


সংবাদদাতা, বসিরহাট: পরিবর্তনের পরে সরকারি নির্দেশ আসতেই বন্ধ হয়ে গেল অবৈধ টোল প্লাজাগুলি। স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলছেন গাড়ি চালকরা। বসিরহাট মহকুমায় বিভিন্ন পঞ্চায়েত ও পুরসভা এই টোল প্লাজা বন্ধ করে দেয়। একই চিত্র দেখা গেল বাদুড়িয়া পুরসভার একাধিক টোল প্লাজায়। পুরসভা একটি এজেন্সিকে টোলের দায়িত্ব দিয়েছিল টাকা আদায়ের জন্য। তারাই চালকদের কাছে থেকে জোর করে টাকা আদায় করত, কেউ দিতে না চাইলে গাড়ি বাজেয়াপ্ত করারও হুমকি দেওয়া হতো।
মঙ্গলবার সরকারি নির্দেশ আসার পর খালি হতে শুরু করে টোল প্লাজাগুলি। একে একে সব টোল প্লাজা বন্ধ হয়ে যাওয়ায় খুশির আবহ চালক মহলে। বাদুড়িয়া কৃষিভিত্তিক এলাকা, এখানে শাক-সবজি মাছ ও পোল্ট্রি মুরগি পালনও হয়। ফলে এই এলাকায় প্রতিদিন শ’খানেক পণ্যবাহী গাড়ি চলাচল করে। এইসব গাড়ি থেকে টোলের নাম করে চলত জোরজবস্তি টাকা আদায়। যেকারণে শুধু চালক নয়, সাধারণ কৃষকদেরও বাড়তি টাকা গুনতে হতো। স্থানীয় কৃষক রতন দাস বলেন, আমি দীর্ঘদিন ধরে বাদুড়িয়া এলাকার বিভিন্ন হাট থেকে সবজি নিয়ে কলকাতার শিয়ালদহে গিয়ে বিক্রি করি। এতদিন যাতায়াতের জন্য দিতে হতো টোল ট্যাক্স, টাকা দিতে না পারলে ঘণ্টার পর ঘণ্টা আটকে রাখত গাড়ি। মুখ্যমন্ত্রীর এই যুগান্তকারী সিদ্ধান্তকে আমরা ধন্যবাদ জানাচ্ছি। একইভাবে মুখ্যমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন গাড়িচালক রবিউল ইসলাম। তিনি বলেন, বর্তমানে গাড়ি ভাড়া, জ্বালানির দাম মেটানোর পর আমাদের হাতে কিছুই থাকে না। তার উপর কিছু লোক টোলের নাম করে অতিরিক্ত টাকা আদায় করায় আমরা রীতিমতো অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছিলাম। প্রতিবাদ করলেও শোনার কেউ ছিল না।
বিজেপির বসিরহাট সাংগঠনিক জেলার নেতা বিশ্বজিৎ দাস বলেন, আমাদের সংকল্প একটাই, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি বলেছেন— না খাব, না খেতে দেব। দুর্নীতির প্রশ্নে সরকার ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি নিয়েছে। এই মন্ত্রকে পাথেয় করেই আমরা এগিয়ে চলেছি। গত ১৫ বছরে এই অবৈধ টোল প্লাজাগুলি হয়ে উঠেছিল দুর্নীতির স্বর্গরাজ্য। আমি রাজ্য সরকারকে অনুরোধ করব, তদন্তকারী এজেন্সিকে দিয়ে এদের বিরুদ্ধে তদন্ত কমিশন বসানো হোক এবং টোলের টাকা যারা আত্মসাৎ করেছে, তাদের আইনের আওতায় এনে কঠোর থেকে কঠোরতম সাজা দেওয়া হোক। এই বিষয়ে ফোনে জিজ্ঞাসা করলে বাদুড়িয়া পুরসভার তরফে কেউ মুখ খোলেননি।