Bartaman Logo
১৯ জুন, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

আলিপুর অগ্নিকাণ্ড: কেরোসিন বা পেট্রলের অস্তিত্ব নেই, নাশকতার তত্ত্ব ওড়াল ফরেনসিক

আলিপুরে অগ্নিকাণ্ডের তদন্তে ফরেনসিক জানাল নাশকতার কোনো চিহ্ন নেই। শর্ট সার্কিটের মাধ্যমে আগুন লাগার সম্ভাবনা। বিস্তারিত পড়ুন।

আলিপুর অগ্নিকাণ্ড: কেরোসিন বা পেট্রলের অস্তিত্ব নেই, নাশকতার তত্ত্ব ওড়াল ফরেনসিক
  • ১৯ জুন, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

সুজিত ভৌমিক, কলকাতা: আলিপুর জেলা পরিষদ বিল্ডিংয়ে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় অন্তর্ঘাত বা নাশকতার তত্ত্ব কার্যত উড়িয়ে দিচ্ছে কলকাতা পুলিশ। ফরেনসিক বিশেষজ্ঞরা প্রাথমিক অনুসন্ধানে ঘটনাস্থলে নাশকতার কোনো চিহ্ন পায়নি। তবে আপাতত কলকাতা পুলিশ চূড়ান্ত রিপোর্টের জন্য অপেক্ষা করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কলকাতা পুলিশের এক সূত্র জানাচ্ছে, ‘ঘটনাস্থলে তন্ন তন্ন করে তল্লাশি চালিয়েও কেরোসিন, পেট্রল, ডিজেলের উপস্থিতি মেলেনি। যার ভিত্তিতে ফরেনসিক বিশেষজ্ঞরা একপ্রকার নিশ্চিত, বাইরে থেকে কিছু প্রয়োগ করে আগুন লাগানো হয়নি।’ এই অগ্নিকাণ্ডে বিভিন্ন নথিপত্র সহ মজুত রাখা ইভিএম পুড়ে যাওয়ায় নাশকতার সম্ভবনা জোরালো হয়ে ওঠে। এরপর একজন অ্যাসিস্ট্যান্ট কমিশনার সুখেন্দু মুখোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে চার সদস্যের বিশেষ তদন্তকারী দল বা ‘সিট’ গঠন করে কলকাতা পুলিশ। স্বভাবতই নাশকতার প্রমাণ না মেলায় সিট এই ঘটনায় কাউকে গ্রেপ্তার করেনি। আর পাঁচটা অগ্নিকাণ্ডের মতো তদন্তে নেমে ফরেনসিক বিশেষজ্ঞরা দফায় দফায় ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে নমুনা সংগ্রহ করেছেন। তাতেই ওঠে এসেছে কেরোসিন, পেট্রল, ডিজেলের মতো দাহ্য পদার্থের অস্তিত্ব নেই। প্রাথমিক তদন্তে ওঠে আসছে, আগুনের উৎসস্থল তিনতলায় ন্যাশনাল ইনফরমেটিক্স সেন্টার বা এনআইসি’র সার্ভার রুম। বিশেষ সূত্রের খবর, শর্ট সার্কিট থেকেই আগুন লেগেছে। কারণ, অগ্নিকাণ্ডের সময় সার্ভার রুমে এসি কাজ করছিল না। ফলে তীব্র গরমে সার্ভার রুমে আগুন লেগে যায়। আগুনের তাপে সার্ভার রুমের দাহ্য কেবল থেকে আগুন দ্রুত ছ঩ড়িয়ে পড়তে শুরু করে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, গরম ধোঁয়া সব সময় উপরের দিকে যায়। ফলে ধীরে ধীরে আগুনের তাপ এবং গরম ধোঁয়া বিল্ডিংয়ের উপরের তলায় ছড়িয়ে পড়ে। এভাবেই বহুতলের ন’তলায় আগুন ছড়িয়ে পড়ে। উল্লেখ্য, এই ন’তলায় মজুত করা ইভিএমের লিথিয়াম ব্যাটারি ইভিএম থেকে খোলা অবস্থায় বাইরে রাখা ছিল। আগুনের প্রবল তাপে প্রথমে লিথিয়াম ব্যাটারিতে আগুন লাগে। পরপর ফাটতে শুরু করে ব্যাটারি। এই বিপুল লিথিয়াম ব্যাটারি থেকে আগুন দ্রুত ইভিএমে ছড়িয়ে পড়ে। প্রত্যক্ষদর্শীদের সন্দেহ ছিল, দুপুরের পর আগুন কমে এলেও বিকেলে ন’তলায় আগুন পৌঁছলে, তা ফের বড়ো আকার নেয় কী করে। রসয়ানবিদরা জানাচ্ছেন, ‘লিথিয়াম ব্যাটারিতে আগুন লাগলে, ঘটনাস্থলে প্রচুর অক্সিজেন তৈরি হয়। ফলে আগুন দ্রুত বড়ো আকার নেয়।’ 

Advertisement
Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ