নিজস্ব প্রতিনিধি, বরানগর: অভিন্ন হৃদয় বন্ধু। প্রায় পাঁচ বছর ধরে একই বাড়িতে বসবাস। সন্ধ্যা হলেই একই সঙ্গে খাবার খাওয়া, মান-অভিমান, মদ্যপান ছিল রোজনামচা। আচমকা, মদ্যপ অবস্থায় বচসা ও হাতহাতি থেকে এক বন্ধু খুন করলেন অপর বন্ধুকে। খুনের পর সেই বন্ধু আবার থানায় গিয়ে পুলিশকে ডেকে আনলেন মৃতদেহ উদ্ধারের জন্য। এমনই অজব কাণ্ড ঘটেছে সোদপুরে।
পুলিশ জানিয়েছে, মৃতের নাম বাবু ঘোষ (৬০)। অভিযুক্ত আশিস বন্দ্যোপাধ্যায় ওরফে বাপিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। সোমবার সকালে পানিহাটি পুরসভার ২ নম্বর ওয়ার্ডের সোদপুর সুখচরে ডক্টর গোপাল চট্টোপাধ্যায় রোডের ঘটনায় চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়েছে।
জানা গিয়েছে, প্রৌঢ় বাপি ও বাবু একে অপরের প্রতিবেশী। দু’জনই অবিবাহিত। গত প্রায় পাঁচ বছরেরও বেশি সময় ধরে আশিসের বাড়িতেই দুই বন্ধু একসঙ্গে থাকতেন। দুজনই পেশায় রং মিস্ত্রি। তারা একসঙ্গে কাজেও যেতেন। দুজনের বন্ধুত্বের সম্পর্ক অত্যন্ত গাঢ় ছিল। দুজনের মধ্যে ঝামেলা হত, আবার মিটে যেত। সন্ধ্যা হলেই মদ্যপানের আসরে বসত। রান্না করে নিজেরাই খাবার খেতেন। আবার তাঁদের মধ্যে প্রায়শই ঝগড়া-ঝামেলা হত। সোমবার সকালে অভিযুক্ত আশিস পাশের ঘরে থাকা ভাইয়ের বউ প্রতিমাদেবীর কাছে গিয়ে ফোন চান। কিন্তু তিনি ফোন দিতে রাজি না হওয়ায় কিছুক্ষণ পরেই তাঁকে থানায় ফোন করতে বলেন। কারণ জানতে চাইলে আশিস তাঁকে নিজের বাড়িতে ডেকে নিয়ে যান।
দেওরের কথা শুনে প্রতিমাদেবী ওই ঘরে যান। বাইরে থেকে দরজা খুলতে ঘরের মেঝেতে বিবস্ত্র ও রক্তাক্ত অবস্থায় বাবুর দেহ পড়ে থাকতে দেখেন। প্রতিমাদেবী বলেন, দরজা খুলতেই আমি দেখি রক্তে ভেসে যাচ্ছে ঘর। মরে পড়ে রয়েছে বাবু। রক্ত দেখে আমি নিজেকে সামলাতে না পেরে মাথা ঘুরে পড়ে যাই। এরপর আশিস নিজেই খড়দহ থানায় গিয়ে খবর দেন। পুলিশ এসে ঘর থেকে বাবুর দেহ উদ্ধার করে। ওইসময় পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে আশিস খুনের কথা প্রকাশ্যে স্বীকার করেন। বলেন, মদ খেয়ে বাপি আমাকে মারধর করছিল। তখন পাল্টা হাতুড়ি দিয়ে আমি ওর মাথায় মারি। তাতেই ও মরে যায়। কোন হাতুড়ি দিয়ে মেরেছে সেটাও সে দেখিয়ে দেয়। প্রতিবেশী বর্ণালী চট্টোপাধ্যায় বলেন, ওরা মদ খেয়ে প্রায়ই অশান্তি করত। রাতে কী হয়েছে, সেটা আমরা জানি না। পুলিশ কমিশনার অমিতকুমার সিং বলেন, ধৃত ও মৃত ব্যক্তি পরস্পরের বন্ধু ছিলেন। নিজেদের মধ্যে কোনো বিষয় নিয়ে বচসা বা ঝামেলা হয়েছিল। প্রাথমিক তদন্তে অনুমান মদ্যপ অবস্থায় সেই ঝামেলার জেরেই এই ঘটনা ঘটেছে। তদন্ত চলছে।