সংবাদদাতা, ঘাটাল: বর্ষার আগেই ঘাটালে আগাম প্রস্তুতি, আপৎকালীন পরিস্থিতি মোকাবিলায় জোর প্রশাসনের। সামনেই বর্ষা। আর বর্ষা মানেই ঘাটাল মহকুমার বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত হয়ে যায়। বন্যার সময় আপদকালীন পরিস্থিতি মোকাবিলা করতে প্রশাসনের আগাম কী কী প্রস্তুতি ও সতর্কতার প্রয়োজন, তা নিয়ে মঙ্গলবার ঘাটাল থানার অন্তর্গত বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখলেন ঘাটালের বিধায়ক শীতল কপাট, পুলিশ সুপার পাপিয়া সুলতানা সহ বিভিন্ন প্রশাসনিক আধিকারিকরা। নদীর জলস্তর বাড়লে কোন কোন এলাকাগুলি সবথেকে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং যাতায়াতের ক্ষেত্রে কী ধরনের প্রতিবন্ধকতা তৈরি হয়, এদিন মূলত সেই বিষয়গুলিই সরেজমিনে খতিয়ে দেখেন তাঁরা।
নির্বাচনের কিছু দিন আগে এই জেলায় পুলিশ সুপার হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন পাপিয়া সুলতানা। ফলে ঘাটালের ভয়াবহ বন্যা পরিস্থিতির চাক্ষুষ অভিজ্ঞতা তাঁর কাছে একেবারে নতুন। তবে আসন্ন বর্ষায় বানভাসি সাধারণ মানুষের যাতে ন্যূনতম ভোগান্তি না হয়, সেই বিষয়টি নিশ্চিত করতে এখন থেকেই তৎপর প্রশাসন। এদিন ঘাটাল থানার বন্যার আশঙ্কা রয়েছে যে সমস্ত জায়গাগুলি সেই সমস্ত এলাকা পরিদর্শনের পর পুলিশ সুপার বলেন, আগামী এক মাসের মধ্যে ছোট ছোট পদক্ষেপের মাধ্যমে কীভাবে দুর্গত মানুষদের আরও উন্নত পরিষেবা দেওয়া যায়, সেই বিষয়ে বিধায়ক, বিডিও এবং অন্যান্য আধিকারিকদের সঙ্গে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। প্রশাসনের মূল লক্ষ্য হল, বন্যায় যে সমস্ত এলাকা সম্পূর্ণ যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে, সেখানে বিকল্প ব্যবস্থার মাধ্যমে জরুরি পরিষেবা পৌঁছে দেওয়া। বিদ্যুৎ পরিষেবা ব্যাহত হলে দুর্গত এলাকাগুলিতে জেনারেটরের সাহায্যে সাবমার্সিবল পাম্প চালিয়ে পানীয় জলের নিরবচ্ছিন্ন জোগান নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, আপৎকালীন যোগাযোগের জন্য বিশেষ ফোন লাইন এবং পর্যাপ্ত আলোর ব্যবস্থাও রাখা হচ্ছে।
পুলিশ সুপারের কথায়, বন্যার সময় সবথেকে বেশি সমস্যায় পড়েন প্রসূতিরা। তাঁরা যাতে সঠিক সময়ে এবং নিরাপদে হাসপাতালে পৌঁছতে পারেন, তার জন্য প্রশাসনের তরফে বিশেষ পরিকল্পনা গ্রহণ করা হচ্ছে। এছাড়াও, আগে থেকেই পর্যাপ্ত পরিমাণে শুকনো খাবার, ত্রিপল এবং জীবনদায়ী ওষুধ মজুত রাখার কাজ শুরু হয়েছে। বন্যার জলে পড়ে গিয়ে দুর্ঘটনা এড়াতে সচেতনতা বৃদ্ধির পাশাপাশি, সাপে কামড়ানো রোগীদের চিকিৎসার জন্য নির্দিষ্ট স্বাস্থ্যকেন্দ্রগুলিতে মজুত রাখা হচ্ছে প্রয়োজনীয় ওষুধ। যাতায়াতের সুবিধার জন্য পর্যাপ্ত সরকারি নৌকোর ব্যবস্থাও করা হচ্ছে।
শীতল কপাট বলেন, পুলিশ সুপারের সঙ্গে এদিন দীর্ঘক্ষণ বৈঠক হয়েছে। রাজ্য সরকারের নির্দেশে দলমত নির্বিশেষে দুর্গত মানুষের কাছে দ্রুত পরিষেবা পৌঁছে দেওয়ার পাশাপাশি এলাকার ফ্লাড সেন্টারগুলি মেরামতের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ঘাটাল মাস্টার প্ল্যান প্রসঙ্গে তিনি জানান, খুব শীঘ্রই ডিপিআর প্রকাশ করে এই প্রকল্পের কাজ শুরু করা হবে।