নিজস্ব প্রতিনিধি, নয়াদিল্লি: তামিলনাড়ুর ভোটে পালাবদলের পর বিধায়কদের দলছাড়ার হিড়িকে সংকটে এআইএডিএমকে। জোট শরিকের এই দুর্দশায় অস্বস্তিতে বিজেপি। পশ্চিমবঙ্গে ফলপ্রকাশের এক মাসের মধ্যেই ভাঙনে জেরবার শাসক তৃণমূল কংগ্রেস। তামিলনাড়ুতে অবশ্য পরিস্থিতি কিছুটা ভিন্ন। সেখানে পরাজিত প্রাক্তন শাসক দল ডিএমকে অটুট। তাদের একাংশ বিজেপির সঙ্গে জোটের পক্ষে। কিন্তু ওই রাজ্যে এখন বিজয়-হাওয়া তুঙ্গে। সুপারস্টার বিজয় এককভাবে গরিষ্ঠতা না পেলেও এখন তাঁর সরকারে যোগ দিতে বিভিন্ন দলের বিধায়করাই উদগ্রীব। এরমধ্যে সবচেয়ে দ্রুত ভাঙছে প্রয়াত জয়ললিতার দল এআইএডিএমকে। এই দল থেকে প্রায় নিয়ম করে প্রতিদিন একে একে বিধায়করা চলে যাচ্ছেন। দলত্যাগবিরোধী আইন থেকে রক্ষা পেতে তাঁরা সরাসরি টিভিকে দলে যোগ দিচ্ছেন না। তবে জানিয়ে দিচ্ছেন, তাঁরা বিজয়ের দল টিভিকের সঙ্গেই আছেন। দক্ষিণের এই রাজ্যে বিজেপির শক্তি সেরকম উল্লেখযোগ্য নয়। এআইএডিএমকের সঙ্গে হাত মিলিয়ে এবার ডিএমকে সরকারকে ক্ষমতা থেকে সরানোর আশা করেছিল গেরুয়া শিবির। কিন্তু বিজয় যে এভাবে গোকুলে বাড়ছেন, তা টের পাননি নরেন্দ্র মোদি, অমিত শাহের ভোট ম্যানেজাররা। আর ভোটের পর যেভাবে জোটসঙ্গী এআইএডিএমকে ছন্নছাড়া হয়ে যাচ্ছে, সেটি সবথেকে বেশি চিন্তায় ফেলেছে বিজেপিকে। কারণ এখনও পর্যন্ত ওই রাজ্যে বিজেপির যা শক্তি তাতে একটা অন্তত বড়োসড়ো তামিল দ্রাবিড় আঞ্চলিক দলের সঙ্গে থাকতেই হবে। কিন্তু এআইএডিএমকে যেভাবে তাসের ঘরের মতো ভাঙছে, তা বিজেপিকে সংকটে ফেলেছে। কারণ, ডিএমকে জনপ্রিয়তা হারিয়েছে। সুতরাং তাদের সঙ্গে জোট করা হলেও কাঙ্ক্ষিত সাফল্য ভবিষ্যতে আসবে কিনা সন্দেহ। অতএব আপাতত তামিলনাড়ুতে দিশাহীন দশা বিজেপির।



