নিজস্ব প্রতিনিধি, আসানসোল: বৃহস্পতিবার রাতে হাড়হিম করা হত্যাকাণ্ডের ঘটনা প্রকাশ্যে আসতেই আতঙ্কিত রেল শহর চিত্তরঞ্জন। স্বামীর কোয়ার্টারে নৃশংসভাবে খুন হয়েছেন রেলকর্মীর স্ত্রী। পুলিসের দাবি, ধারালো অস্ত্র দিয়ে বুক ও গলায় একের পর এক কোপ মেরে খুন করা হয় গৃহবধূ সঞ্চিতা চৌধুরীকে। কোয়ার্টারের সামগ্রীও উলটপালট করা ছিল। প্রাথমিকভাবে মনে হয়েছিল, লুটপাটে বাধা পেয়েই খুন করা হয়েছে। কিন্তু নমুনা সংগ্রহ করতে গিয়ে পুলিস দেখতে পেয়েছে, খুনের পর ফিনাইল দিয়ে রক্ত মোছার চেষ্টা হয়েছিল। তা থেকে তারা নিশ্চিত, লুটপাট নয়, বরং কোনও শত্রুতার জেরেই গৃহবধূকে নৃশংসভাবে খুন হতে হয়েছে। সেক্ষেত্রে গৃহবধূর অতি পরিচিত কেউ এই খুনের সঙ্গে যুক্ত বলে পুলিস ইঙ্গিত দিয়েছে।
ডিসি সন্দীপ কাররা বলেন, আমরা খুনের ঘটনার তদন্ত করছি। প্রাথমিকভাবে মনে হচ্ছে না ডাকাতিতে বাধা পেয়ে খুন। এই খুনের পিছনে অন্য কারণ রয়েছে।
বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে ৮টা নাগাদ চিত্তরঞ্জনে খুনের ঘটনা প্রকাশ্যে আসে। গাড্ডা কলোনির ২৮নম্বর রাস্তার উপর কোয়ার্টারে এই খুনের ঘটনা ঘটে। জানা যায়, সিএলডব্লুতে ডিউটি করে বাড়ি ফিরে নিজের স্ত্রীকে রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখেন প্রদীপ চৌধুরী। তারপরই তিনি চিত্তরঞ্জন থানায় বিষয়টি জানান। সাড়ে ৮টা নাগাদ উচ্চ পদস্থ পুলিস অফিসাররা ঘটনাস্থলে পৌঁছে যান। তখন দেখা যায়, কোয়ার্টারের বারান্দায় পড়ে রয়েছে সঞ্চিতা দেবীর ক্ষতবিক্ষত দেহ। রক্তে ভেসে যাচ্ছে চারদিক। এরপর পুলিস অফিসাররা ইনকোয়েস্ট প্রক্রিয়া সম্পন্ন করেন। তখনই দেখা যায়, ধারালো অস্ত্র দিয়ে একের পর এক কোপ মারা হয়েছে। গলার নলি কেটে দেওয়া হয়েছে। বুক অস্ত্রের আঘাতে ক্ষতবিক্ষত।
প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হয়েছিল, দুপুরে স্বামী ডিউটি যাওয়ার পর লুটেরা এসে এই কাণ্ড করেছে। তখনই ফিনাইল দিয়ে রক্ত মোছার চেষ্টার বিষয়টি পুলিসের নজরে আসে। এরপরই তদন্ত অন্যদিকে মোড় নেয়। তদন্তকারী অফিসারদের দাবি, অপরিচিত কেউ কোয়ার্টারে এলে গৃহবধূ তাকে বাধা না দিয়ে এত সহজে ঢুকতে দিতেন না। বাধা দিলে চিৎকার হতো। পাশ্ববর্তী কোয়ার্টারের বাসিন্দাদের তা শোনার কথা। তেমন কোনও আওয়াজ প্রতিবেশীরা পাননি। দ্বিতীয়ত, লুটের উদ্দেশ্য থাকলে ডাকাতরা বাড়িতে থাকা চারটি দামি মোবাইল ও একটি লক্ষাধিক টাকার ক্যামেরা ফেলে যেত না। তাছাড়া, তারা কেনই বা রক্তের দাগ মোছার চেষ্টা করবে?
এক পুলিস আধিকারিকের কথায়, প্রথমে খুনের পর প্রমাণ লোপাটের চেষ্টা হয়। কিন্তু মহিলার শরীর থেকে এত রক্ত বের হয়, তাতেই সম্ভবত সেই চেষ্টা থেকে পিছু হটে আততায়ী। খুনের ঘটনার পিছনে কোনও সম্পর্কের টানাপোড়েন রয়েছে কি না, তাও খতিয়ে দেখছে পুলিস। খুনের ঘটনার পর শহরজুড়ে আতঙ্ক ছড়িয়েছে। শ্রমিক নেতা নেপাল চক্রবর্তী, ইন্দ্রজিৎ সিংরা বলেন, রেল শহরে পরিবারকে কোয়ার্টারে রেখেই সবাই ডিউটি করতে যায়। সংরক্ষিত শহরে পরিবারই সুরক্ষিত না থাকলে শ্রমিকরা মন দিয়ে ডিউটি করবে কীভাবে? আমরা জেনারেল ম্যানেজারকে পুরো বিষয়টি জানিয়েছি।