Bartaman Logo
৯ জুন, ২০২৬

জানাতে হবে ২০১৪’র আগের ঠিকানাও! সেন্সাসের পরই এনআরসি?

প্রথমে দেশে মোট গৃহসংখ্যার তালিকা তৈরি (হাউস লিস্টিং)। তারপর ন্যাশনাল পপুলেশন রেজিস্টার (এনপিআর)। এবং তারপর  মূল জনগণনা।

জানাতে হবে ২০১৪’র আগের ঠিকানাও! সেন্সাসের পরই এনআরসি?
  • ১২ জুন, ২০২৫ ১৬:০৬
Prefer us on Google

সমৃদ্ধ দত্ত, নয়াদিল্লি: প্রথমে দেশে মোট গৃহসংখ্যার তালিকা তৈরি (হাউস লিস্টিং)। তারপর ন্যাশনাল পপুলেশন রেজিস্টার (এনপিআর)। এবং তারপর  মূল জনগণনা। ২০১০ সাল থেকে সেন্সাসের এই ফরম্যাটই অনুসরণ করা হচ্ছে। ২০২৬ সালেও সেটাই হবে। কিন্তু এই দফায় গোটা প্রক্রিয়ায় নতুন একটা প্রশ্ন মাথাচাড়া দিয়েছে—চতুর্থ ধাপ কি এনআরসি? 

Advertisement

এপ্রিল মাসে একদিকে শুরু হবে গৃহসংখ্যার তালিকাভুক্তি। আর তারই পাশাপাশি চলবে এনপিআর তৈরির কাজ। ওটাই পাখির চোখ মোদি সরকারের। কারণ, ২০১৯ সালে পাশ হওয়া সিএএ পুরোদস্তুর নিখুঁতভাবে কার্যকর করতে বিশেষ ভূমিকা নেবে ন্যাশনাল পপুলেশন রেজিস্টার। কীভাবে? এনপিআর তৈরির সময় অন্যতম প্রধান প্রশ্নই থাকবে, ‘এই ঠিকানায় কতদিন ধরে থাকছেন?’ যদি তা এক দশকের উপর হয়, তাহলে বাড়তি প্রশ্নের সম্ভাবনা কম। না হলে, স্বাভাবিকভাবেই জানতে চাওয়া হবে বিগত বাসস্থানের ঠিকানা। বিশেষত পশ্চিমবঙ্গে এনপিআর থেকে স্পষ্ট জানার চেষ্টা করা হবে—২০১৪ সালের আগে কোথায় ছিলেন? অর্থাৎ, ওই বছরের পর বাংলাদেশ থেকে কারা এসেছে, সেটা জানাই মূল লক্ষ্য‌ কেন্দ্রের। সিটিজেনশিপ অ্যামেন্ডমেন্ট আইন অনুযায়ী, ২০১৪ সালের ৩১ ডিসেম্বর তারিখের পর অন্য দেশ থেকে কেউ যদি ভারতে আসে, তাহলে সে নাগরিকত্ব পাবে না। কিন্তু যেহেতু কোনও সেন্সাস এবং সেই সংক্রান্ত পরিসংখ্যান সরকারের কাছে নেই, তাই এই তথ্য প্রদান এখনও পর্যন্ত ঐচ্ছিক পর্যায়েই রয়ে গিয়েছে। এবার আর থাকবে না। এনপিআরে স্পষ্ট হয়ে যাবে, প্রকৃত ভারতবাসী কারা। সেই পরিবারের সংখ্যাই বা কত। যদিও আগামী ১৬ জুন সেন্সাস সংক্রান্ত বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করার কথা। সেখানেই স্পষ্ট জানা যাবে, এনপিআর সম্পর্কে সরকারের পরিকল্পনা ঠিক কী। 
হাউস লিস্টিং এবং এনপিআর প্রক্রিয়া শুরু হবে ৯ মাস পর থেকেই। তাই সেন্সাস দপ্তরে এই মুহূর্তে তৎপরতা তুঙ্গে। আর সেইসঙ্গে এনআরসির জল্পনাও। ২০১৯ সালের সিটিজেনশিপ অ্যামেন্ডমেন্ট বিল পাশ হওয়ার পরই এনপিআর নিয়ে তুমুল সংঘাতের পরিবেশ তৈরি হয়েছিল। আগুনের মতো ছড়িয়ে পড়েছিল এনআরসি আতঙ্ক। সেই সময় ১০টি রাজ্য এই দু‌ই প্রক্রিয়ার বিরুদ্ধেই রায় দিয়েছিল। এবারও সেই পরিস্থিতি তৈরি হচ্ছে বলে আশঙ্কা করছে বিরোধীরা। এনপিআরের মাধ্যমে নাগরিকদের ব্যক্তিগত তথ্য সংগ্রহ করাটা ঐচ্ছিক প্রক্রিয়া ঠিকই। অর্থাৎ তথ্যের সপক্ষে কোনও নথিপ্রমাণ পেশ করতে হয় না। কিন্তু এই মুদ্রার অন্য এক পিঠও আছে। তা হল, তথ্য জানালেও পরবর্তীকালে তা যদি মিথ্যা প্রমাণিত হয়, সেটা আইনত অপরাধ হিসেবেই গণ্য করা হয়। প্রশ্ন উঠছে, আইনের এই অংশটিকে এনআরসির প্রথম ধাপ হিসেবে ব্যবহার করা হবে না তো?
২০০৩ সালের রেজিস্ট্রেশন অব সিটিজেনস অ্যান্ড ইস্যু অব ন্যাশনাল আইডেন্টিটি কার্ড বিধি অনুযায়ী এনপিআর তৈরি হয়। যা ১৯৫৫ সালের সিটিজেনশিপ আইনেরই উপধারার অধীনে। এই বিধির মধ্যে স্পষ্টই বলা হয়েছে, ভারত সরকার ইচ্ছা করলে পপুলেশন রেজিস্টার অনুযায়ী সিটিজেনশিপ রেজিস্টার তৈরি করতে পারে। বিশেষ করে সন্দেহভাজন নাগরিক সম্পর্কে নিঃসন্দেহ হওয়ার জন্য ন্যাশনাল রেজিস্টার অব ইন্ডিয়ান সিটিজেন তৈরিতে এনপিআরই প্রধান মাধ্যম হবে। এখনও পর্যন্ত অসম ছাড়া কোনও রাজ্যে এনআরসি ঩নেই। যেহেতু এতদিন ধরে দেশের সেন্সাসই নেই, তাই এনপিআরও নেই। এবার সেন্সাস ও এনপিআর চূড়ান্ত হয়ে গেলে, ভারত সরকার মনে করলে এনআরসি প্রক্রিয়াও শুরু করতে পারে। 

সম্পর্কিত সংবাদ