ব্রতীন দাস, মালদহ: রাজ্য সরকারের পুজোর ছুটি পড়ছে ১৫ অক্টোবর। আর ওইদিন, অর্থাৎ পঞ্চমীতেই পুজোর মাসের অগ্রিম বেতনের সঙ্গে বর্ধিতহারে ২০ শতাংশ ডিএ পাবেন রাজ্য সরকারের কয়েক লক্ষ কর্মী-আধিকারিক। বৃহস্পতিবার মালদহের মানিকচকে রাজ্যের এই সিদ্ধান্তে সিলমোহর দিয়েছেন স্বয়ং মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। তিনি জানিয়েছেন, ১৬ অক্টোবরের আগেই ২০ শতাংশ বাড়তি ডিএ সহ রাজ্য সরকারি কর্মীদের আগাম বেতন হয়ে যাবে। তাঁর এই ঘোষণার পরই পুর-নগরোন্নয়ন সহ একাধিক দপ্তর এবিষয়ে বিজ্ঞপ্তি জারি করেছে। তাতে স্পষ্ট জানিয়ে দেওয়া হয়েছে, অগ্রিম বেতন দেওয়া হবে ১৫ অক্টোবর। মিলবে ২০ শতাংশ বাড়তি মহার্ঘ ভাতাও।
বর্তমানে কেন্দ্রের সঙ্গে রাজ্যের সরকারি কর্মীদের ডিএ’র ফারাক প্রায় ৪২ শতাংশ। ক্ষমতায় এসেই এই ফারাক কমানোর উদ্যোগ নেয় শুভেন্দু অধিকারীর সরকার। তাঁর সরকারের প্রথম বাজেটেই ২০ শতাংশ মহার্ঘ ভাতা বাড়ানোর ঘোষণা করা হয়। এবার পুজোর উপহার হিসাবে রাজ্যের কর্মচারীদের এই ভাতা বাড়াতে চলেছে রাজ্য। এবিষয়ে মুখ্যমন্ত্রী আগেই জানিয়েছিলেন, ‘আপনাদের (রাজ্য সরকারি কর্মচারী) সঙ্গে কেন্দ্রীয় সরকারের কর্মীদের ডিএ’র ফারাক ৪২ শতাংশ। আমরা পুজোর আগেই অ্যাডভান্স বেতন দেব, ২০ শতাংশ ডিএ অ্যাডিশনাল করেই দেব।’ তাঁর এই ঘোষণা কর্মী-আধিকারিকদের মধ্যে বাকি ২২ শতাংশ ফারাক মিটে যাওয়ার আশা জাগিয়েছে। ইতিমধ্যে রাজ্যের তরফে সপ্তম বেতন কমিশন গঠন করা হয়েছে। কর্মীদের আশা, ডিএ’র এই ফারাক মিটিয়ে জানুয়ারি থেকে সপ্তম বেতন কমিশনের সুপারিশ কার্যকর করবে রাজ্য।
এছাড়াও রাজ্য সরকারের অফিসে দীর্ঘদিন পড়ে থাকা শূন্যপদ পূরণের উদ্যোগ নিয়ে রাজ্যের ভূমিকার কথাও তুলে ধরেন মুখ্যমন্ত্রী। জানান, ‘আমরা যা বলেছি, সেটাই হবে। ওবিসি জট কাটিয়ে নিয়োগ শুরু হয়ে গিয়েছে। ইতিমধ্যে পুলিশে ১২ হাজার নিয়োগ হয়েছে। আগামী ১২ অক্টোবর কলকাতার নেতাজি ইনডোর স্টেডিয়ামে তাঁদের হাতে নিয়োগপত্র ও ইউনিফর্ম তুলে দেওয়া হবে।’ শুভেন্দুর আশ্বাস, ‘আমাদের কাছে চাইতে হবে না। এক বছরের মধ্যে আমরা এক লক্ষ চাকরি দেবই।’ একই সঙ্গে এদিন মালদহের মথুরাপুরের সরকারি সভা থেকে তাঁর দাবি, এমন কোনো ক্ষেত্র নেই, যেখানে বর্তমান রাজ্য সরকার গত পাঁচ মাসে কিছু করেনি। কর্মীদের আর্থিক সুরক্ষার প্রেক্ষাপটে আশাকর্মী, আইসিডিএস কর্মী, প্রাণিমিত্র, ভিলেজ রিসোর্স পার্সনস, সিভিল ডিফেন্স কর্মী, প্যারাটিচার, বনদপ্তরের অস্থায়ী কর্মীদের বেতন এবং কাজের সুযোগ বৃদ্ধি প্রসঙ্গে তাঁর সরকারের ইতিমধ্যে নেওয়া প্রতিটি পদক্ষেপের কথা তুলে ধরেন মুখ্যমন্ত্রী।