শ্যামলেন্দু গোস্বামী, হাকিমপুর সীমান্ত (বসিরহাট): শেখ হাসিনা ও ইউনুসের সংঘাত পর্বে ভারতে গা ঢাকা দেন আওয়ামি লিগ নেতা কাজল দাস। এসআইআর পর্বে তিনিও দেশে ফিরছেন। বাংলাদেশে ফিরে বাঁচতে পারবেন কি না, বুঝতে পারছেন না। তবুও বিদেশের ডিটেনশন ক্যাম্পের চেয়ে দেশের মাটিতে ফিরে মৃত্যুও ভালো, এমনটাই মনে করছেন কাজলবাবু। বললেন, ‘মরতে হলে দেশেই মরব।’ শুক্রবার তিনি হাকিমপুর সীমান্তে অপেক্ষা করছিলেন দেশে ফেরার জন্য। সঙ্গে ছিল তাঁর পঞ্চাশোর্ধ্ব দাদা ও ১০ বছরের ছেলে।
এসআইআরের ফর্ম পূরণ পর্ব শেষ পর্যায়ে। এই পরিস্থিতিতে বসিরহাটের স্বরূপনগর সীমান্তে হাকিমপুরে কমেছে, বাংলাদেশে অনুপ্রবেশকারীদের দেশে ফেরার সংখ্যা। সপ্তাহখানেক ধরে সংখ্যাটা অনেকটাই কম। যাঁরা রয়েছেন, তাঁদের সিংহভাগ মানুষের কাছে নেই কোনও ভারতীয় নথি। বিএসএফকে বাংলাদেশের কাগজপত্র জমা দিচ্ছেন। সে সব নথিপত্র খতিয়ে দেখে সন্ধ্যার পর তাঁদের পুশব্যাক করাচ্ছে বিএসএফ। শুক্রবার হাকিমপুর চেকপোস্টের সামনে দাঁড়িয়ে ছিলেন ইপসা মল্লিক। তিনি কাজ করতেন বর্ধমানে। আসল বাড়ি সাতক্ষীরায়। বললেন, খারাপ হয়েছে লুকিয়ে আসা। এবার বাড়ি ফিরছি। ভারতে এসেছিলাম কাজের জন্য। এসআইআর হচ্ছে, তাই চলে যাচ্ছি।
বাংলাদেশের নোড়াইলের বাসিন্দা কাজল দাস। সক্রিয়ভাবে আওয়ামি লিগের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। হাসিনা সরকারের পতনের পর তিনি ‘টার্গেট’ হন। বাড়ির একাংশ ভাঙচুর করা হয়। বিভিন্ন জিনিসপত্র তছনছ করে দেয় ইউনুস অনুগামীরা। সেই সময়ই চোরাপথে দালাল ধরে ভারতে চলে আসেন তিনি। পরিচিতের মাধ্যমে বারাসতের কলোনি মোড় লাগোয়া একটি টেলারিংয়ের দোকানে কাজে ঢোকেন। এসআইআর শুরু হতেই দোকান মালিক তাঁকে দেশে ফিরে যেতে বলেন। সেই মতোই ফিরে যাওয়ার অপেক্ষায় তিনি। এদিন হাকিমপুর সীমান্তের একদিকে দাঁড়িয়ে কাজল বললেন, আমার স্ত্রী অনেক বছর আগে মারা গিয়েছেন। ছেলে বাংলাদেশে ওর জেঠুর কাছে থাকত। মাস দু’য়েক আগে হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়ে। আমার দাদা বিশ্বজিৎ দাস ছেলেকে নিয়ে এপারে চলে আসেন। আমার বাড়িতেই কোনওরকমে থাকছিলাম। ছেলে একটু সুস্থ হয়েছে। তাই এই পরিস্থিতিতে দেশে ফিরছি। এখন তো সহজে ফেরা যাবে না। তাই, হাকিমপুর চেকপোষ্টে অপেক্ষা করছি। কাগজপত্র জমা দিয়েছি। কবে ফিরব বুঝতে পারছি না। গলার স্বর নামিয়ে কাজলবাবু বললেন, ‘একটু ভয় তো হচ্ছেই। তবুও দেশে ফিরছি।’ এদিকে, বারাসতের গোলাবাড়িতে রংয়ের কাজ করতেন গোলাম সিদ্দিকি। তাঁরও বাড়ি সাতক্ষীরা জেলায়। তিনিও বলছেন, চোরাপথে ভারতে এসেছি। এখন পরিস্থিতি খারাপ। তাই সব কিছু নিয়ে পালাচ্ছি। দুই মেয়ে ও স্ত্রীকে নিয়ে ভাড়া বাড়িতে থাকতাম। বিএসএফ কখন ওপারে পাঠাবে সেই অপেক্ষায় রয়েছি।