গোয়ার মতো ঝাড়গ্রামেও কাজু থেকে মদ তৈরির ভাবনা জেলা প্রশাসনের
  • ২৯ অক্টোবর, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, ঝাড়গ্ৰাম: গোয়ার কাজু ফেনির মতো এবার ঝাড়গ্রামে তৈরি হতে পারে ‘ক্যাশিউ ওয়াইন’। প্রশাসনিক স্তরে এ নিয়ে ভাবনাচিন্তা চলছে। এবছর পুজোর পাঁচদিনে ঝাড়গ্রামে ৬ কোটি টাকার মদ বিক্রি হয়েছে যা রেকর্ড। এই রেকর্ড পরিমাণ মদ বিক্রি ও আরও একটি বিষয় আবগারি দপ্তরকে ক্যাশিউ ওয়াইন তৈরির বিষয়ে উৎসাহিত করেছে। দ্বিতীয় সেই বিষয়টি হল, জঙ্গলমহলে কাজুর বিস্তীর্ণ বাগান রয়েছে। জেলায় কাজু প্রক্রিয়াকরণ করে জ্যাম, জেলি, জ্যুস প্রভৃতি খাদ্যপণ্য উৎপাদনের সুবন্দোবস্ত না থাকায় বীজ বাদে বহু কাজু ফল বা আপেল স্রেফ নষ্ট হয়ে যায়। কাজু নষ্ট না করে তা থেকে মদ তৈরি করা গেলে পর্যটকরা যেমন আকর্ষিত হবেন, তেমনি জেলায় কর্মসংস্থান বাড়বে। জেলার অর্থনৈতিক হাল ফিরবে। ঝাড়গ্রামের বিধায়ক পুজোর আগেই জেলায় কাজু থেকে মদ তৈরি করার বিষয়ে বলেছিলেন। জেলার পর্যটন ব্যবসায়ীরাও মহুল ও কাজু থেকে মদ তৈরির কারখানা গড়ে তোলার দাবি জানিয়েছেন একাধিকবার।

Advertisement

জেলা আবগারি দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, এবছর পুজোর সময় মদ বিক্রি গত দু’ বছরের রেকর্ড ভেঙে দিয়েছে। ষষ্ঠী থেকে দশমী পর্যন্ত মোট ৬ কোটি ১৫ লক্ষ ৩৭ হাজার ৮৫৫ টাকার মদ বিক্রি হয়েছে। বিলিতি মদ বিক্রি হয়েছে ৪৯ হাজার ১৬৫ লিটার, দেশি মদ ১৪ হাজার ১৩৫ লিটার ও বিয়ার ২৬ হাজার ৮৬২ লিটার। ২০২৪ সালে পুজোয় যা ছিল ৪ কোটি ১৮ লক্ষ টাকার। ২০২৫ সালে বিক্রি বেড়ে দাঁড়ায় সাড়ে চার কোটি টাকায়। যা থেকে একটা কথা স্পষ্ট যে, পুজো ও শীতের মরশুমে পর্যটক বাড়ার সঙ্গে মদের চাহিদাও বাড়ছে। কিন্তু জেলায় ভালো মানের মদ না মেলায় একশ্রেণির পর্যটক অখুশি। পর্যটকদের সেই অংশটি ক্যাশিউ ওয়াইন পেলে খুশি হতে পারেন। 
ঝাড়গ্ৰামের নয়াগ্রাম, গোপীবল্লভপুর, জামবনি সহ জেলার নানা প্রান্তে প্রায় ৩ হাজার ৪১৫ হেক্টর জমিতে কাজুবাগান রয়েছে। জেলায় বছরে প্রায় ৩০ হাজার মেট্রিক টন কাজুর ফল বা কাজু আপেল উৎপাদিত হয়। জেলায় উপযুক্ত প্রক্রিয়াকরণ ও বাজার না থাকায় কাজুর বড় অংশ নষ্ট হয়ে যায়। ঝাড়গ্রামের বিধায়ক লক্ষ্মীকান্ত সাউ সাংবাদিকদের বলেছেন, এই অঞ্চলে প্রচুর কাজুবাগান রয়েছে। কিন্তু কাজুর বীজ ছাড়া পুরো ফলটাই নষ্ট হয়ে যায়। সেই অপচয় রুখতে এখানে গোয়ার মতো ক্যাশিউ ওয়াইন তৈরির কারখানা করা যায় কি না, তা ভাবা হচ্ছে। এই পণ্য রপ্তানিরও সুযোগ রয়েছে। স্থানীয় স্তরে কর্মসংস্থানের নতুন পথ খোলার সম্ভবনাও রয়েছে। ঝাড়গ্রাম জেলা হোটেল ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি মধুসূদন কর্মকার বলেন, ঝাড়গ্রাম দক্ষিণবঙ্গের অন্যতম পর্যটন স্থল। দেশ ও বিদেশের পর্যটকরা এখানে বেড়াতে আসছেন। পর্যটক টানতে স্থানীয় কাজু ওয়াইন বড় হাতিয়ার হয়ে উঠতে পারে। প্রশাসনিক বৈঠকে জেলায় ওয়াইন তৈরির কারখানা গড়ে তোলার প্রসঙ্গ উত্থাপিত হয়েছে। পর্যটনের প্রসারের সঙ্গে বিষয়টি জড়িয়ে আছে। কাজুবাগানের মালিক শ্যামসুন্দর মাহাতো বলেন, কাজুর বীজ তুলে নেওয়ার পরে ফল নষ্ট হয় যায়। হাতি ও গবাদি পশু সেই ফল খেয়ে যায়। কাজু ওয়াইন তৈরির কারখানা হলে ফল নষ্ট হবে না। কাজুবাগান মালিকরা আর্থিকভাবে লাভবান হবেন। স্থানীয় যুবকরাও কাজ পাবেন।