সুন্দরীর প্রেমে পড়েছিলেন। কিন্তু, কারও কাছে ধরা দেননি তিনি। রাষ্ট্রীয় নির্দেশে পতিতা হলেও নিজের শর্তেই জীবনধারণ করতেন। এর মধ্যেই কয়েকশো অনুগামীকে নিয়ে গৌতম বুদ্ধ বৈশালীতে এলেন। শোনা যায়, চার মাস শিষ্য শ্রমণকে তাঁর কাছে রাখার জন্য বুদ্ধকে অনুরোধ করেন আম্রপালি। সকলে ভেবেছিলেন, নর্তকীর রূপে শ্রমণও বোধহয় বাঁধা পড়ে যাবেন। কিন্তু, তেমনটা হয়নি। চারমাস পর বুদ্ধের শিষ্যের সঙ্গেই বুদ্ধের স্মরণে চলে আসেন আম্রপালি। বিশেষজ্ঞদের একাংশের মতে, ইতিহাসের সেই অধ্যায়কে স্মরণ ও অক্ষয় করে রাখতেই ১৯৭১ সালে এই নতুন হাইব্রিড প্রজাতির আমের নাম রাখা হয় বৈশালীর নর্তকীর নামে। এভাবেই তিনি অমর হয়ে রয়েছেন।



