সংবাদদাতা, ইসলামপুর: চোপড়ার তৃণমূল বিধায়ক হামিদুল রহমানের সমস্ত পুরনো মামলা ‘রি-ওপেন’ করার নির্দেশ দিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। মুখ্যমন্ত্রীর এই বক্তব্যে রাজনৈতিক মহলে ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। বৃহস্পতিবার রায়গঞ্জের কর্ণজোড়ার সভার মঞ্চ থেকে পুলিশের উচ্চ পদস্থ আধিকারিকদের তিনি এই নির্দেশ দিয়েছেন। তৃণমূলের টিকিটে জয়ী হামিদুল এবারের নির্বাচনের পর প্রথমে ঋতব্রত তৃণমূল শিবিরে গেলেও, মঙ্গলবারই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রতি সম্পূর্ণ আস্থা ব্যক্ত করেছিলেন। যদিও হামিদুল নিজে দাবি করেছেন যে, তাঁর বিরুদ্ধে কোনো মামলাই নেই।
কর্ণজোড়ার জনসভায় হামিদুল রহমানের নাম না করে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, এসপি ইসলামপুর, ডিআইজি, আইজিকে বলে গেলাম, চোপড়ার কুখ্যাত গুণ্ডা, মাফিয়া বিধায়কের বিরুদ্ধে যত মামলা আছে তা রি-ওপেন করবেন। যত জমি লুট করেছে সব জমি উদ্ধার করবেন। আমি এর পরের মিটিং চোপড়া, ইসলামপুরে করব। আমি দেখতে চাই কত বড় মস্তান এই জেলাতে আছে? কত বড় বালি চোর, মাফিয়া এই জেলায় আছে?
হামিদুল চোপড়ার তিনবারের বিধায়ক। একদা তৃণমূলের দোর্দন্ডপ্রতাপ নেতা। তাঁর ভয়ে বাঘে গোরুতে এক ঘাটে জল খেত। এবারের নির্বাচনে রাজ্যে পালাবদল ঘটেছে। হামিদুল জয়ী হওয়ার পর ঋতব্রত শিবিরে যোগ দিয়েছিলেন। দু’দিন আগে তিনি দাবি করেছিলেন, ঋতব্রত নয়, এখন থেকে তিনি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের শিবিরে থাকবেন। তবে চোপড়ায় ভোট পূর্ববর্তী ও পরবর্তী হিংসার নজির কম নেই। খুন, আক্রমণ, সংঘর্ষ সবই হয়েছে বিগত সরকারের আমলে। সেই সমস্ত ঘটনায় যাঁরা ভুক্তভোগী তাঁদের অভিযোগ দায়ের করার আহ্বান জানান মুখ্যমন্ত্রী। বলেন, ২০২১-এর নির্বাচনের পর আর পঞ্চায়েত ভোটে যারা আপনাদের উপর অত্যাচার করেছে, তাদের বিরুদ্ধে নতুন করে এফআইআর করবেন। সবগুলিকে ইন্দ্রনীলের মতো জেলে ঢোকানোর ব্যবস্থা করব।
কিন্তু মুখ্যমন্ত্রীর এমন বক্তব্যের পরেও হামিদুল সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, তাঁর বিরুদ্ধে কোনো মামলাই নেই। বলেন, আমার বিরুদ্ধে একটিও মামলা নেই। বুদ্ধবাবুও বলেছিলেন হামিদুলকে জেল থেকে বের হতে দেব না। কোনো কেস থাকলে নিশ্চয় করবে। কারও চা বাগান যদি দখল করে থাকি, তা হলে তা নিয়ে নিক। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের শিবিরে আছি বলে ঘোষণা করেছি। তাই আমার বিরুদ্ধে এসব বলা হচ্ছে।



