Bartaman Logo
২৭ মে, ২০২৬
বর্তমান / ব্ল্যাকবোর্ড

আকাশ প্রদীপ জ্বলে...

আকাশ প্রদীপ জ্বলে...
  • ১১ নভেম্বর, ২০২৪ ০০:০০
‘আকাশ প্রদীপ জ্বলে দূরের তারার পানে চেয়ে...’— লতা মঙ্গেশকরের গলায় এই গান আমরা সকলেই শুনেছি। কিন্তু আকাশ প্রদীপ শুধু গানের কথায় নয়, জড়িয়ে রয়েছে বাঙালির জীবনেও। আশ্বিন-কার্তিক মাস বাঙালির কাছে পুজোর মরশুম। আর কার্তিক মাসজুড়ে বাংলায় দেখা যায় এক লোকায়ত রীতি পালন। সন্ধ্যা ঘনাবার পর লম্বা বাঁশের ডগায় বেঁধে জ্বালিয়ে রাখা হয় আলো। সেটিই হল আকাশ প্রদীপ।
Advertisement
কিন্তু এই আকাশ প্রদীপের তাৎপর্য কী? এই নিয়ে একাধিক মত রয়েছে। প্রথম মতটি হল, মহালয়ার দিন অমাবস্যায় মৃত পুর্বপুরুষদের উদ্দেশে আমরা তর্পণ করি। তারপর থেকে একমাস সেই মৃত পূর্বপুরুষদের আত্মা পৃথিবীর বুকে নেমে আসে। কালীপুজোর দিন অমাবস্যার পর তাঁরা ফের ফিরে যাবেন পরলোকে। তাই পুর্বপুরুষদের আত্মাকে পথ দেখাতে সন্ধের পর জ্বালিয়ে রাখা হয় আকাশ প্রদীপ।
দ্বিতীয় মত হল, এই প্রদীপ দেওয়া হয় বিষ্ণুকে স্মরণ করে। এই পৃথিবীকে পালন করেন তিনি। মৃত্যুর পরেও মানুষের উপরে রয়েছে তাঁরই অধিকার। তাই আকাশপ্রদীপ দেওয়ার সময় উচ্চারণ করা হয় মন্ত্র—‘আকাশে সলক্ষ্মীক বিষ্ণোস্তোষার্থং দীয়মানে প্রদীপঃ শাকব তৎ।’ যার অর্থ, আকাশে লক্ষ্মীর সঙ্গে অবস্থান করছেন যে বিষ্ণু, তাঁর উদ্দেশ্যে এই প্রদীপ জ্বালানো হল। রয়েছে অন্য মতও। মৃত পূর্বপুরুষরা যাতে উত্তরসূরিদের আশীর্বাদ করতে পারেন, তার জন্য জ্বালানো হয় এই আলো। কিছু মতে আবার এই প্রদীপ পঞ্চভূতের প্রতীক।
কীভাবে তৈরি করতে হয় আকাশ প্রদীপ? আগে এক মানুষ সমান উঁচু লাঠির উপর চতুর্ভুজ কাঠামোর উপর বসানো হত প্রদীপ। অনেক সময় আবার এই কাঠামোয় লণ্ঠন বেঁধে কপিকল দিয়ে ওঠানো-নামানো হতো। অনেক জায়গায় আবার সংস্কৃত মন্ত্রের বদলে পড়া হয় ছড়া, ‘দাদুর ঘরে নাতি/স্বর্গে দিলাম বাতি, উপর দিকে চেয়ে দেখো/লক্ষ্মী সরস্বতী’। তবে আধুনিক জীবনযাপনের সঙ্গে সঙ্গেই কমছে এই রীতি। প্রদীপ, লণ্ঠনের বদলে এসেছে নানা ধরনের ইলেকট্রিক বাল্ব। সে সব নিয়েই এখনও তারার পানে জ্বলে থাকে আকাশ প্রদীপ।
সম্পর্কিত সংবাদ