নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: জোর করে জমি দখলের মামলায় ইডি হেপাজতে থাকা কলকাতা পুলিশের ডিসি পদমর্যাদার প্রাক্তন অফিসার শান্তনু সিনহা বিশ্বাসের স্নেহধন্য থানার ওসিরা প্রতি পুজোয় বা বিভিন্ন অনুষ্ঠানে ‘স্যার’কে ভালোবেসে সোনার সামগ্রী উপহার দিতেন। এর বাইরে দামি দামি মোবাইল, বিদেশি ইলেকট্রনিক সামগ্রীও তাঁর ফ্ল্যাটে পৌঁছে দিতেন এই সমস্ত ওসিরা। তদন্তে নেমে এই তথ্য হাতে আসছে ইডি’র। কারা কারা এই ‘উপহার’ দিয়েছেন, তাঁদের নামও পেয়েছে এজেন্সি। ঘটনাচক্রে এহেন অফিসাররা এখনও বিভিন্ন থানায় বহাল তবিয়তে রয়েছেন। এর সঙ্গে ক্যামাক স্ট্রিটের সুপারিশে জেলা ও কলকাতা পুলিশে ওসি বা আইসি হয়েছিলেন এবং এর জন্য কত টাকা খরচ করেছিলেন, তা নিয়ে আলাদা করে খোঁজখবর শুরু করেছেন কেন্দ্রীয় গোয়েন্দারা।
কলকাতা পুলিশের ডিসি পদমর্যাদার প্রাক্তন অফিসার যে ওসিদের বদলি নিয়ন্ত্রণ করতেন, তা ইডি আধিকারিকরা জেনে গিয়েছেন। রিয়েল এস্টেট ব্যবসায়ী জয় কামদারও শান্তনুবাবুকে ধরে অনেক ওসি পোস্টিং করিয়েছেন। এজেন্সি জানতে পারছে, প্রতিদিন সকাল ও সন্ধ্যায় ওসি -এসিদের লম্বা লাইন পড়ত তাঁর বাড়ির সামনে। তদন্তকারীরা জেনেছেন, বেশ কয়েকজন ওসি উপহার হিসেবে সোনার বিস্কুটও পর্যন্ত দিয়েছেন শান্তনুবাবুকে। যার এক একটির দাম ছিল কুড়ি থেকে পঁচিশ লক্ষ টাকা। অনেকে আবার সোনার অলংকার গিফট দিয়েছেন। এছাড়া বিভিন্ন সময়ে তাঁকে বিদেশ থেকে আমদানি করা ইলেকট্রনিক সামগ্রী উপহার দিয়ে গিয়েছেন। উপহারের অর্থ এহেন ওসি’রা কোথা থেকে পেয়েছিলেন, তার খোঁজ শুরু করেছে ইডি। শান্তনুবাবুর আইনজীবীরা জানিয়েছেন, এরকম কোনো উপহার তাঁদের মক্কেল নেননি। বদনাম করার চেষ্টা চলছে।
একইসঙ্গে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের কর্তারা জেনেছেন, তৃণমূল আমলে রাজ্য ও কলকাতা পুলিশে আইপিএস এবং ওসি-আইসিদের বদলির ক্ষেত্রে শেষ কথা ছিল ক্যামাক স্ট্রিট। এখান থেকেই লিস্ট তৈরি করে নবান্নে পাঠানো হতো কারা কোন জেলায় এসপি হবেন। এমনকী রাজ্য ও কলকাতা পুলিশের অন্য বড় পদে কোন আইপিএস থাকবেন, তাও ক্যামাক স্ট্রিটের নির্দেশে ঠিক হতো বলে জেনেছেন তাঁরা। এরজন্য বিপুল পরিমাণ নগদ দিতে হতো অফিসারদের। কারা এভাবে পদ পেয়েছিলেন, তাঁদের নিয়ে আলাদা খোঁজ শুরু করেছেন কেন্দ্রীয় গোয়েন্দারা।