Bartaman Logo
২৪ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

কয়লার খোঁজে কৃষিজমি বিপন্ন!  অণ্ডালে কাজ বন্ধ করে আন্দোলনে জমির মালিকরা

অণ্ডালে কৃষিজমি রক্ষার দাবিতে জমির মালিকদের আন্দোলন শুরু হয়েছে। খনন কাজ বন্ধ, স্থানীয়দের উদ্বেগ বাড়ছে। বিস্তারিত পড়ুন।

কয়লার খোঁজে কৃষিজমি বিপন্ন!  অণ্ডালে কাজ বন্ধ করে আন্দোলনে জমির মালিকরা
  • ২৪ জুন, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

সংবাদদাতা, দুর্গাপুর : ভূগর্ভে কয়লা উত্তোলনের পরিকল্পনাকে কেন্দ্র করে তীব্র জনরোষের মুখে পড়ল ইস্টার্ন কোলফিল্ডস লিমিটেড (ইসিএল)। কৃষিজমি ও বসতভিটার নিরাপত্তা নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে মঙ্গলবার অণ্ডালের খান্দরা মৌজায় আন্দোলনে শামিল হন একাধিক জমির মালিক ও কৃষক। বিক্ষোভের জেরে বন্ধ হয়ে যায় খননকার্যের প্রাথমিক প্রস্তুতির কাজ। পরিস্থিতি ঘিরে এলাকাজুড়ে চরম উত্তেজনা দেখা দেয়। যদিও এই ঘটনায় ইসিএল কর্তৃপক্ষের কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।

Advertisement

স্থানীয়দের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে বন্ধ থাকা ময়রা কোলিয়ারি সংলগ্ন এলাকায় একটি বেসরকারি সংস্থার মাধ্যমে নতুন করে কয়লা উত্তোলনের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। ইসিএলের নিজস্ব প্রায় আট বিঘা এবং ক্রয়কৃত আরও দু’বিঘা জমিকে কেন্দ্র করে ইনক্লাইন পদ্ধতিতে ভূগর্ভস্থ খননের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে দাবি আন্দোলনকারীদের। কিন্তু প্রকল্প এলাকার আশপাশে বিস্তীর্ণ কৃষিজমি ও বসতভিটা থাকা সত্ত্বেও সংশ্লিষ্ট জমির মালিকদের সঙ্গে কোনো আলোচনা করা হয়নি বলেই অভিযোগ। অণ্ডাল কৃষিজমি রক্ষা কমিটির নেতৃত্বে এদিন বিক্ষোভে দেখান এলাকার বাসিন্দারা। তাঁদের আশঙ্কা, সীমিত পরিসরের জমি ব্যবহার করে ভূগর্ভে কয়লা উত্তোলন শুরু হলে আগামী দিনে ভূমিধস, জমির অবনমন এবং বসতবাড়ির ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কা প্রবল হয়ে উঠবে। ফলে কৃষি, পানীয় জল এবং সাধারণ মানুষের জীবন-জীবিকাও বিপন্ন হতে পারে।
কমিটির সভাপতি উজ্জ্বল পাল বলেন, মাত্র কয়েক বিঘা জমিকে ভিত্তি করে বৃহত্তর এলাকার তলদেশে কয়লা উত্তোলনের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। ভবিষ্যতে ধস নামলে বা ক্ষয়ক্ষতি হলে তার দায়ভার কে নেবে? সেই প্রশ্নের কোনো উত্তর নেই। জমির ন্যায্য মূল্য, স্থানীয় যুবকদের কর্মসংস্থান, পানীয় জলের নিশ্চয়তা ও সম্ভাব্য ক্ষয়ক্ষতির ক্ষতিপূরণ সম্পর্কে সুস্পষ্ট প্রতিশ্রুতি না পেলে এই প্রকল্প চলতে দেওয়া হবে না।কমিটির সম্পাদক তপন মুখোপাধ্যায় বলেন, অতীতে কোলফিল্ড অঞ্চলে যে সব খনি প্রকল্প বাস্তবায়িত হয়েছে, সেখানে প্রয়োজনীয় জমি অধিগ্রহণের পাশাপাশি ক্ষতিপূরণ ও কর্মসংস্থানের ব্যবস্থাও হয়েছিল। কিন্তু বর্তমান প্রকল্পে সেই স্বচ্ছতা ও নিশ্চয়তার অভাব রয়েছে। তাই জমির মালিকদের সম্মতি ছাড়া কোনোভাবেই কাজ শুরু করতে দেওয়া হবে না।
স্থানীয় কৃষক দেবাশিস ঘোষালের অভিযোগ, এলাকার মানুষকে সম্পূর্ণ অন্ধকারে রেখে যন্ত্রপাতি নামিয়ে কাজ শুরুর চেষ্টা হয়েছে। শিল্প ও কৃষি এই দুইয়ের মধ্যে ভারসাম্য বজায় রেখেই উন্নয়নের পথ খুঁজতে হবে। তা না হলে বৃহত্তর গণ আন্দোলনের হুঁশিয়ারিও দেন আন্দোলনকারীরা।-নিজস্ব চিত্র

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ