Bartaman Logo
২২ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

নথি ছাড়াই অ্যালার্জির ইঞ্জেকশন ও সিরিঞ্জ মজুত, হরিরামপুরে গ্রেপ্তার ১

হরিরামপুরে ৪১টি অ্যালার্জির ইঞ্জেকশন মজুত রাখার অভিযোগে তাসিরুল ইসলামকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। অবৈধ বিক্রি রুখতে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

নথি ছাড়াই অ্যালার্জির ইঞ্জেকশন ও সিরিঞ্জ মজুত, হরিরামপুরে গ্রেপ্তার ১
  • ২২ জুন, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

সংবাদদাতা, গঙ্গারামপুর: বৈধ ওষুধকে নেশার উপকরণ হিসেবে ব্যবহার করার অভিযোগে হরিরামপুর থানার পুলিশের হাতে গ্রেপ্তার এক যুবক। ধৃতের নাম তাসিরুল ইসলাম (২৭)। তাঁর বাড়ি হরিরামপুর থানার বলদু এলাকায়।

Advertisement

শনিবার রাতে হরিরামপুর থানার পুলিশ সৈয়দপুরের বলদু এলাকায় অভিযুক্তের বাড়িতে তল্লাশি চালায়। তল্লাশিতে পুলিশ প্রায় ৪১টি অ্যালার্জির ইঞ্জেকশন এবং ৯০টি সিরিঞ্জ উদ্ধার করে। এত বিপুল পরিমাণ ইঞ্জেকশন মজুত রাখার বৈধ নথি দেখাতে না পারায় তাসিরুলকে গ্রেপ্তার করা হয়।
একই দিনে সৈয়দপুরের নয়াপাড়ায় সাইফুল ইসলামের বাড়িতে অভিযান চালিয়ে ২০০টি অ্যালার্জির ইঞ্জেকশন উদ্ধার করা হয়। তবে পুলিশের উপস্থিতির খবর পেয়ে অভিযুক্ত আগেই এলাকা ছেড়ে পালিয়ে যায়।
পুলিশ ড্রাগ অ্যান্ড কসমেটিকস আইনে মামলা রুজু করে ধৃতকে গঙ্গারামপুর মহকুমা আদালতে তোলে। বিচারক অভিযুক্তকে ৭ দিনের পুলিশ হেপাজতের নির্দেশ দিয়েছেন।
সম্প্রতি হরিরামপুর ব্লকের বিভিন্ন এলাকায় বৈধ অ্যালার্জির ইঞ্জেকশন এবং ব্যথার ওষুধ অবৈধভাবে মজুত করে যুব সমাজের মধ্যে নেশার সামগ্রী হিসেবে বিক্রি করা হচ্ছে। চলতি মাসেই মেহেন্দিপাড়ায় একটি গাড়িতে তল্লাশি চালিয়ে বিপুল পরিমাণ ব্যথার ওষুধ উদ্ধার করেছিল পুলিশ। তদন্তকারীদের দাবি, মেহেন্দিপাড়াকে করিডোর হিসেবে ব্যবহার করে এই ওষুধ জেলার বিভিন্ন প্রান্তে ছড়িয়ে পড়ছিল।
ব্যথার ওষুধ ও অ্যালার্জির ইঞ্জেকশন যেভাবে অসাধু ব্যবসায়ীদের হাতে পৌঁছে যাচ্ছে, তাতে উদ্বেগ বাড়ছে জেলা ড্রাগ কন্ট্রোল প্রশাসনের। সূত্রের দাবি, একসময় কাফ সিরাপ নেশার কাজে ব্যবহার ও সীমান্ত পেরিয়ে পাচার করা হতো। বর্তমানে সেই কারবারে কড়াকড়ি বাড়ায় পাচারকারীরা নতুন পথ বেছে নিয়েছে। ব্যথার ওষুধ ও অ্যালার্জির ইঞ্জেকশনকে নেশার উপকরণ হিসেবে ব্যবহার করে নতুন চক্র সক্রিয় হয়ে উঠছে। তদন্তে উঠে এসেছে, পুলিশের হাতে ধরা পড়া অধিকাংশ ওষুধ বিহার ও ঝাড়খণ্ড হয়ে জেলায় প্রবেশ করছে। পরে ক্যারিয়ারদের মাধ্যমে জেলার বিভিন্ন এলাকায় পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে এবং শেষ পর্যন্ত বাংলাদেশে পাচারের চেষ্টা চলছে। তবে অধিকাংশ ক্ষেত্রে ক্যারিয়াররা ধরা পড়লেও চক্রের মূল পান্ডাদের নাগাল পাওয়া যাচ্ছে না।
জেলা ড্রাগ অফিসের এক আধিকারিক জানান, পুলিশকে সঙ্গে নিয়ে পরিকল্পিতভাবে বিশেষ অভিযান চালানো হবে। অধিকাংশ ওষুধ জেলার বাইরে থেকে আসায় মূল চক্রীদের চিহ্নিত করা কঠিন হচ্ছে। যুব সমাজকে বাঁচাতে ওষুধের অবৈধ বিক্রি রুখতে আরও কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ