ইতিহাসে ভিড় করে আছে নানা যুদ্ধের কাহিনি। রক্তস্নাত পথ পেরিয়ে উত্থান হয়েছে নতুন শাসকের। কোনও শাসকের ঠাঁই হয়েছে অতীতের পাতায়। আবার বাধ্য হয়ে রাজারা শত্রুর সঙ্গে সন্ধিও করে নিয়েছেন। এমনই একটি চুক্তি বদলে দিয়েছিল ভারতের ইতিহাসের গতিপথ। ক্রমে এদেশে বণিকের মানদণ্ড দেখা দিল রাজদণ্ড রূপে। ১৯৫৬ সাসের ফ্রেব্রুয়ারি মাস। বাংলার সিংহাসনে বসেন সিরাজদৌল্লা। তাঁকে ঘিরে তখনও চলছে নানা চক্রান্ত। যাতে জড়িত ছিলেন তাঁর আশেপাশের লোকজন। তাতে ইন্ধন দিচ্ছিল ইংরেজরা। সে সময় ফরাসিদের সঙ্গে টক্কর দিতে কলকাতায় ফোর্ট উইলিয়াম দূর্গ সংস্কার করে ইংরেজরা। তাতে ক্ষুব্ধ ছিলেন তরুণ নবাব। এর মধ্যে সিরাজের বিরুদ্ধে চক্রান্তকারী ঢাকার দেওয়ান রাজা রাজবল্লভের ছেলে কৃষ্ণদাস ফোর্ট উইলিয়াম দূর্গে আশ্রয় নিলে আরও ক্ষুব্ধ হন তিনি। ইংরেজদের শিক্ষা দিতে কলকাতা আক্রমণ করেন সিরাজ। ২০ জুন কলকাতা দখল করে নবাবের বাহিনী। কলকাতা দখল করে আলিবর্দী খাঁর নামে সিরাজ শহরের নতুন নাম দেন আলিনগর।
Advertisement
কিন্তু এই জয়ের পরেও স্বস্তিতে ছিলেন না সিরাজ। আফগান আক্রমণের ভয়ে কাঁটা হয়েছিলেন তিনি। এই পরিস্থিতিতে ১৭৫৭ সালের ৯ ফেব্রুয়ারি অনিচ্ছা সত্ত্বেও ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির সঙ্গে চুক্তি করতে বাধ্য হন। যা আলিনগর সন্ধি নামে পরিচিত। এই চুক্তির মাধ্যমে নবাবের প্রতি আনুগত্য প্রকাশ করেছিল ইংরেজরা। বিনিময়ে ব্যবসায় নিরঙ্কুশ সুবিধা পায় তারা। স্বভাবতই এই চুক্তি ইংরেজদের প্রভাব বিস্তারের পথ খুলে দিয়েছিল। সেই সুযোগ কাজে লাগিয়েই তারা সিরাজের পতনের বীজ বুনেছিল। ওই বছরেরই জুনে পলাশির প্রান্তরে পরাস্ত হয় সিরাজের সেনা। শুরু হয় ঔপনিবেশিক শাসন।



