আগম কুয়াঁ
  • ৯ জুন, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

 বিম্বিসার তখন তথাগত বুদ্ধের অনুরাগী। ধর্মোপদেশের বাইরে রাজকার্যে মাথা গলাতে শুরু করেছেন স্বয়ং বুদ্ধদেব। মানে শাস্তির বিধান কী হবে, বুদ্ধের সঙ্গে পরামর্শ করে তা ঠিক করছেন বিম্বিসার। বিষয়টি মোটেই পছন্দ হয়নি যুবরাজ অজাতশত্রুর। তাঁর মনে হয়েছিল, এক শ্রমণকে অযাচিত গুরুত্ব দিচ্ছেন মগধসম্রাট। তাই প্রথম সুযোগেই বিম্বিসারকে বন্দি করলেন অজাতশত্রু (শেনীয়)। বন্দি করে রাখলেন রাজগৃহের সংকীর্ণ কুঠীরে। তবে রাজগৃহে রাজপাট সামলানো সম্ভব হল না তাঁর। কেননা, পদে পদে পিতার স্মৃতি। রাজগৃহের সর্বত্র ছড়িয়ে বিম্বিসারের অবদান। তাকে অস্বীকার করতে না পেরে অবশেষে রাজগৃহ থেকে পাটনা অর্থাৎ তৎকালীন পাটলিপুত্রে রাজধানী সরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিলেন অজাতশত্রু। এই সিদ্ধান্তের জন্য তৎকালীন সময়ে সমালোচনার সম্মুখীন হয়েছিলেন শেনীয়। তবে ইতিহাস প্রমাণ করেছে, তাঁর এই সিদ্ধান্ত সামরিক দিক দিয়ে কতটা সুচিন্তিত ছিল। আসলে গৃধ্রকূট সহ সাতটি পাহাড় দিয়ে ঘেরা রাজগীর শত্রু মোকাবিলার জন্য আদর্শ হলেও শাসনকাজ পরিচালনায় বেগ পেতে হচ্ছিল পদে পদে। অগত্যা রাজ্যের মাঝামাঝি জায়গায় পাটলিপুত্রকে বেছে নেওয়া। এরপর প্রায় পাঁচশ বছর ধরে মগধ শাসন করেছে গুপ্ত ও মৌর্য রাজারা। তাঁরাও কিন্তু পাটলিপুত্র থেকে রাজপাট সরানোর কথা ভাবেননি। তাই ঐতিহাসিকরা বলেন, পাহাড় বেষ্টিত রাজগৃহ থেকে পাটলিপুত্রে রাজধানী সরিয়ে আনার জন্যই অজাতশত্রুর হর্য্যঙ্ক বংশের শাসন বাংলা থেকে কনৌজ পর্যন্ত বিস্তৃত হতে পেরেছিল। আশ্চর্যের বিষয় এতগুলি রাজ বংশের শাসন সত্ত্বেও অধুনা পাটনায় ঐতিহাসিক নিদর্শন নেই বললেই চলে। কেবল কুমরোহার পার্কে রয়ে গিয়েছে অশোকের আমলের কিছু নিদর্শন। ‘ধর্মাশোক’ হওয়ার আগে ‘চণ্ডাশোক’ ছিলেন অশোক। বৌদ্ধধর্ম গ্রহণের পর বদলে যায় সবকিছু। তখন তিনি অহিংসার পূজারি। কুমরোহর বাজারের কাছেই রয়েছে শীতলা মন্দির। এর পিছনেই রয়েছে আগম কুয়া। ঐতিহাসিকেরা বলেন, নির্যাতনের জন্য যে সমস্ত সেল অশোক বানিয়েছিলেন, তারই একটি এই ‘আগম কুয়াঁ।’ এখন অবশ্য এটাকে মন্দিরের অংশ হিসেবেই মানুষজন পুজো দেন।

Advertisement