Bartaman Logo
৩ জুন, ২০২৬
বর্তমান / ব্ল্যাকবোর্ড

মরুভূমির গরম হাওয়া

মরুভূমির গরম হাওয়া
  • ৩১ মার্চ, ২০২৫ ০৪:০০

 ঘিবলি বা জিবলি। আপাতত এতেই মজে গোটা দুনিয়া। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সাহায্যে নিজেদের ছবিকে বদলে নেওয়া যাচ্ছে বিশেষ অ্যানিমেশন স্টাইলে। কিন্তু এই ঘিবলি কী? কেনই বা এর এত জনপ্রিয়তা? এই বিশেষ ধরনের অ্যানিমেশন স্টাইলের কথা জানতে ফিরে যেতে হবে আটের দশকের জাপানে। উনিশ শতক থেকেই জাপানে কমিক বা গ্রাফিক নভেল জনপ্রিয় হয়ে ওঠে। পরবর্তী সময়ে শুরু হয় অ্যানিমেশন টিভি শো ও সিনেমা। সেই ধারা মেনেই ১৯৮৫ সালের ১৫ জানুয়ারি ঘিবলি স্টুডিও গড়ে তোলেন হায়াও মিয়াজাকি, ইসাও তাকাহাতা ও তোশিও সুজুকি। মিয়াজাকি ও তাকাহাতা ততদিনে জাপানি অ্যানিমেশন দুনিয়ায় দীর্ঘ সময় কাটিয়ে ফেলেছেন। তৈরি করেছেন বেশ কয়েকটি সিনেমা। কিন্তু অন্য কিছু করার নেশায় টোকিওয় আলাদা স্টুডিও খুললেন তাঁরা। ঘিবলি নামের মধ্যে ছিল সেই পরিবর্তনের বার্তা। ঘিবলি শব্দটি আদতে এসেছে লিবিয়ান আরবি থেকে। যার অর্থ ‘মরুভূমির গরম হাওয়া’। পরে এই শব্দটি ইতালীয় ও ইংরেজি ভাষাতেও যুক্ত হয়। ইতালির বায়ুসেনার একটি বিশেষ মডেলের যুদ্ধবিমানকে ডাকা হতো ‘ঘিবলি’ নামে। একদিকে, বিভিন্ন ধরনের বিমান নিয়ে ভালোবাসা ছিল মিয়াজাকির আর অন্যদিকে তিনি চেয়েছিলেন অ্যানিমেশন দুনিয়ায় নতুন বাতাস বইয়ে দিতে। সব মিলিয়ে নতুন স্টুডিওর নাম রাখা হল ‘ঘিবলি’। অ্যানিমেশনে উজ্জ্বল জল রঙের ব্যবহারে ঝড় তুলল ঘিবলি স্টুডিও। তৈরি হল ‘ক্যাসল ইন দ্য স্কাই’, ‘মাই নেবার তোতোরো’, ‘গ্রেভ অব দ্য ফায়ারফ্লাইজ’, ‘ওনলি ইয়েস্টারডে’, ‘স্পিরিটেড অ্যাওয়ে’, ‘প্রিন্সেস মনোনোকে’, ‘হাউল’স মুভিং কাসল’-এর মতো জনপ্রিয় অ্যানিমেশন সিনেমা। ১৯৯৬ সালে তাদের সঙ্গে জুটি বাঁধে বিখ্যাত ওয়াল্ট ডিজনি কোম্পানি। ২০১৩ সালে অবসর ঘোষণা করেছিলেন মিয়াজাকি। ২০২৩ সালে তিনি ফের ‘দ্য বয় অ্যান্ড দ্য হেরন’ অ্যানিমেশন সিনেমা নিয়ে ফিরে আসেন। সিনেমাটির লেখক ও পরিচালনার দায়িত্ব সামলেছিলেন মিয়াজাকি। জাপানের অ্যানিমেশন ইতিহাসে ‘দ্য বয় অ্যান্ড দ্য হেরন’ সর্বোচ্চ ব্যয়বহুল সিনেমা। কোনও প্রচার না হলেও বক্স অফিসে ঝড় তোলে সিনেমাটি। জিতে নেয় অস্কার, বাফটা অ্যাওয়ার্ড, গোল্ডেন গ্লোব অ্যাওয়ার্ড ও জাপানিজ ফিল্ম অ্যাকাডেমি পুরস্কার।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ