Bartaman Logo
১৬ জুন, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

বুলেট প্রুফ গাড়ি আর বুটের আওয়াজের মধ্যে হাস্যমুখর গ্রামীণ হুগলির অলিগলি

হুগলিতে কি যুদ্ধ লেগেছে? সাত সকালে স্ত্রীর এমন বেখাপ্পা প্রশ্নে ঘাবড়েই গিয়েছিলেন অমিত ঘোষ। স্ত্রীর দিকে কিছুক্ষণ হতভম্ব হয়ে তাকিয়ে ছিলেন।

বুলেট প্রুফ গাড়ি আর বুটের আওয়াজের  মধ্যে হাস্যমুখর গ্রামীণ হুগলির অলিগলি
  • ২৯ এপ্রিল, ২০২৬ ১৫:০৪
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, চুঁচুড়া: হুগলিতে কি যুদ্ধ লেগেছে? সাত সকালে স্ত্রীর এমন বেখাপ্পা প্রশ্নে ঘাবড়েই গিয়েছিলেন অমিত ঘোষ। স্ত্রীর দিকে কিছুক্ষণ হতভম্ব হয়ে তাকিয়ে ছিলেন। দ্রুত স্ত্রী তাঁকে সামাজিক মাধ্যম খুলে দেখালেন। বাঁশবেড়িয়ার অমিতবাবু হাসতে হাসতে বলেছিলেন, দেখি হুগলির বিভিন্ন জায়গায় সিআরপিএফ জওয়ানরা বুলেট প্রুফ গাড়ি নিয়ে রুট মার্চ করছেন। ভঙ্গিটা যুদ্ধে যাওয়ার মতোই। স্ত্রীকে বললাম, বুধবার ভোটগ্রহণ। তাই নাগরিক-নিরাপত্তার আয়োজন হয়েছে। আমার গৃহলক্ষ্মী একটু মুখ বেঁকিয়ে চলে গেলেন।

Advertisement

অমিতবাবুর স্ত্রী মুখ বেঁকাতেই পারেন কিন্তু বুধবারের ভোটের জন্য আয়োজনের বহর দেখে অনেকেই বলছেন, যুদ্ধই এসেছে! সামাজিক মাধ্যমে তো হাসির তুফান থামছেই না। সিঙ্গুরের শম্ভু কোলে বলছেন, বুধবার যুদ্ধপরিস্থিতির মধ্যে ভোট দিতে যেতে হবে। একটা বুলেট প্রুফ জ্যাকেটের জন্য বিভিন্ন অ্যাপে খুঁজলাম। কিন্তু পেলাম না। আশেপাশের লোকজন তখন মুচকি মুচকি হাসছেন। বস্তুত বুধবারের ভোটের জন্য বিপুল সংখ্যায় কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে হুগলি জেলাজুড়ে। গ্রামীণ এলাকায় দুশোর বেশি কেন্দ্রীয় বাহিনী দাপিয়ে বেড়াতে শুরু করেছে। সেই তুলনায় শহরে কেন্দ্রীয় বাহিনীর সংখ্যা কম। সঙ্গে আছে বুলেট প্রুফ হেভি গাড়ি, নাশকতা প্রতিরোধের জন্য তৈরি বেশকিছু শক্তপোক্ত গাড়ি। মঙ্গলবার সকাল থেকেই গ্রামীণ হুগলিতে সেগুলি নিয়ে কার্যত প্রদর্শনী শুরু করেছে জেলা নির্বাচন দপ্তর। পরিস্থিতি দেখে হুগলির প্রবীণ বাসিন্দারাও বলছেন, এমন প্রস্তুতির বাহার তাঁরা কখনো দেখেননি। দিগসুঁইয়ের প্রবীণা পূর্ণিমা সোরেন বলেন, এত সব গাড়ি কেনে নামাইছে কে জানে! কেমন একটা যুদ্ধ যুদ্ধ লাইগছে। সঙ্গী মহিলাদের বলেন, তুরা আগে দেখেছিস? সকলেই জানালেন তাঁরা দেখেননি। তবে আয়োজনের বহরটা দেখতে যে বেশ লাগছে তা নিজেদের মধ্যে হাসাহাসি করতে করতে জানিয়ে দিলেন। 
জেলাজুড়ে যতই হাসাহাসি হোক, নির্বাচন কমিশনের কর্তাদের দাবি, নাগরিকদের ভোটদানে অভয় দিতেই আয়োজন করা হয়েছে। যাতে কোথাও কোনোভাবে নাগরিকদের ভোটদানে অনীহা তৈরি না-হয়। চণ্ডীতলার এক চা-দোকানি অবশ্য বলেন, ভয় ভাঙাতে যা করা হচ্ছে তা দেখেই ভয় হচ্ছে। মনে হচ্ছে—ভোট দিতে নয়, যুদ্ধপরিস্থিতির মধ্যে বুধবার লাইনে দাঁড়াব। চায়ের দোকানের এক ক্রেতা তখনই ফুট কেটে বললেন, আরে কাকা, বেশ একটা কাশ্মীর, কাশ্মীর অনুভব হচ্ছে! সেটা তো অস্বীকার করতে পারবে না। 
সিঙ্গুরের একটি নাট্যদলের তরুণ পরিচালক সৃজিত ঘোষ বলেন, গত সাতবছরের ইতিহাস বলে, তারকেশ্বর থেকে চণ্ডীতলা পর্যন্ত নির্বাচনের দিন এক ফোঁটা রক্ত ঝরেনি। গ্রামীণ হুগলিতে ভোট মানেই উৎসব। কিন্তু এবার যেন সত্যিই যুদ্ধ যুদ্ধ লাগছে। মঙ্গলবার দিনভর হুগলি মেতে ছিল ‘যুদ্ধ এসেছে’ চর্চায়। নেটে এবং হেঁটে, পথেঘাটে—প্রায় সর্বত্র।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ