Bartaman Logo
২১ জুলাই, ২০২৬

জ্বালানির পর বিদ্যুৎ সংকট? ব্যবহারে রাশ টানার বার্তা কেন্দ্রের, আতঙ্কে আম জনতা

প্রথম বার্তা ছিল, সোনা কিনবেন না। পেট্রল-ডিজেল খরচ কমান। দেশে জ্বালানি সংকট নেই ঠিকই, তা সত্ত্বেও ব্যবহার নিয়ন্ত্রণ করুন। আর এবার নতুন বার্তা, বুঝেশুনে বিদ্যুৎ ব্যবহার করতে হবে।

জ্বালানির পর বিদ্যুৎ সংকট? ব্যবহারে রাশ টানার বার্তা কেন্দ্রের, আতঙ্কে আম জনতা
  • ২৩ মে, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, নয়াদিল্লি: প্রথম বার্তা ছিল, সোনা কিনবেন না। পেট্রল-ডিজেল খরচ কমান। দেশে জ্বালানি সংকট নেই ঠিকই, তা সত্ত্বেও ব্যবহার নিয়ন্ত্রণ করুন। আর এবার নতুন বার্তা, বুঝেশুনে বিদ্যুৎ ব্যবহার করতে হবে। কারণ, বিদ্যুৎ সংকট হতে পারে। গত কয়েকদিনে দেশজুড়ে ‘লকডাউন’ জাতীয় আতঙ্কের বীজ বপন হয়ে চলেছে আম আদমির মনে। তার কারিগর খোদ কেন্দ্রীয় সরকার। পশ্চিম এশিয়ার যুদ্ধ এবং হরমুজ সংকটের জের পড়ছে ভারতের অভ্যন্তরে। টাকার দর রেকর্ড গড়েছে। মূল্যবৃদ্ধি লাগামছাড়া। আর এই প্রবণতা আরও বাড়ছে। প্রতিদিন। এই জাঁতাকলে এমনিতেই জেরবার দেশবাসী। এবার কি তাহলে বিদ্যুৎ সংকটের মুখে পড়তে চলেছে দেশ? কেন্দ্রীয় বিদ্যুৎ মন্ত্রকের বার্তায় এই প্রশ্ন মাথাচাড়া দিয়েছে। তীব্র গরমে উত্তর ভারত পুড়ছে। রাজধানী দিল্লিতে ৪৭ ডিগ্রি ছুঁয়েছে পারদ। রাজ্যে রাজ্যে ঘণ্টার পর ঘণ্টা বিদ্যুৎ নেই। কলকাতায় ‘ফিলস লাইক’ ৫০ ডিগ্রি পেরিয়ে যাচ্ছে। এর উপর বিষফোঁড়া কি বিদ্যুৎ সংকট?

Advertisement

দেশজুড়ে গরমের প্রকোপ বিদ্যুৎ চাহিদার সব রেকর্ড ভেঙে দিয়েছে। উত্তর, মধ্য‌ ও পশ্চিম ভারতে তাপমাত্রা ৪৬ ডিগ্রি থেকে ৪৮ ডিগ্রির মধ্যে ঘোরাফেরা করছে। হিটস্ট্রোক হচ্ছে। তাপপ্রবাহে নাকাল মানুষ। আবার পূর্ব ও দক্ষিণ ভারতের অতিরিক্ত আর্দ্রতা দিনভর ঘেমে স্নান করে যাওয়ার কারণ হয়ে উঠেছে। একদিকে কল-কারখানা, অন্যদিকে আচমকা লাফিয়ে বেড়ে যাওয়া গৃহস্থ বাড়ির বিদ্যুৎ ব্যবহার। মন্ত্রকের মতে, বিদ্যুৎ ব্যবহারের পিক আওয়ার হল দুপুর ২টো থেকে ৪টে। এই সময় অফিস, কারখানার কাজ যেমন পুরোদমে চলে, তেমনই বাড়িতেও আগুনে গরম থেকে বাঁচতে এসি ছাড়া গতি থাকছে না। এবং বহু ক্ষেত্রে একটি বাড়িতে একাধিক এসি-ফ্যান চলছে। ফলে বিদ্যুতের চাহিদা আয়ত্তের বাইরে চলে যাচ্ছে। তাই বিদ্যুৎ মন্ত্রকের আবেদন, যথাসম্ভব কম বিদ্যুৎ ব্যবহার করুন। বিশেষত পিক আওয়ারে। মন্ত্রক জানাচ্ছে, ১৮ মে বিদ্যুৎ চাহিদা ছিল ২৫৮ গিগাওয়াট। মাত্র তিনদিনে, অর্থাৎ ২১ মে তা হয়েছে ২৭১ গিগাওয়াট। গত এক বছরে ভারতে ১ কোটি ৪০ লক্ষ এসি বিক্রি হয়েছে। অর্থাৎ গড়ে বছরে দেড় থেকে দু’কোটি এসি যুক্ত হচ্ছে। জ্বালানি সংকট এবং রান্নার গ্যাসের অভাবে দেশজুড়ে কয়লা ব্যবহার বেড়েছে। বিহার সরকার ঘোষণা করেছে, রেশনে কয়লা বণ্টন করা হবে। যাতে রান্নার গ্যাসের অভাব পূরণ হয়। আর এভাবে চাহিদা বিপুল বৃদ্ধি পাওয়ায় একদিকে কয়লার দাম বেড়েছে, অন্যদিকে কমছে সাপ্লাই। তার সরাসরি প্রভাব? তাপবিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্রে কয়লার স্টক কমে যাওয়া। দেশের প্রথমসারির ১৮৯টি তাপবিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্রে কয়লার স্টক কমছে। এক বছর আগে মে মাসে কয়লার স্টক ছিল ৫ কোটি ৭০ লক্ষ টন। এ বছর ২০ মে’র হিসাবে কয়লা রয়েছে ৫ কোটি ১০ লক্ষ টন। অর্থাৎ ৮০ শতাংশ স্টক থেকে কমে হয়েছে ৬৮ শতাংশ। সেন্ট্রাল ইলেক্ট্রিসিটি অথরিটির অভিমত হল, এই পরিস্থিতিতে দিনে ২৭০ গিগাওয়াট বিদ্যুতের চাহিদা থাকলে স্টক ৭ কোটি ৫০ লক্ষ টন থাকতেই হবে। অথচ রয়েছে ৫ কোটি ১০ লক্ষ টন। 
বিদ্যুৎ মন্ত্রক শুক্রবার বলেছে, বিদ্যুতের চাহিদা অনুযায়ী সরকার অবশ্যই চাহিদা পূরণ করতে সক্ষম। সেই আশ্বাসও দেওয়া হচ্ছে। কিন্তু তা সত্ত্বেও দেশবাসীকে বলা হচ্ছে, তারা যেন বিদ্যুৎ ব্যবহার নিয়ন্ত্রণ করে। জ্বালানির সংকট, ডিজেলের অভাবে পণ্য পরিবহণ থমকে, টাকার পতন অব্যাহত, ব্যয়সংকোচের কথা বলেছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। এবার বিদ্যুৎ ব্যবহারেও সংযত হওয়ার আবেদন। ভারতের অর্থনীতি ঠিক কোন অবস্থায় আছে? বিরোধীরা দাবি করেছে, সরকার জানাক স্পষ্ট করে। 

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ