Bartaman Logo
৯ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

৬ বছরের প্রতীক্ষার পর ঐতিহাসিক ষাঁড়েশ্বর মন্দির খুলবে ফেব্রুয়ারিতেই

দীর্ঘ ছ’বছরের প্রতীক্ষার পর অবশেষে ঐতিহাসিক ষাঁড়েশ্বর মন্দির সর্ব সাধারণের জন্য খুলতে চলেছে।

৬ বছরের প্রতীক্ষার পর ঐতিহাসিক ষাঁড়েশ্বর মন্দির খুলবে ফেব্রুয়ারিতেই
  • ২৬ জানুয়ারি, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

উজ্জ্বল পাল, বিষ্ণুপুর: দীর্ঘ ছ’বছরের প্রতীক্ষার পর অবশেষে ঐতিহাসিক ষাঁড়েশ্বর মন্দির সর্ব সাধারণের জন্য খুলতে চলেছে। শুধু তাই নয়, মন্দির সংস্কারের জন্য গত ছ’বছর ধরে পার্শ্ববর্তী শৈলেশ্বর মন্দিরে গাজন উৎসব হয়ে আসছে। গাজন কমিটি সূত্রে জানা গিয়েছে, আগামী ১৮ ফেব্রুয়ারি মন্দিরের শুদ্ধিকরণ উৎসব আরম্ভ হবে। চারদিন ধরে তা চলবে। মহা মৃত্যুঞ্জয় যজ্ঞের মাধ্যমে বাবা ষাঁড়েশ্বরকে নিজ মন্দিরে পুনরায় প্রতিষ্ঠা করা হবে। চলতি বছরে গাজন উৎসব বাবা ষাঁড়েশ্বর মন্দিরেই হবে। এই খবর শুনে ভক্তদের মনে খুশির হাওয়া বইছে।

Advertisement

মন্দির কমিটির সদস্যরা বলেন, বাবা ষাঁড়েশ্বর মন্দিরের সঙ্গে গোটা বিষ্ণুপুর বিধানসভা কেন্দ্র এবং তার পার্শ্ববর্তী এলাকার মানুষের আবেগ জড়িয়ে রয়েছে। গত কয়েকবছর ধরে সংস্কারকাজ চলার কারণে সাধারণ ভক্তদের জন্য মন্দিরের দরজা বন্ধ রাখা হয়। পাশের শৈলেশ্বর মন্দিরে বাবার পুজো অর্চনা হচ্ছে। এমনকী গাজন উৎসবও শৈলেশ্বর মন্দিরে হচ্ছে। বর্তমানে মন্দিরে পাঁচিল তৈরির কাজ চলছে। তবে মূল মন্দিরের সংস্কার কাজ সম্পূর্ণ হয়ে গিয়েছে। তাই সর্বসম্মতিক্রমে ষাঁড়েশ্বর মন্দির খুলে দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে। তবে তার আগে বাবা ষাঁড়েশ্বরকে নতুন করে প্রতিষ্ঠা করতে হবে। আগামী ১৮ফেব্রুয়ারি মন্দিরে শুদ্ধিকরণ উৎসব শুরু হবে। ওইদিন শোভাযাত্রা সহকারে দ্বারকেশ্বর নদ থেকে পবিত্র জল আনা হবে। পরের দিন ১৯ফেব্রুয়ারি মহা মৃত্যুঞ্জয় যজ্ঞ হবে।  সেই সঙ্গে ভক্তদের প্রসাদ বিলি করা হবে। ২১ফেব্রুয়ারি শৈলেশ্বর মন্দির থেকে নিজ মন্দিরে বাবা ষাঁড়েশ্বরকে আনা হবে। এবারের চৈত্র মাসে গাজন উৎসব বাবার নিজ মন্দিরেই আয়োজন করা হবে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, বিষ্ণুপুর ডিহর গ্রামে ঐতিহাসিক ষাঁড়েশ্বর মন্দিরটি আর্কিওলজিক্যাল সার্ভে অব ইন্ডিয়ার অধীনে রয়েছে। বাংলা ১৩৪৬ সালে বিষ্ণুপুরের ৩৭তম রাজা পৃথ্বী মল্ল ডিহর গ্রামে ল্যাটেরাইট পাথর দিয়ে ষাঁড়েশ্বর মন্দির তৈরি করেন। লাগোয়া একটি কানা নদীর জলের তোড়ে মন্দিরের গোড়ার অংশ ক্ষয়ে যায়। তাতে মন্দিরে ফাটল সৃষ্টি হয়। পরবর্তীকালে ভুমিকম্পের জেরে সেই ফাটল বৃদ্ধি পায়। তারপর থেকেই মন্দির সংস্কারের দাবি জোরালো হয়। ২০২০সালে আর্কিওলজিক্যাল সার্ভে অব ইন্ডিয়া কর্তৃপক্ষ তাতে সংস্কারের কাজে হাত দেয়। ওড়িশা থেকে কারিগর আনা হয়। কিন্তু, পরবর্তীতে কোনও অজানা কারণে তা থমকে যায়। ২০২১সালে পরবর্তী পর্যায়ে পুনরায় কাজ শুরু হয়। পুরনো পাথর খুলে তা পালিস করে নতুন করে লাগানো হয়।  চলতি বছরে সংস্কার কাজ সম্পূর্ণ হয়েছে। এরপরেই বাবা ষাঁড়েশ্বরকে নিজ মন্দিরে পুনরায় প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এতে ভক্তদের মনে খুশির হাওয়া বইছে।

সম্পর্কিত সংবাদ