নিজস্ব প্রতিনিধি, বারাসত: সরকারি ত্রাণসামগ্রী নিজের বাড়িতে মজুত রাখার অভিযোগে পুলিশি হেপাজতে গোবরডাঙা পুরসভার প্রাক্তন চেয়ারম্যান সুভাষ দত্ত। মঙ্গলবার বারাসত আদালতে তোলা হলে তাঁকে চারদিনের পুলিশি হেপাজতে পাঠানোর নির্দেশ দেন বিচারক। মঙ্গলবার সুভাষকে আদালতে হাজির করানোর খবর পেয়ে বিজেপি কর্মীরা ডিম নিয়ে জড়ো হন। তবে পুলিশ পিছনের গেট দিয়ে সুভাষকে আদালতে নিয়ে আসে। ফলে ডিমথেরাপি প্রয়োগ করতে পারেনি বিজেপি!
২০১০ থেকে ২০২০ পর্যন্ত গোবরডাঙা পুরসভার চেয়ারম্যান ছিলেন সুভাষ। পরের দু’বছর প্রশাসক হিসাবেও দায়িত্ব সামলান তিনি। ২০২২ সালের পুরভোটে দল তাঁকে টিকিট না দেওয়ায় ৬ নম্বর ওয়ার্ড থেকে নির্দল প্রার্থী হয়ে জেতেন। অন্য কাউন্সিলারদের মতো তিনিও রাজ্য সরকারের ত্রাণসামগ্রী পেয়েছিলেন। তাঁর বাড়ির গ্যারাজ থেকে সোমবার ১০টি ত্রিপল এবং ৮-১০টি কম্বল উদ্ধার হয়। চিকিৎসার জন্য আড়াই মাস গোবরডাঙার বাইরে থাকার পর বাড়ি ফিরে গত ১৫ জুলাই নির্দল কাউন্সিলার পদ থেকে ইস্তফা দেন তিনি। এরপর পুরসভার হেড ক্লার্ক জগন্নাথ দাস ও মেডিকেল অফিসার নারায়ণচন্দ্র করকে ফোন করে ত্রাণসামগ্রী নিয়ে যেতে বলেছিলেন বলে সুভাষের দাবি। কিন্তু পুরসভার তরফে সেগুলি নেওয়া হয়নি। সুভাষের বক্তব্য, হেড ক্লার্ক ও মেডিকেল অফিসারকে ত্রাণসামগ্রী নিয়ে যেতে বলেছিলাম। জানানোর পরেও যদি না নিয়ে যাওয়া হয়, তাহলে এটা যে চক্রান্ত, সেটা বুঝতে অসুবিধা হয় না। এরপর গোবরডাঙা থানায় অভিযোগ দায়ের হয়। বিজেপির মণ্ডল সভাপতি আশিস বন্দ্যোপাধ্যায়ের দাবি, বিজেপির কেউ অভিযোগ করেননি। বারাসত পুলিশ জেলার সুপার জে মার্সি বলেন, সরকারি ত্রাণসামগ্রী মজুতের অভিযোগে সুভাষ দত্তকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।