নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: আল কায়েদা ইন ইন্ডিয়ান সাবকন্টিনেন্টের (আকিস) হয়ে প্রচার এবং পাক গুপ্তচর সংস্থা আইএসআইয়ের হয়ে চরবৃত্তির অভিযোগে রবিবার রাতে কলকাতা ও লাগোয়া দক্ষিণ শহরতলি এবং উত্তরবঙ্গের দিনহাটা থেকে মোট চারজনকে গ্রেপ্তার করেছে বেঙ্গল এসটিএফ। এনজিওর আড়ালে আকিস ভাবাদর্শ প্রচার ও সোশ্যাল মিডিয়ায় লাগাতার ভারত বিরোধী পোস্ট করার অভিযোগে ভাঙরের বিজয়গঞ্জ বাজার থানার পানাপুকুর এলাকা থেকে জিন্নাতুল কিবরিয়া ওরফে টুটুল বেগ এবং নোদাখালি এলাকা থেকে মহম্মদ শফিককে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাদের সঙ্গে বাংলাদেশ ও আফগানিস্তানের হ্যান্ডলারদের যোগসূত্র মিলেছে বলে দাবি তদন্তকারীদের। আইএসআইয়ের চর পাক নাগরিক রানা রউফকে ভারতীয় নথি তৈরি করে দিয়েছিল ইমরান নামে যে ব্যক্তি, তাকেও তপসিয়া এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করেছে বেঙ্গল এসটি এফ। এরই পাশাপাশি দিনহাটার নাজিরহাটের বাংলাদেশ সীমান্তবর্তী দিঘলটারি গ্রাম থেকে পাক চর সন্দেহে মিঠু রহমান নামে একজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এরআগে উত্তরবঙ্গ থেকে পাকচর সন্দেহে তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছিল বেঙ্গল এসটিএফ। তাদের জেরা করেই মিঠুর হদিশ মেলে।
এসটিএফ আধিকারিকদের অফিসারদের নজরে আসছিল ‘মুঘলে আজম’ ও জিহাদ-ই-সাবিবিল্লাহ’ নামে ফেসবুকের দুটি অ্যাকাউন্ট থেকে লাগাতার ভারত বিরোধী প্রচার চলছে। করা হচ্ছে। সেখানে আল কায়দার মতাদর্শ নিয়ে প্রচার চলছে। ওই প্রোফাইল কে বা কারা খুলেছে, শুরু হয় ছানবিন। যে আইপি এড্রেস থেকে এটি চলছিল, তার নথি বের করে জানা যায়, মোবাইল ব্যবহার করে এই প্রোফাইল চালানো হচ্ছে। মোবাইলের সিমটি তোলা হয়েছে ভাঙরের বাসিন্দা টুটুল বেগের নামে। তদন্তে উঠে আসে টুটুল একটি গ্রুপ খুলেছে। যেখানে নোদাখালির বাসিন্দা শফিক নামে এক ব্যক্তি রয়েছে। বাংলাদেশ ও আফগানিস্তানের আকিস হ্যান্ডলারদের সঙ্গে এই দুজনের নিয়মিত কথা হচ্ছে। তদন্তে জানা যায়, টুটুল বছর পাঁচ আগে বিজয়গঞ্জ বাজার এলাকায় এসে বাড়ি ভাড়া নেয়। এখানে একটি এনজিও খুলেছিল। তার আড়ালে করছিল ভারত বিরোধী প্রচার। জেরায় টুটুল তদন্তকারীদের জানিয়েছে, বাংলাদেশ ও আফগানিস্তানের হ্যান্ডলারদের নির্দেশে শফিকের মগজধোলাই করে গ্রুপে শামিল করে। টুটুলের নেতৃত্বে এই রাজ্যে আকিস নতুন করে স্লিপার সেল তৈরির কাজ করছিল বলে খবর। টুটুল জেরায় জানিয়েছে, স্লিপার সেলের সদস্যদের চলতি মাসেই বৈঠকে বসার কথা ছিল। অপরদিকে, এসটিএফ সূত্রে জানা গিয়েছে, দিনহাটা থেকে গ্রেপ্তার হওয়া মিঠুনের বিরুদ্ধে ভারতীয় সিমকার্ড বাংলাদেশ হয়ে পাকিস্তানে পাচার করার অভিযোগ রয়েছে। পাশাপাশি জাল নোট পাচারের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে।