সংবাদদাতা, আলিপুরদুয়ার: শনিবার রাত থেকে ডুয়ার্সে এবং ভুটান পাহাড়ে ভারী বৃষ্টির জেরে ফুলেফেঁপে উঠেছে তোর্সা, কালজানি, সংকোশ, রায়ডাক, পানা, বাসরা, মুজনাই সহ আলিপুরদুয়ারের ছোটো বড়ো সব নদীই। হড়পা বানে উড়ে গিয়েছে জলদাপাড়া জাতীয় উদ্যানের সহকারী বন্যপ্রাণী সংরক্ষকের অফিস সংযোগকারী রাস্তায় হলং নদীর উপরে থাকা অস্থায়ী কাঠের সেতু। বনদপ্তরের ওই অফিস চত্বরেই আছে এলিফ্যান্ট স্কোয়াড, ক্যুইক রেসপন্স স্কোয়াড ও জলদাপাড়া ট্যুরিস্ট লজ। ওই চত্বরে রয়েছে উত্তর জলদাপাড়া রেঞ্জ অফিসও। এখন জঙ্গল বন্ধ থাকায় কোনো পর্যটক নেই। ফলে কোনো সমস্যা হওয়ার কথা নয়। তবে অস্থায়ী সেতুটি ভেসে যাওয়ায় রাতবিরেতে বনকর্মীদের লোকালয়ে হাতি তাড়ানোর কাজে যাওয়ার সময় বিস্তর ভোগান্তির মুখে পড়তে হতে পারে বলে আশঙ্কা।
প্রসঙ্গত, গত বছরের অক্টোবরের দুর্যোগেও ওই অস্থায়ী কাঠের সেতুটি ভেসে যাওয়ায় সেখানে পাকা সেতু তৈরির কাজ শুরু হয়েছিল। কিন্তু পরবর্তীতে কাজ বন্ধ করে দেয় পর্যটন দপ্তর। বনমন্ত্রী মনোজ ওরাওঁ বলেন, হড়পা বানে হলং নদীর উপর অস্থায়ী কাঠের সেতুটি উড়ে যাওয়ার খবর পেয়েছি। দ্রুত সেখানে সেতু তৈরির নির্দেশ দিয়েছি।
এদিকে, জল বেড়ে যাওয়ায় ফালাকাটার কাছে ফালাকাটা-আলিপুরদুয়ার ১৭ডি জাতীয় সড়কের উপর চর তোর্সা ও দোলং নদীর ডাইভারশনের ক্ষতি হয়েছে। যার দরুন দুর্ঘটনা এড়াতে আলিপুরদুয়ার থেকে ফালাকাটাগামী বেশিরভাগ যানবাহন কোচবিহারের পুণ্ডিবাড়ি হয়ে ঘুরপথে ফালাকাটা যাচ্ছে। আবার জলস্ফীতির কারণে কালচিনির সুভাষিণী চা বাগানের আউট ডিভিশনে তোর্সার ভাঙন শুরু হয়েছে। অন্যদিকে, পাহাড়ি খরস্রোতা নদী হাউড়ি, বাংরি ও তিথি নদী উত্তাল হয়ে উঠেছে। ফলে যানবাহন বন্ধ হয়ে মাদারিহাট থেকে ২২ কিমি দূরে টোটোপাড়া-বল্লালগুড়ি এলাকাটি যেকোনো মুহূর্তে বিচ্ছিন্ন হয়ে যেতে পারে বলে আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
এদিকে, কালজানি নদীর জল বেড়ে যাওয়ায় আলিপুরদুয়ার জেলা শহরে কালজানি নদীবাঁধের স্লুইস গেটগুলি রবিবার সকালে বন্ধ করে দেওয়া হয়। শহর থেকে কালজানির নদীবক্ষ উঁচু হওয়ার কারণে স্লুইস গেটগুলি বন্ধ করে রাখা হয়েছে। তবে জল নেমে যাওয়ায় দুপুরের দিকে ফের গেটগুলি খুলে দেওয়া হয়।