নিজস্ব প্রতিনিধি, বহরমপুর: পাম্পের তেলের থেকে বেশি দামে বিক্রি হয় ভেজাল পেট্রল। মুর্শিদাবাদ জেলার যে সমস্ত এলাকায় পাম্পের সংখ্যা কম সেই সব গ্রামের মুদির দোকান থেকে চায়ের দোকান, সর্বত্রই বোতলে ভরে পেট্রল বিক্রি চলছে। তাও আবার বেশি দামে। পাম্পে যখন এক লিটার তেলের দাম নেওয়া হয় ১০৬ টাকা। তখন ওইসব দোকানে এক লিটারের বোতলে ভরে তেল বিক্রি হচ্ছে ১২০ টাকা দামে। সব সময়ই লিটারে ১২-১৪ টাকা অতিরিক্ত নেওয়া হয়। দাম বেশি দিয়েও না জেনেই ভেজাল পেট্রল কিনছেন বাইক আরোহীরা।
ভোজল পেট্রল আসলে কী? কম দামে কেরোসিন কিনে তাতে বিশেষ কেমিক্যাল কয়েক ফোঁটা মিশিয়ে দিলেই সেটা হয়ে যাচ্ছে পেট্রল। স্রেফ রঙের বদল। নীলরঙের কেরোসিন হয়ে যায় সোনালি পেট্রল। সেটাই বোতলে ভরে দিনের পর দিন ধরে বিক্রি চলছে গ্রামগঞ্জে। পাশাপশি পুর শহর ও শহরতলির বিভিন্ন দোকানে মিলছে এই নকল পেট্রল। কয়েকদিন আগে সূতিতে ১২ নম্বর জাতীয় সড়কের পাশে সাজুরমোড় এলাকায় হানা দিয়ে পুলিস এই ভেজাল তেলের পর্দা ফাঁস করে। রীতিমতো ‘ইন্ডাস্ট্রি’ তৈরি করে সেখানে বানানো হচ্ছিল ভেজাল পেট্রল। দু’টি জায়গায় পুলিস হানা দিয়ে একসঙ্গে সাতজনকে গ্রেপ্তার করে। পুলিস জানতে পেরেছে, গোটা জেলায় ছড়িয়ে পড়ে ভেজাল তেল। হেফাজতে নিয়ে তাদেরকে লাগাতার জেরা করে পুলিস।
জেরায় ধৃতরা জানিয়েছে, এক-একটি ৫০০ লিটারের তেলের ড্রামে এই নকল পেট্রল ভরে গ্রামগঞ্জে পাঠিয়ে দেওয়া হয়। সেখান থেকে ২০ লিটারের ব্যারেলে ছোট ছোট বিভিন্ন দোকানে পৌঁছে যেত পেট্রল। তারপর তা বোতলে ভরে বাইক আরোহীদের কাছে বিক্রি করা হতো। এভাবেই একটা নির্দিষ্ট চেন বানিয়ে ফেলছিল তেল মাফিয়ারা। গোটা জেলাতেই তা পৌঁছে যেত। কখনও কেরোসিনের ব্যারেল করে, আবার কখনও বৈধ তেল কোম্পানির লোগো আঁকা বড় বড় ড্রামে করে তেল নিয়ে যাওয়া হতো।
পুলিস সূত্রে জানা গিয়েছে, বেশকিছু রাজনৈতিক দলের নেতারা এই কারবারে মদত দিত। তাদের ছত্রচ্ছায়ায় গোটা জেলাতেই ছড়িয়ে পড়তো এই তেল। রেশনে উপভোক্তারা যে কেরোসিন পান, তা কম দামে কিনে এনে ওই কেমিক্যাল মিশিয়ে পেট্রল বানিয়ে নেওয়া হয়। এভাবেই লিটার পিছু ভেজাল পেট্রোল তৈরি করে ব্যাপক মুনাফা করত কারবারিরা। লিটার পিছু প্রায় ৩০-৪০ টাকা লভ্যাংশ ঘরে তুলত তারা। যার ফলে দোকানিরাও কম দামে তেল কিনে সাধারণ মানুষের কাছে পেট্রল পাম্পের থেকেও বেশি দামে বিক্রি করে মোটা টাকা উপার্জন করত।