


বার্মিংহাম: দুই মাস আগে ধরা পড়েছে দিদির ক্যান্সার। তাঁর মুখে হাসি ফোটানোই ছিল আকাশদীপের তাগিদ। নিজেকে নিংড়ে দেওয়ার নেপথ্যেে সেটাই ছিল মোটিভেশন। এজবাস্টন টেস্টে দশ উইকেট নেওয়া আকাশদীপ এই সাফল্য উৎসর্গ করলেন দিদিকেই। ম্যাচের পর চেতেশ্বর পূজারাকে আবেগঘন গলায় তিনি বলেন, ‘কাউকে বলিনি যে আমার দিদি ক্যান্সারে আক্রান্ত। দু’মাস আগে এটা ধরা পড়ে। এখন অবশ্য ও ঠিক আছে। আমার পারফরম্যান্স নিশ্চয়ই ওকে খুশি করবে। গত দু’মাসে শারীরিক ও মানসিক নানা সমস্যার মুখোমুখি হতে গয়েছে ওকে। দশ উইকেট তাই দিদিকেই উৎসর্গ করছি। ওর মুখে হাসি ফোটাতে চাই।’ দিদিকে কী বার্তা দিতে চান? আকাশদীপের উত্তর, ‘এই সাফল্য তোমার জন্যই। হাতে যখনই বল ধরেছি, তোমার মুখটাই চোখের সামনে ভেসে উঠেছে। তোমাকে আনন্দ দিতে চেয়েছি। দিদি, আমরা সবাই তোমার পাশে রয়েছি।’
গত অস্ট্রেলিয়া সফরেও উজ্জ্বল পারফরম্যান্স মেলে ধরেছিলেন আকাশদীপ। কিন্তু তারপরও নিয়মিত সুযোগ পাননি। ইংল্যান্ড সফরে প্রথম টেস্টে বেঞ্চেই কাটাতে হয় তাঁকে। তবে এজবাস্টনে সুযোগ পেতেই জ্বলে উঠলেন। প্রাক্তন ইংল্যান্ড অধিনায়ক নাসের হুসেনের মতে, আকাশই ম্যাচের সেরা বোলার। আর এক প্রাক্তন ইংরেজ তারকা স্টুয়ার্ট ব্রড বলেন, ‘ওর বোলিং দেখে আমি রীতিমতো মুগ্ধ। ক্রিকেট মস্তিষ্ক খুবই প্রখর। বোলিংয়ের সময় ক্রিজে সামান্য জায়গা পরিবর্তন করে অ্যাঙ্গলের হেরফের ঘটায়। তাতে বোকা বনে যায় ব্যাটাররা। পরের টেস্টগুলিতে ওর বিরুদ্ধে আরও সতর্ক থাকতে হবে ইংল্যান্ডকে।’
বাংলার পেসারটি যথার্থ অর্থেই যোদ্ধা। চাপে ভেঙে পড়া তাঁর অভ্যাসে নেই। জীবনযুদ্ধে অনেক চড়াই-উতরাই টপকে এই জায়গায় পৌঁছেছেন। ছোটবেলা থেকেই ধ্যানজ্ঞান ছিল ক্রিকেট। কিন্তু বাবার সায় ছিল না। তবুও লুকিয়ে চুরিয়ে খেলা চালিয়ে গিয়েছেন। এরইমধ্যে আকাশের জীবনে নেমে আসে ঘোর অন্ধকার। কয়েকমাসের ব্যবধানে বাবা ও বড় দাদার মৃত্যু হয়। সংসারে কারও রোজগার ছিল না। তাই সমস্ত দায়িত্ব এসে পড়ে আকাশদীপের কাঁধে। এই পর্বে তিনি ক্রিকেট থেকে দূরে সরে যান। কিন্তু তিন বছর পর আবারও ফিরে আসেন মাঠে। সেই সময় কলকাতার বিভিন্ন প্রান্তে টেনিস বলে খেপ টুর্নামেন্ট খেলতেন। প্রতি ম্যাচে মিলত পাঁচ-ছ’শো টাকা। শেষ পর্যন্ত বাংলার অনূর্ধ্ব-২৩ দলে সুযোগ মেলে। ঘুরে যায় তাঁর কেরিয়ারের মোড়। এরপর বাংলার হয়ে রনজিতে নজর কেড়ে জাতীয় দলে সুযোগ পান তিনি।