


সংবাদদাতা, আলিপুরদুয়ার: আগামী শনিবার ব্রিগেডে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সমাবেশ। স্বাভাবিকভাবেই জেলা থেকে হাজার হাজার কর্মী সমর্থক নিয়ে যাওয়ার জন্য প্রস্তুতি তুঙ্গে থাকার কথা। কিন্তু কোচবিহারের মতো একই ছবি ধরা পড়েছে দলের আলিপুরদুয়ার জেলা সভাপতি মিঠু দাসের কথাতেও। জেলা থেকে কত লোককে নিয়ে যাওয়া হবে এখনও তা চূড়ান্ত হয়নি। শুধু তাই নয়, কর্মীদের নিয়ে যাওয়ার জন্য ট্রেন ভাড়া করার কথা আগে জানানো হয়েছিল। কিন্তু ট্রেনের কতগুলি বগি ভাড়া করা হচ্ছে, কবে কোন স্টেশন থেকে সেই ট্রেন ছাড়বে তা নিয়েও মোদির সভার ৭২ ঘণ্টা আগে নির্দিষ্টভাবে কিছু বলতে পারছেন না জেলা সভাপতি। স্বাভাবিক কারণেই যাঁরা ব্রিগেডে যাওয়ার জন্য মুখিয়ে আছেন তাঁরাও কিছুটা হতাশ।
দল সূত্রে জানা গিয়েছে,আলিপুরদুয়ার থেকে কলকাতায় যেতে দলীয় কর্মী সমর্থকদের জন্য তিনটি ট্রেন ভাড়া করার পরিকল্পনা ছিল। কিন্তু বুধবার পর্যন্ত সেই ট্রেন চূড়ান্ত হয়নি,জানান পদ্ম শিবিরের আলিপুরদুয়ার জেলার সভাপতি। যদিও মিঠুবাবুর দাবি, ব্রিগেডে যাওয়ার জন্য মণ্ডল মণ্ডলে কর্মী তালিকা তৈরির কাজ চলছে। ট্রেনও এক-দু’দিনের মধ্যে চূড়ান্ত হয়ে যাবে।
সামনেই ভোট। তার আগে ব্রিগেডে মোদির জনসভা নিয়ে আলিপুরদুয়ারে বিজেপির কর্মীদের মধ্যে তেমন কোনো উন্মাদনাই চোখে পড়ছে না। ৬ মার্চ কোচবিহার থেকে বিজেপির পরিবর্তন যাত্রা আলিপুরদুয়ার জেলায় ঢোকে। ৭ তারিখ জটেশ্বরে বিজেপির এই যাত্রা শেষ হয়। কিন্তু জেলায় পদ্ম পার্টির পরিবর্তন যাত্রাকে ঘিরেও ভিড় লক্ষ্য করা যায়নি। জেলার চা বাগানগুলিতেও ছন্নছাড়া অবস্থা বিজেপির শ্রমিক সংগঠন বিটিডব্লুইউয়ের। বাগানে বাগানে কোনো কর্মসূচিই নেই তাদের।
ঠিক এই আবহেই আগামী শনিবার কলকাতার ব্রিগেডে প্রধানমন্ত্রীর সভা। সব মিলিয়ে ভোটের আগে আলিপুরদুয়ারে ল্যাজেগোবরে অবস্থা বিজেপির। দলের জেলা সভাপতি বলেন, জেলা থেকে ব্রিগেডে কত কর্মী সমর্থক যাবেন সেই সংখ্যাটা এখনই বলতে পারছি না। মণ্ডল মণ্ডলে তালিকা তৈরির কাজ চলছে। তবে আলিপুরদুয়ার জেলা থেকে একটা বিরাট সংখ্যক কর্মী সমর্থক ব্রিগেডে যাবেন। ব্রিগেডে যাওয়ার জন্য তিনটি ট্রেন ভাড়া করার পরিকল্পনা আছে। ওই সভায় যেতে জেলায় দলীয় কর্মীদের মধ্যে যথেষ্ট উন্মাদনা দেখছি। জেলায় দলের পরিবর্তন যাত্রাতেও যথেষ্ট ভিড় ছিল।
হাসিমারাতে অসামরিক বিমনাবন্দর, আলিপুরদুয়ার জংশনে রেলের জমিতে সুপার স্পেশালিটি হাসপাতাল ও বীরপাড়ায় আরওবি তৈরি সহ একাধিক উন্নয়নের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল বিজেপি। কিন্তু কোনো প্রতিশ্রুতিই রাখতে পারেনি তারা। একইভাবে প্রতিশ্রুতি দিয়েও দলগাঁও রেল স্টেশন থেকে ডলোমাইট সাইডিং অন্যত্র সরানোর কাজেও ব্যর্থ হয়েছে।