সংবাদদাতা, কাকদ্বীপ: গ্রামে ভালো কোনো রাস্তাই নেই। নামখানা ও কাকদ্বীপে যেতে হলে গ্রামবাসীদের বিপজ্জনকভাবে যাতায়াত করতে হয়। ছোটো ডিঙি নৌকা করে হাতানিয়া দোয়ানিয়া নদী পেরিয়ে মদনগঞ্জ থেকে ছোটো গাড়ি ধরে বিভিন্ন জায়গায় যেতে হয়। অথচ কাকদ্বীপ বিধানসভার নারায়ণপুর গ্রাম পঞ্চায়েতের ঈশ্বরীপুর গ্রামটি কোনো বিচ্ছিন্ন দ্বীপ নয়। এই গ্রাম থেকে সরাসরি হাঁটা পথে নামখানায় যাওয়া যায়। কিন্তু গ্রামে কোনো রাস্তাই আর ভালো অবস্থায় নেই। তাই যাতায়াতের ক্ষেত্রে গ্রামবাসীরা খুবই সমস্যার মধ্যে পড়েছেন। এবার সরকার পরিবর্তন হতেই তাঁরা কাকদ্বীপের বিধায়ক তথা সুন্দরবন উন্নয়ন দপ্তরের মন্ত্রী দীপঙ্কর জানার কাছে গ্রামে একটি ভালো রাস্তা তৈরি করে দেওয়ার জন্য আবেদন জানিয়েছেন।
জানা গিয়েছে, প্রায় ৩৫ বছর আগে নদীবাঁধের উপর ইট পেতে একটি রাস্তা তৈরি করা হয়েছিল। বর্তমানে সেই রাস্তাটির প্রায় সব জায়গায়ই ভেঙে গিয়েছে। পাশাপাশি নদীবাঁধ ভেঙে যাওয়ার কারণে রাস্তাও সরু হয়ে গিয়েছে। সাইকেল চালিয়ে যাওয়া তো দূরের কথা, এখন হেঁটেও রাস্তাটি দিয়ে যাতায়াত করা যায় না। গ্রামবাসীদের অভিযোগ, রাতে এই রাস্তা দিয়ে যাওয়ার কথা ভাবাই যায় না। এছাড়াও এক পশলা বৃষ্টি হলেই পুরো রাস্তা কাদা হয়ে যায়। তখন একদমই হাঁটাচলা করা যায় না।
এবিষয়ে স্থানীয় এক বাসিন্দা প্রতিমা দাস বলেন, বর্ষাকালে এই গ্রামের ছাত্র-ছাত্রীরা কেউ স্কুলে যেতে পারে না। এমনকী গ্রামের কোনো বাসিন্দা অসুস্থ হয়ে পড়লে তাঁকে অ্যাম্বুলেন্সে অথবা টোটোতে করে হাসপাতালেও নিয়ে যাওয়া যায় না। প্রায় এক ঘণ্টা নৌকা চালিয়ে নারায়ণপুরে যেতে হয়। তারপর সেখান থেকে আবার গাড়ি করে হাসপাতালে নিয়ে যেতে হয়। তাই নতুন সরকারের মন্ত্রীর কাছে গ্রামের ভিতর দিয়ে একটি রাস্তা তৈরি করে দেওয়ার জন্য আবেদন জানানো হয়েছে। সুন্দরবন উন্নয়ন দপ্তরের মন্ত্রী দীপঙ্কর জানা এনিয়ে বলেন, ঈশ্বরীপুর গ্রামে রাস্তার সমস্যার কথা জানি। গ্রামবাসীরা একটি রাস্তা তৈরি করে দেওয়ার জন্য আবেদন জানিয়েছেন। আগামী দিনে নিশ্চিতভাবে ওই গ্রামে ভালো রাস্তা তৈরি করে
দেওয়া হবে। নিজস্ব চিত্র