Bartaman Logo
৯ জুন, ২০২৬

আমেদাবাদ আতঙ্ক! যান্ত্রিক বিভ্রাটে জেরবার বিমানযাত্রা

আগুন নিভেছে। আমেদাবাদের দুর্ঘটনাস্থলের ঠান্ডা ছাই আর ধ্বংসাবশেষ থেকে দেহাংশ উদ্ধার, ডিএনএ পরীক্ষা, তারপর একে একে পরিবারের হাতে তুলে দেওয়া।

আমেদাবাদ আতঙ্ক! যান্ত্রিক বিভ্রাটে জেরবার বিমানযাত্রা
  • ১৮ জুন, ২০২৫ ১৬:০৬
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা ও নয়াদিল্লি: আগুন নিভেছে। আমেদাবাদের দুর্ঘটনাস্থলের ঠান্ডা ছাই আর ধ্বংসাবশেষ থেকে দেহাংশ উদ্ধার, ডিএনএ পরীক্ষা, তারপর একে একে পরিবারের হাতে তুলে দেওয়া। কফিন, আর চিতায় শেষ হয়ে যাচ্ছে স্বপ্ন, পরিবার। ফাঁড়া কাটছে না দেশের বিমান পরিষেবারও। বিশেষ করে এয়ার ইন্ডিয়ার ভাগ্যে যেন শনির ‘কুদৃষ্টি’ পড়েছে। মঙ্গলবার একইদিনে এয়ার ইন্ডিয়ার সাত সাতটি আন্তর্জাতিক বিমানের উড়ান বাতিল করা হয়েছে। এদের মধ্যে ছ’টি বোয়িং ৭৮৭ ড্রিমলাইনার। দিনকয়েক আগে এমনই একটি ড্রিমলাইনার প্রাণ কেড়েছে প্রায় তিনশো জনের। এদিন বোমাতঙ্কের জেরেও ইন্ডিগোর এক বিমানের জরুরি অবতরণ করানো হয়েছে।

Advertisement

গত বৃহস্পতিবার আমেদাবাদ বিমানবন্দর থেকে উড়ে যাওয়ার কিছুক্ষণ পরই দুর্ঘটনার কবলে পড়ে এয়ার ইন্ডিয়ার বিমানটি। ভয়াবহ সেই স্মৃতি ভুলতে এআই ১৭১-এর নাম তড়িঘড়ি বদলে করা হয়েছিল এআই ১৫৯। তবুও ভাগ্য খুলল না। পাঁচদিন পরিষেবা বন্ধ থাকার পর মঙ্গলবার ফের আমেদাবাদ থেকে গ্যাটউইক উড়ে যাওয়ার কথা ছিল বিমানের। আচমকাই উড়ান বাতিল করে দেওয়া হয়। শুরুতে যান্ত্রিক ত্রুটির বিষয়টি সামনে আসে। কিন্তু পরে এয়ার ইন্ডিয়ার তরফে এক বিবৃতিতে জানানো হয়, ‘বিমান কম থাকার জন্য উড়ান বাতিল করা হয়েছে।’ এখানেই শেষ নয়। এদিন এয়ার ইন্ডিয়ার দিল্লি-দুবাই, দিল্লি-ভিয়েনা, দিল্লি-প্যারিস, লন্ডন-অমৃতসর, বেঙ্গালুরু-লন্ডন  এবং সানফ্রান্সিসকো-মুম্বই উড়ানও বাতিল করা হয়। এয়ার ইন্ডিয়ার এআই ১৮০ বিমানটি সোমবার রাত পৌনে ১টা নাগাদ সানফ্রান্সিসকো থেকে কলকাতায় আসে। কিন্তু এখান থেকে বিমানটি আর মুম্বইয়ের উদ্দেশে রওনা দিতে পারেনি। বিমানের বাঁদিকের ইঞ্জিনে যান্ত্রিক ত্রুটি ধরা পড়ে। পাইলট কোনওরকম ঝুঁকি নিতে রাজি হননি। প্রথমে যাত্রীদের নির্দিষ্ট আসনে বসিয়ে রেখেই বিমানটিকে পরীক্ষা করা হয়। কিন্তু দীর্ঘ সময় বিমানটিকে পরীক্ষার পরেও সেটি আর রওনা করা যায়নি। পাঁচ ঘণ্টা যাত্রীদের বিমানের মধ্যেই বসিয়ে রাখা হয়েছিল। পরে ৫টা ২০ মিনিট নাগাদ যাত্রীদের বিমান থেকে নামিয়ে আনা হয়। বিমানে ২২৪ জন যাত্রী ছিলেন। কলকাতা বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, বেশ কয়েকজন যাত্রীকে অন্য বিমানে মুম্বই পাঠানোর ব্যবস্থা করে এয়ার ইন্ডিয়া। বাকিদের কলকাতা বিমানবন্দর সংলগ্ন দু’টি হোটেলে নিয়ে যাওয়া হয়। জানানো হয়েছে, কেউ টিকিট বাতিল করতে চাইলে পুরো টাকা ফেরত দেওয়া হবে। তবে ওই বিমানযাত্রীরা অত্যন্ত ক্ষুব্ধ। তাঁদের অভিযোগ, যদি বিমানে যান্ত্রিক ত্রুটি থেকে থাকে, তাহলে সেটা আগে থেকে কেন পরীক্ষা করা হল না। আর পাঁচ ঘণ্টা কেনই বা বিমানের মধ্যে বসিয়ে রাখা হল? কলকাতা বিমানবন্দরের তরফে খবর, সানফ্রান্সিসকো থেকে মুম্বইগামী এই বিমানটি আগে কলকাতায় অবতরণ করত না। যেহেতু পাকিস্তানের আকাশপথ এখন বন্ধ, তাই ‘যুদ্ধ পরিস্থিতি’র পর কিছুদিন হল এই বিমানটি সানফ্রান্সিসকো থেকে কলকাতায় আসছে। কলকাতায় জ্বালানি ভরা এবং পরীক্ষার পর বিমানটি মুম্বই রওনা হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু এদিন জ্বালানি ভরার পরে বিমানের ইঞ্জিনে সমস্যা দেখা দেয়। কিন্তু শাক দিয়ে মাছ ঢাকা যাবে কতক্ষণ? গলদটা ঠিক কোথায়? এমনই প্রশ্ন তুলছেন হয়রানির শিকার ক্ষুব্ধ যাত্রীরা।
এরইমাঝে বোমাতঙ্কের জেরে নাগপুরে জরুরি অবতরণ করানো হয় কোচি থেকে দিল্লিগামী ইন্ডিগোর এক বিমানকে। মঙ্গলবার সকালে ১৫৭ জন যাত্রী নিয়ে ওড়ে বিমানটি। আচমকা বোমা বিস্ফোরণের হুমকি মেইল পেয়ে তড়িঘড়ি সেটিকে নাগপুরে নামিয়ে তল্লাশি শুরু হয়। যদিও সন্দেহজনক কিছুই মেলেনি। গত কয়েকদিনে দেশের বিমান পরিষেবার এই ‘লেজে-গোবরে’ অবস্থার জেরে ইতিমধ্যেই অস্বস্তিতে পড়েছে অসামরিক বিমান পরিবহণ মন্ত্রক। ‘নজর’ কাটাতে কোন টোটকা কাজে দেয়, সেদিকেই তাকিয়ে দেশ।

সম্পর্কিত সংবাদ